যেভাবে চিনবেন প্রিয়জন কে

 How-to-Remember-Loved


প্রথমে চোখের দেখা, তারপর মেলামেশা, দুজন দুজনকে বুঝতে পারা.. এভাবেই বাড়তে থাকে সম্পর্কের গভীরতা। অনেকেই পুরো জীবন একসঙ্গে কাটানোর সংকল্প নিয়ে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যান। অবশ্য আগে থেকে জানা থাকে না প্রিয় মানুষটি সেজন্যে যোগ্য কিনা। প্রিয় মানুষটি জীবনের বাকিটা সময় এমনই থাকবেন নাকি বদলে যাবেন।

প্রিয় মানুষটি সত্যি আপনার প্রতি যত্নবান কিনা তা নিচের কয়েকটি লক্ষণ দেখেই বুঝে নিতে পারেন।

১. প্রতিটি মানুষই জীবনে কোনো না কোনো বিষয়ে ভুল করে থাকেন। প্রিয়জন যদি সেসব ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে না দেখেন, কিংবা আপনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন জেনেও আপনাকে সান্ত্বনা না দিয়ে উল্টো তিরস্কার করে তবে বুঝতে হবে আপনি ভুল মানুষকেই বেছে নিয়েছেন।   

২. আপনার বলা কোনো কথা বিরক্তিকর জেনেও প্রিয় মানুষটি যদি তা মনোযোগ দিয়ে শোনেন তবে বুঝতে হবে তিনি আপনার প্রতি যত্নবান। এবং আপনাকে গুরুত্বের চোখেই সে দেখে। আপনি যতই বিরক্তিকর আচরণ করুন না কেনো সে তা উপভোগ করে। কেননা, আপনাকে সে অত্যন্ত ভালোবাসে। বিরক্তিকর হলেও আপনার সান্নিধ্য তার কাছে আকর্ষনীয়।


৩. প্রিয়জন যদি সত্যি আপনাকে ভালোবেসে থাকে তবে যত রাত করেই বাড়ি ফিরে আসুন না কেন, সে আপনার জন্য অপেক্ষা করবে। কষ্ট হলেও যেহেতু আপনিও কষ্ট করে না খেয়ে আসেন, প্রিয়জনের সেই অনুভূতিটাই কাজ করে বেশি।

৪. প্রিয়জন যদি স্ত্রী হয় তবে আপনাকে ভালোবেসে থাকলে প্রতিরাতে সে নিজ হাতে আপনার জন্য খাবার বানিয়ে রাখবে। আমাদের সমাজে অবশ্য এটাই স্বাভাবিক চিত্র।
৫. আপনার সুখ, দুঃখ, রাগের মতো অনুভূতিগুলো যদি সে আগাম বুঝতে পারে তবে বুঝবেন প্রিয়জনটি সত্যিই আপনাকে ভালোবাসে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আপনাকে সে সব সময় বোঝার চেষ্টা করে বলেই এই অনুভূতিগুলো তার ভেতরে তৈরি হয়ে যায়। প্রতিটি ক্ষণ সে আপনাকে নিয়ে চিন্তা করে বলেই মুখ ফুটে না বললেও সে বুঝতে পারে আপনার মনের কথা।

৬. সত্যিকারের প্রিয়জন আপনার পরামর্শের বিরোধীতা কখনও করবে না। কেননা, আপনার প্রতি তার রয়েছে অগাধ বিশ্বাস। অবশ্য যিনি সব সময় আপনার মঙ্গল চান, তিনি শুধু যে অন্ধের মত আপনাকে অনুসরণ করবেন তাও নয়। আপনার সিদ্ধান্ত ভুল হলে সেটিও জানিয়ে দেবে সে। পাশাপাশি দেবে সুপরামর্শ।


৭. প্রিয়জন যদি সত্যিই ভালোবেসে থাকেন তবে কখনই সে আপনাকে মনমরা হয়ে থাকতে দেবেন না। প্রথমে সে আপনার মন খারাপের কারণ জানতে চাইবেন। এরপর কী করলে আপনার মন ভালো হবে তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন তিনি।

৮. দাম্পত্য জীবনে খুনসুটি অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। কেউ কেউ বলেন, যত প্রেম তত কলহ। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রিয়জন যদি সত্যি আপনাকে ভালোবেসে থাকেন তবে কলহের মাত্রা কখনই সে বাড়াতে চাইবে না। ভুল আপনার হলেও একপর্যায়ে সে চাইবে আপোষ করে নেয়ার।

৯. প্রিয়জন অবশ্যই আপনার পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন। কেননা, তার কাছে যে আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

১০. প্রিয়জন আপনাকে কখনই নিজের ব্যক্তিগত সমস্যায় জড়াতে চাইবেন না। যদিও অপরজন চাইবেন যেভাবেই হোক কারণটি জানার। দু’জনই বলবেন, জীবনের কঠিন মুহুর্তে যদি প্রিয়জন পাশেই না দাঁড়ায় সে যত্নবান নাকি!

প্রথমে চোখের দেখা, তারপর মেলামেশা, দুজন দুজনকে বুঝতে পারা.. এভাবেই বাড়তে থাকে সম্পর্কের গভীরতা। অনেকেই পুরো জীবন একসঙ্গে কাটানোর সংকল্প নিয়ে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যান। অবশ্য আগে থেকে জানা থাকে না প্রিয় মানুষটি সেজন্যে যোগ্য কিনা। প্রিয় মানুষটি জীবনের বাকিটা সময় এমনই থাকবেন নাকি বদলে যাবেন।