ভালো কার্বোহাইড্রেট বেশি গ্রহণ করবেন যে কারণে

 

স্টার্চকে খারাপ কার্বোহাইড্রেট হিসেবেই গণ্য করা হয়। কারণ এটি ওজন ও ব্লাড সুগার বৃদ্ধি করে বলে জানেন সবাই। কিন্তু যারা কার্বোহাইড্রেট পছন্দ করেন তারা অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে পারেন প্রতিরোধী স্টার্চ থেকে, যাকে ভালো শর্করা ও বলা হয়।


নিউ ইয়র্ক সিটির এন অয়াই ইউ স্টেইনহারডট কলেজের  পুষ্টি বিজ্ঞানের ক্লিনিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর লিসা স্যাশন বলেন, এটি আপনার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে না,  কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক থাকতে সাহায্য করে এবং আপনার পেট ভরা রাখতে ও তৃপ্ত থাকতে সাহায্য করে।

আপনি হয়তো কার্ব- ফ্রি ডায়েটের কথা শুনেছেন। তাই শর্করা গ্রহণ করলে ওজন কমতে সাহায্য করে, রক্তের চিনির মাত্রা স্থিতিশীল রাখে এবং ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি কমায় শুনলে আপনি বিস্মিত হবেন বৈ কি! কিন্তু এটি সত্যি এবং এর কারণটিও খুবই সাধারণ। অন্য স্টার্চ এর চেয়ে রেজিস্টেন্ট স্টার্চ (যা পাওয়া যায় অল্প আঁচে রান্না করা ওটস, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে) বৃহদান্ত্র এর  উপরের অংশে শক্তিতে পরিণত হয়, যা আপনার ওজন কমতে সাহায্য করে। ইন্ডিয়ানা এর  ওয়েস্ট  লাফায়েট এর পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিজ্ঞানের বিশিষ্ট অধ্যাপক কনি ওয়েভার বলেন, ‘আমাদের শরীরে যে এনজাইম থাকে তা স্টার্চকে ভেঙ্গে চিনিতে পরিণত করে’।

এ ধরনের কার্বোহাইড্রেটগুলো ধীর গতিতে হজম হয় বলে রক্তের চিনির মাত্রা বৃদ্ধি পায় না। গ্লুকোজ কখনো হজম হয়না, এটি চিনিতে পরিণত হওয়ার পরে রক্তস্রোতে প্রবেশ করে। এ  কারণেই রক্তে চিনির আধিক্যের কারণে অলস অনুভব করবেন না।

প্রতিরোধী স্টার্চ যা পাওয়া যায় – শিম, আস্ত শস্য দানা এবং আলু থেকে, তা  কোলন ক্যান্সার ও ইনফ্লামেটরি বাউয়েল ডিজিজ হওয়াকে প্রতিরোধ করে, যদিও এ বিষয়ে আরো অধিক গবেষণার প্রয়োজন আছে। একটি ছোট গবেষণায় গবেষকেরা ২৩ জন মানুষকে ২ টি দলে ভাগ করেন – একটি দলের সদস্যদের প্রতিদিন ০.৬ পাউন্ড করে লাল মাংস খেতে দেয়া হয় ৪ সপ্তাহের জন্য এবং অন্য দলের সদস্যদের একই পরিমাণ মাংস খেতে দেয়া হয় প্রতিরোধী স্টার্চসহ। যারা শুধু লাল মাংস খেয়েছিলেন তাদের রেক্টাল টিস্যুতে মাইক্রো আরএনএ অণু (জেনেটিক উপাদান) এর  বৃদ্ধি দেখা যায়, যা কোলন ক্যান্সারের সাথে সম্পর্কিত। অন্য দলটিতে যাদের প্রতিরোধী স্টার্চ দেয়া হয়েছিলো তাদের মধ্যে এই অণুর কোন রকমের বৃদ্ধি দেখা যায়না। কিছু গবেষক মনে করেন যে, আমাদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে পরিবর্তিত করার শক্তিশালী ক্ষমতা আছে প্রতিরোধী স্টার্চ এর যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে।

লাল মাংস বেশি পরিমাণে খাওয়া অন্ত্রের খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে পরিবর্তন ও ইনফ্লামেশন বৃদ্ধির  সাথে সম্পর্কিত যা কোলন ক্যান্সার হওয়ার কারণ। প্রতিরোধী স্টার্চ এ ধরনের প্রভাবকে উল্টিয়ে দিতে পারে কারণ এটি ডায়াটারি ফাইবারের মত কাজ করে। রেজিস্টেন্ট স্টার্চ শর্ট-চেইন ফ্যাটি এসিডের ভালো উৎস যা কোলনকে স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে। এটি সহজে বিপাকযোগ্য।

স্যাশন বলেন, লিগিউম জাতীয় সবজি, অল্প আঁচে সময় নিয়ে রান্না করা ওটস, পাস্তা (খুব বেশি নরম নয়) এবং কাঁচা কলা যা সিদ্ধ করার পর ঠান্ডা করে খাওয়া হয়– এগুলো গ্রহণ করার   মাধ্যমে আপনি প্রতিরোধী স্টার্চ গ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারেন। স্যাশনের মতে,  তাপ এবং ফুটন্ত পানি খাদ্যে স্বাস্থ্যকর রেজিস্টেন্ট স্টার্চ এর পরিমাণ কমায়।  গরম করার পর ঠান্ডা করলে রেজিস্টেন্ট স্টার্চ এর পরিমাণ পুনরায় বৃদ্ধি পায়।

প্রতিদিন আপনি কী পরিমাণ প্রতিরোধী স্টার্চ গ্রহণ করবেন সে বিষয়ে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তাই আপনার খাদ্যতালিকায় একটু বেশি পরিমাণে গ্রহণ করাটা খারাপ ধারণা নয়। স্যাশন বলেন, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করলে আপনি নিজেই ভালো অনুভব করবেন। আপনার খাদ্যতালিকায় মটরশুঁটি যোগ করলেই আপনার ওজন কমবে না কিন্তু অস্বাস্থ্যকর কিছু খাওয়ার পরিবর্তে এটি গ্রহণ করা ভালো।  

স্টার্চকে খারাপ কার্বোহাইড্রেট হিসেবেই গণ্য করা হয়। কারণ এটি ওজন ও ব্লাড সুগার বৃদ্ধি করে বলে জানেন সবাই। কিন্তু যারা কার্বোহাইড্রেট পছন্দ করেন তারা অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে পারেন প্রতিরোধী স্টার্চ থেকে, যাকে ভালো শর্করা ও বলা হয়।