মেয়েটা চাকরি চায় গুগলে!

She-wants-a-job-Google 


 স্বপ্নটাকে ছুঁতে গিয়েই তো সে বুক ভরা সাহসে সটান চিঠি লিখে ফেলে গুগলের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার বা সিইও সুন্দর পিচাইকে, একটা চাকরি চেয়ে! আর চাকরি চাইতে গেলে যা যা জানাতে হয়, প্রার্থী কতটা কী জানেন, পড়াশোনা করেছেন কত দূর পর্যন্ত, গুগলের সিইও-কে পাঠানো চিঠিতে তাও সবিস্তারে লিখতে ভুল করেনি সেই একরত্তি মেয়েটি। সাত বছরের টুকটুকে মেয়ে ক্লোয়ি ব্রিজওয়াটার। গুগলের মতো সংস্থার সিইও’র চাকরিটা যে সব সময়েই ঘোর অনিশ্চয়তার, সেটাও কি জানা ছিল সাত বছরের ক্লোয়ির?


একটা চাকরির জন্য ব্রিটেনের হ্যেরফোর্ড থেকে তার পাঠানো চিঠিতে কি সে জন্যই গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইয়ের নাম লেখেনি ক্লোয়ি? লিখেছিল, শুধুই ‘ডিয়ার গুগল বস’? দুনিয়া কাঁপানো কোনও সংস্থার সিইও’র চাকরিটা করতে গেলে যে যথেষ্ট সহিষ্ণু, সহৃদয় আর ‘ইগো’হীন হতে হয়, তার প্রমাণ দিতে কিন্তু একটুও দেরি করেননি গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইও। ছোট্ট, টুকটুকে মেয়ে ক্লোয়ির চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখে ‘ডিয়ার ক্লোয়ি’ সম্বোধন করে তাকে চিঠির জবাব দিতে একটুও দেরি করেননি গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, তাঁর বহু মূল্যবান স্বাক্ষর সহ।

একরত্তি ক্লোয়ির লেখা সেই চিঠি

ক্লোয়ি লিখেছিল, ‘‘আমার বয়স সাত। আমি কম্পিউটার খুব ভালবাসি। স্কুলের টিচাররা আমার বাবা, মাকে বলেছেন, আমি নাকি ক্লাসে খুব ভাল পড়াশোনা করি। আমার রেজাল্টও ভাল হয়। একটাও বানান ভুল হয় না। খুব তাড়াতাড়ি কোনও লেখা পড়ে ফেলতে পারি। নির্ভুল ভাবে অঙ্ক কষে ফেলি চোখের নিমেষে।’’

এই ভাবে নিজের ‘বায়োডেটা’ দেওয়ার পর তার চিঠি লেখার ‘এক্সপিরিয়েন্স’ কতটা, ‘গুগলের বস’কে সে কথাও জানিয়েছে ক্লোয়ি। লিখেছে, ‘‘এটা আমার লেখা দ্বিতীয় চিঠি। এর আগে আমি একটাই চিঠি লিখেছিলাম, ফাদার ক্রিসমাসকে।’’

ক্লোয়ির মা, বাবা বলেছেন, ‘‘আর বলবেন না, সারাক্ষণ কম্পিউটারে গুগল অফিসের ছবি দেখে ও। বিন-ব্যাগস, গো-কার্টস দেখে। দেখে স্লাইডস। ওই সব দেখেই ওর বড় হয়ে গুগলে চাকরি করার খুব শখ হয়েছে। তাই চিঠিও লিখে ফেলেছে।’’

ছোট্ট ক্লোয়ির চিঠিটা কিন্তু বেশ ভাল লেগেছে গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইয়ের।

একরত্তি মেয়ে ক্লোয়িকে লেখা গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইয়ের জবাব
তাই সঙ্গে সঙ্গে তার জবাব দিয়েছেন পিচাই। লিখেছেন, ‘‘ছোট্ট সোনা ক্লোয়ি, আমার মনে হয়, তুমি যদি ঠিক এই ভাবে পরিশ্রম করে চল আর তোমার স্বপ্নগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারো, তা হলে তুমি তোমার সব স্বপ্নকেই এক দিন ছুঁতে পারবে। তখন তুমি গুগলেও চাকরি করতে পারো। আবার সাঁতার কাটতে পারো অলিম্পিক গেমসেও। তোমার স্কুলটা শেষ হোক। তার পর চাকরির জন্য একটা চিঠি দিও আমাকে। আমি অপেক্ষা করে থাকব কিন্তু, ছোট্ট সোনা ক্লোয়ি।’’স্বপ্নটাকে সত্যি করার জন্য ক্লোয়ির অপেক্ষা এ বার নিশ্চয়ই শুরু হয়ে যাবে!

স্বপ্নটাকে ছুঁতে গিয়েই তো সে বুক ভরা সাহসে সটান চিঠি লিখে ফেলে গুগলের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার বা সিইও সুন্দর পিচাইকে, একটা চাকরি চেয়ে! আর চাকরি চাইতে গেলে যা যা জানাতে হয়, প্রার্থী কতটা কী জানেন, পড়াশোনা করেছেন কত দূর পর্যন্ত, গুগলের সিইও-কে পাঠানো চিঠিতে তাও সবিস্তারে লিখতে ভুল করেনি সেই একরত্তি মেয়েটি। সাত বছরের টুকটুকে মেয়ে ক্লোয়ি ব্রিজওয়াটার। গুগলের মতো সংস্থার সিইও’র চাকরিটা যে সব সময়েই ঘোর অনিশ্চয়তার, সেটাও কি জানা ছিল সাত বছরের ক্লোয়ির?