এক নজরে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৬ এর স্পেসিফিকেশন ও সুবিধা

Samsung-Galaxy-S-6-of-the-specification-and-benefits-at-a-glance 


ফ্ল্যাগশিপ ফোনের সংজ্ঞাটা আমরা প্রায় সবাই বুঝি। প্রত্যেক স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিই বছরে অন্তত একটি করে ফ্ল্যাগশিপ ফোন বাজারে এনে থাকে, যার মধ্যে কোম্পানিটি সর্বশেষ প্রযুক্তিগত সব চমক দিয়ে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে চেষ্টা করে।

 কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড জগতে ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর ভিড়ে গত কয়েক বছর ধরেই শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে স্যামসাং-এর গ্যালাক্সি এস সিরিজ। এইচটিসি বা সনির ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোও জনপ্রিয়তা পিছিয়ে না থাকলেও হাই-এন্ড ফোন কিনতে গেলে বেশিরভাগ মানুষেরই প্রথম পছন্দ থাকে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস সিরিজের ফোন। আর সম্প্রতি সবার অপেক্ষার ইতি টেনে স্যামসাং ঘোষণা করেছে নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোন, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৬ 
কোরিয়ান প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা কোম্পানিটি আজ স্পেনের বার্সেলোনায় শুরু হওয়া মোবাইল ফোন ভিত্তিক বছরের অন্যতম আয়োজন ‘মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে’ আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করেছে তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোনটি। এর আগের স্যামসাং-এর বড় আকারের রিলিজ গ্যালাক্সি নোট ৪ এর মতোই এবারও গ্যালাক্সি এস ৬ এর পাশাপাশি বাঁকানো ডিসপ্লের গ্যালাক্সি এস৬ এজ-এর ঘোষণা দিয়েছে স্যামসাং। গ্যালাক্সি নোট ৪ এজ বাজারে খুব একটা সাড়া ফেলতে না পারলেও নতুন ধরনের এই ফোন নিয়ে আশাবাদী স্যামসাং। আর তাই ফ্ল্যাগশিপ ফোনেরও একটি এজ সংস্করণ তৈরি করেছে তারা।

আর কথা না বাড়িয়ে চলুন প্রথমেই দেখে নেয়া যাক গ্যালাক্সি এস৬ এর হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন ও অন্যান্য বিশেষত্ব।

গ্যালাক্সি এস৬ ডিজাইন

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৬ এর ডিজাইন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই ইন্টারনেট জগতে একের পর এক ছবি ও তথ্য ফাঁস হয়েছে, আর তার প্রায় সবগুলোকেই সত্য প্রমাণিত করেছে মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে আজ ফোনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। গ্লাস ও মেটালের সংমিশ্রণে খানিকটা ভিন্ন ধরনের ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে গ্যালাক্সি এস৬, যা ফোনটিতে আরও প্রিমিয়াম ফিল এনে দিয়েছে বলে মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে ফোনটি ঘেঁটে দেখা সাংবাদিকরা লিখেছেন। হাই-এন্ড ফোন হওয়ার পরও ফোনটি হাতে ধরতে বেশ কমপ্যাক্ট এবং আরামদায়ক বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

galaxy s6 1

তবে গ্যালাক্সি এস৫ এর মতো এবারের ফ্ল্যাগশিপ ফোনে ওয়াটারপ্রুফ সুবিধাটি বাদ দেয়া হয়েছে, যেমনটি আগেই জানা গিয়েছিল। ওয়াটারপ্রুফ সুবিধা পেতে চাইলে ব্যবহারকারীকে অপেক্ষা করতে হবে গ্যালাক্সি এস৬ অ্যাকটিভ-এর জন্য, যেটিতে পানিরোধক ব্যবস্থা রাখা হবে বলে জানিয়েছে স্যামসাং। ফ্ল্যাগশিপ ফোনে সাধারণত ওয়াটারপ্রুফ একটি সাধারণ সুবিধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে স্যামসাংই তাদের সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ ফোন গ্যালাক্সি এস৫-এ পানিরোধক সুবিধা দিয়েছিল। তবে গ্যালাক্সি এস৬-এ এসে সেই সুবিধা তুলে নেয়ার ফলে এর বিক্রিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন অনেকে।

প্রসেসর, র‌্যাম, স্টোরেজ

অনেকেই কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগনের সর্বশেষ কোনো প্রসেসরের আশায় থাকলেও স্যামসাং নিজেদের তৈরি প্রসেসরকেই প্রাধান্য দিয়েছে তাদের নতুন গ্যালাক্সি এস৬ স্মার্টফোনে। স্যামসাং এখনও নিশ্চিত করে জানায়নি কোন চিপসেট ব্যবহার করা হবে এতে, তবে সেটি ৬৪-বিট সমর্থিত চিপসেট হবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে সেটি হবে এক্সিনস ৭৪২০। এছাড়াও ফোনটিতে ৩ গিগাবাইট র‌্যাম থাকবে বলে জানিয়েছে স্যামসাং।

samsung galaxy s6 2

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৬ স্টোরেজের দিক দিয়ে তিনটি মডেলে বাজারে আসবে। ৩২ গিগাবাইট, ৬৪ গিগাবাইট ও ১২৮ গিগাবাইটের তিনটি ভিন্ন মডেলে ক্রেতারা ফোনটি কিনতে পারবেন। তবে কোন স্টোরেজের ফোন কিনবেন তা সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অবশ্যই জেনে নেয়া উচিৎ যে, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৬-এ কোনো মেমোরি কার্ড স্লট নেই। অর্থাৎ, আপনি যতটুকু স্টোরেজের ফোন কিনবেন, ততটুকু স্টোরেজেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। অন্যান্য ফোনের মতো এতে কোনো মেমোরি কার্ড ঢোকানো যাবে না।

স্যামসাং জানিয়েছে তারা নতুন ফোনটির স্টোরেজে নতুন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ইউএফসি ২.০ (ইউনিভার্সাল ফ্ল্যাশ স্টোরেজ) প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে ফোনটির ডাটা ট্রান্সফারের গতি বেড়ে যাবে ও বিদ্যুৎ খরচ কমে যাবে বলে জানিয়েছে স্যামসাং। মাইক্রোএসডি কার্ডের স্লট বাদ পড়ার পেছনে এটিই অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে।

গ্যালাক্সি এস৬ স্ক্রিন

স্যামসাং ফ্ল্যাগশিপ সিরিজের ফোনগুলোর স্ক্রিন নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার পারফরম্যান্স যাই হোক না কেন, স্ক্রিনের দিক দিয়ে প্রায় সবসময়ই প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে এগিয়ে থেকেছে স্যামসাং।

Samsung Galaxy S6 review (4)-650-80

এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ৫.১ ইঞ্চি সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লেতে এবার গ্যালাক্সি নোট ৪-এর মতোই 2560 x 1440 পিক্সেল রেজুলেশন থাকছে। গ্যালাক্সি এস৬-এর স্ক্রিনে থাকছে ৫৭৭ পিক্সেল পার ইঞ্চি। সঙ্গে রয়েছে করনিং গরিলা গ্লাস ৪ প্রটেকশন।

সবমিলিয়ে স্ক্রিন নিয়ে মোটেই অসন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই ব্যবহারকারীদের। তবে মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে থাকা প্রায় সবাই যেটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তা হলো ফোনটির ব্যাটারি কতক্ষণ টানতে পারবে শক্তিশালী এই স্মার্টফোন ও হাই রেজুলেশন ডিসপ্লে?

ব্যাটারি

গ্যালাক্সি এস৬ এর হতাশাজনক দিকের কথা উল্লেখ করতে গেলে যে তিনটি বিষয় প্রায় সবাই উল্লেখ করবেন তার মধ্যে অন্যতম হতে যাচ্ছে এর ব্যাটারি ক্যাপাসিটি (অন্য দু’টি হচ্ছে মেমোরি কার্ডের স্লট না থাকা ও পানিরোধক না হওয়া)। যেখানে স্যামসাং-এর পূর্ববর্তী ফ্ল্যাগশিপ ফোন গ্যালাক্সি এস৫-এর ব্যাটারি ছিল ২৮০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার, সেখানে নতুন ফোনের ব্যাটারি দেয়া হয়েছে ২৫৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার।

স্যামসাং জানিয়েছে গ্যালাক্সি এস৬ এর প্রসেসর পাওয়ার কনজাম্পশন কম হওয়ায় এই ব্যাটারিতেও ভালো ব্যাকআপ পাওয়া যাবে এবং প্রয়োজনে মাত্র ১০ মিনিটের চার্জে ২ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাকের মতো ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। তবে ফোন বাজারে আসার আগে এবং রিভিউয়ার ও সাধারণ ব্যবহারকারীর হাতে পৌঁছানোর আগে সেসব দাবির সত্যতা নিয়ে বলা মুশকিল। তবে প্রায় সবাই স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৬-এর কম ক্যাপাসিটির ব্যাটারি নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

গ্যালাক্সি এস৬ ক্যামেরা

galaxy s6 camera

ক্যামেরাকে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৬ এর অন্যতম প্রধান সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করেছে স্যামসাং। কোম্পানিটি গ্যালাক্সি এস৬ ও এস৬ এজ দু’টি ফোনেই দিয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। f/1.9 অ্যাপারচার থাকায় অল্প আলোতেই গ্যালাক্সি এস৫-এর তুলনায় ৩৫% বেশি ভালো ছবি তুলতে সক্ষম স্যামসাং-এর নতুন এই ফ্ল্যাগশিপ ফোন। এছাড়াও কোম্পানিটির অটো এইচডিআর, অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশনসহ ক্যামেরার যাবতীয় সুবিধাদি তো রয়েছেই।

সেলফিপ্রেমীদের কথাও ভুলে যায়নি স্যামসাং। গ্যালাক্সি এস৬-এ দেয়া হয়েছে ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। স্যামসাং জানিয়েছে ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়েও অল্প আলোয় ভালো ছবি তোলা যাবে। তাছাড়া ইনফ্রারেড ব্যবহার করে ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে ছবির হোয়াইট ব্যালেন্সও ঠিক করা যাবে বলে জানা গেছে।

অপারেটিং সিস্টেম

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৬ এ শুরু থেকেই ব্যবহার করা হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ললিপপ ৫.০.২। কোরিয়ান কোম্পানিটি সাম্প্রতিক সময়ে টাইজেন অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে বেশ জোরেসোরে কার্যক্রম শুরু করলেও অ্যান্ড্রয়েডের চাহিদা ও কোম্পানিটির বর্তমান মার্কেটশেয়ারের পেছনে অ্যান্ড্রয়েডের অবদানের কথা ভুলে যায়নি। তাই ফ্ল্যাগশিপ ফোনে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমই ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে বরাবরের মতোই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের উপর বসিয়ে দেয়া হয়েছে স্যামসাং-এর টাচউইজ ইউজার ইন্টারফেস। নতুন টাচউইজকে আগের থেকে আরও সহজ ও কম বিরক্তিকর করে তোলা হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করলেও, টাচউইজ এর ফ্যান না তারা হয়তো বরাবরের মতোই স্যামসাং-এর ইউজার ইন্টারফেস নিয়ে হতাশ হবেন। এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা একটি তুলনামূলক চিত্র বিশেষভাবে স্মরণীয়!

ফ্ল্যাগশিপ ফোনের সংজ্ঞাটা আমরা প্রায় সবাই বুঝি। প্রত্যেক স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিই বছরে অন্তত একটি করে ফ্ল্যাগশিপ ফোন বাজারে এনে থাকে, যার মধ্যে কোম্পানিটি সর্বশেষ প্রযুক্তিগত সব চমক দিয়ে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে চেষ্টা করে।