ফ্যাশনে বাহারি বাটিক প্রিন্ট

 

সুন্দরের প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরন্তন। সেকারণেই মানুষ সৌন্দর্যবোধের প্রকাশ ঘটায় রং ও নকশার বিভিন্ন ব্যবহারের মাধ্যমে। রঙিন ও প্রিন্টের কাপড় এর অন্যতম। সুদূর অতীতে যখন কাপড় ছাপানোর যন্ত্র ছিল না, তখন মানুষ হাতেই নানাভাবে কাপড় প্রিন্ট করত। যেমন ব্লক, বাটিক, টাইডাই ইত্যাদি। অনেক আগে থেকেই কাপড় ছাপানোর পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই বাটিক ছাপা ব্যাপকভাবে প্রচলিত এবং সর্বত্রই তা সমাদৃত। বাটিক অতি প্রাচীন একটি শিল্প। এশিল্প প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো। গ্রীক সভ্যতাতেও বাটিক ছাপার কাপড় ব্যবহার হতো বলে নিদর্শন পাওয়া যায়। কেউ কেউ এই মতও প্রদান করেন প্রাচীন মিসরের অধিবাসীরাই এই শিল্পের পথিকৃৎ। এরপর বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে বাটিক শিল্প বিস্তার লাভ করেছে। তবে কাজের পদ্ধতিতে একটি দেশের থেকে অপর একটি দেশের কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।

 
বাটিকের রং হিসেবে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক দু’ধরনের রং-ই ব্যবহার করা হয়। নীল, তুঁতে, গাঁদাফুল, শিউলি ফুল, পেঁয়াজের খোসা, হরতকি, খয়ের ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপাদান থেকে বিশেষ উপায়ে রং তৈরি করে তা দিয়ে বাটিকের কাজ করা হয়। আগে শুধু সুতি কাপড়েই বাটিক করা হতো, কিন্তু এখন সুতির পাশাপাশি সিল্ক, গরদ, তসর, মসলিন, অ্যান্ডিকটন এমনকি খাদি কাপড়েও বাটিক প্রিন্ট করা হয়। বর্তমানে বাটিক প্রিন্টের শাড়ি খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে হাল ফ্যাশনে বাটিক প্রিন্টের উপস্থিতি বেশ চোখে পড়ার মতো। বাটিক প্রিন্টের শাড়ি, অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ফলে তা আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল পোশাক হিসেবে সকলের মনে সহজেই স্থান করে নিয়েছে। বাটিকের শাড়ি যেমন পরতে পারেন প্রতিদিনের প্রয়োজনে, তেমনি পরতে পারেন উৎসব-অনুষ্ঠানেও! বিশেষ করে বাটিক প্রিন্টের সিল্কের শাড়ি আপনাকে করে তুলবে অতুলনীয়.

 

কোথায় পাবেন:


ক্রাফট সেন্টারগুলোতে বাটিকের গজ কাপড় পাবেন। পাবেন ফ্যাশন হাউজগুলোতেও। চরকা, সোর্স, গৃহসুখন, আরণ্যক, প্রবর্তনাতে রয়েছে বাটিকের গজ কাপড় ও পোশাকের বিপুল সমাহার। এছাড়া গাউসিয়া, চাঁদনীচক, নিউমার্কেটসহ শহরের প্রায় সব মার্কেটেই বাটিক প্রিন্টের গজ কাপড় পাওয়া যায় যা দিয়ে শাড়ি তৈরি করে নেয়া যায়।

বাটিক ব্যবহারের নিয়মাবলী:

বাটিক শাড়িতে রঙ টেকসই করার জন্য পর্যাপ্ত কালার ফিক্সার ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ভালো মানের কাপড় ব্যবহার করা হয়। তথাপি বাটিক কাপড়ে রঙ দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক।
১) কাপড় ২/৩ দিন রোদে শুকাতে হবে।
২) তারপর কাপড়ের উল্টো পিঠে আয়রন করতে হবে।
৩) কাপড় প্রথমবার ধোয়ার সময় শ্যাম্পু দিয়ে ধুতে হবে। পরবর্তীতে প্রতিবার শ্যাম্পু দিয়ে ধুতে পারলে ভাল। কাপড় ৫/৬ মিনিটের বেশি পানিতে ভিজিয়ে রাখা যাবে না।
৪) বাটিক কাপড়ের ক্ষেত্রে প্রথমবার ধোয়ার সময় শ্যাম্পু ওয়াশের পূর্বে ২/৩ মিনিট লবণ পানিতে ভিজিয়ে নিতে হবে।
উপরের নিয়মগুলো মেনে চললে বাটিকের কাপড় দীর্ঘদিন ব্যবহার করা
যাবে।

সুন্দরের প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরন্তন। সেকারণেই মানুষ সৌন্দর্যবোধের প্রকাশ ঘটায় রং ও নকশার বিভিন্ন ব্যবহারের মাধ্যমে। রঙিন ও প্রিন্টের কাপড় এর অন্যতম। সুদূর অতীতে যখন কাপড় ছাপানোর যন্ত্র ছিল না, তখন মানুষ হাতেই নানাভাবে কাপড় প্রিন্ট করত। যেমন ব্লক, বাটিক, টাইডাই ইত্যাদি। অনেক আগে থেকেই কাপড় ছাপানোর পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে।