প্রতিদিন আখরোট খাবেন যে কারণে

For-that-reason-every-day-to-eat-walnuts

আখরোটকে উচ্চমাত্রার ক্যালোরি ও চর্বি সমৃদ্ধ বলে মনে করা হয় এবং তাই একে এড়িয়ে যান অনেকেই। যদিও আখরোট প্রচুর পুষ্টি সমৃদ্ধ এবং বিপাক থেকে শুরু করে হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ও উপকারী। এছাড়া আখরোটের সৌন্দর্য উপকারিতাকে উপেক্ষা করার উপায় নেই। আপনার দৈনিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় আখরোট যুক্ত করার কারণগুলোর বিষয়েই জানবো আজ।


১। ওজন কমতে সাহায্য করে

বিভিন্ন গবেষণায় পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে, নিয়মিত আখরোট খেলে ওজন বৃদ্ধি পায় না। ১ আউন্স আখরোটে ২.৫ গ্রাম ওমেগা ৩ ফ্যাট, ৪ গ্রাম প্রোটিন এবং ২ গ্রাম ফাইবার থাকে যা তৃপ্তি দিতে সাহায্য করে। যে কোন ওজন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনায় তৃপ্তি অনেক বড় একটি বিষয়। তাই আপনি যদি ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকেন তাহলে আখরোট নিঃসন্দেহে সঠিক একটি খাদ্য।

২। ঘুম হতে সাহায্য করে

আখরোটে মেলাটোনিন নামক যৌগ থাকে। মেলাটোনিন শরীরে সংশ্লেষিত হয়। আখরোট খেলে শরীরে মেলাটোনিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় বলে ঘুম ভালো হয়। এ কারণেই ঘুমের উন্নতিতে সাহায্য করে আখরোট।

৩। চুলের জন্য ভালো

আখরোট চুলের জন্য উপকারী। কারণ এতে বায়োটিন (ভিটামিন বি ৭) থাকে যা চুলকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে, চুল পড়া কমে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৪। হৃদরোগ প্রতিরোধ করে

সকল উদ্ভিজ খাদ্য এবং বাদামের মধ্যে আখরোটে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ১০০ গ্রাম আখরোটে ২০ মিলিমোল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। আখরোট ফ্রি র‍্যাডিকেলকে ধ্বংস করতে পারে বলে হৃদরোগ হতে বাঁধা দেয়। আখরোটে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে যা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এ কারণেই আখরোট হৃদপিন্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য একটি চমৎকার স্ন্যাক্স। 

৫। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে

সকল ধরনের বাদামই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর সাথে সম্পর্কিত। আখরোট ও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। একটি গবেষণা মতে, যে নারীরা সপ্তাহে ২ দিন ২৮ গ্রাম আখরোট খেয়েছেন তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ২৪% কমে। গবেষণা প্রতিবেদনটি নিউট্রিশন নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। যদিও গবেষণাটি শুধু নারীদের উপর করা হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এ ধরনের উপকারিতা ছেলেদের ক্ষেত্রেও একই রকম।

৬। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে

আখরোট ভিটামিন বি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ যা ত্বককে ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং বলিরেখা ও বয়সের ছাপ পড়া প্রতিরোধ করে। আপনি যদি মধ্যবয়সেও দীপ্তিময় ত্বক চান তাহলে আখরোট খান।

৭। মস্তিস্কের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে

আখরোটে  বেশ কয়েকটি নিউরোপ্রোটেকটিভ যৌগ যেমন- ভিটামিন ই, ফোলেট, মেলাটোনিন, ওমেগা ৩ ফ্যাট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে যে আখরোট খাওয়া মস্তিস্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে আখরোটের মত উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খাদ্য সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে সৃষ্ট দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে। মোটর ফাংশন এবং জ্ঞানের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

এছাড়াও আখরোট শুক্রাণুর মানের উন্নতিতে সাহায্য করে, অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, দীর্ঘদিন বাঁচতে সাহায্য করে, গর্ভবতী নারীদের জন্য উপকারী, স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং স্ট্রেসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। 

আখরোটকে উচ্চমাত্রার ক্যালোরি ও চর্বি সমৃদ্ধ বলে মনে করা হয় এবং তাই একে এড়িয়ে যান অনেকেই। যদিও আখরোট প্রচুর পুষ্টি সমৃদ্ধ এবং বিপাক থেকে শুরু করে হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ও উপকারী। এছাড়া আখরোটের সৌন্দর্য উপকারিতাকে উপেক্ষা করার উপায় নেই। আপনার দৈনিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় আখরোট যুক্ত করার কারণগুলোর বিষয়েই জানবো আজ।