শিগগিরই বিদেশে রফতানি হবে ‘উই’: মুনতাসির আহমেদ

Soon-be-exported-abroad-Wii-Muntasir-Ahmed 



বাংলাদেশের স্থানীয় মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ড ‘উই’ দ্বিতীয় বছরে পা দিয়েছে। গত বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই ব্র্যান্ড গত এক বছরে দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। হ্যান্ডসেটের সাথে গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াইফাই সুবিধা ও ক্লাউড স্টোরেজের কারণে মানুষের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।  জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ডিং এবং কমিউনিকেশন বিভাগের সহকারি মহাব্যবস্থাপক মুনতাসির আহমেদ।


 উই-এর এক বছর হয়ে গেল। গত এক বছরে আপনাদের অর্জন কী?

মুনতাসির আহমেদ: আমাদের অনেক অর্জন। প্রথম দিন থেকেই বলে এসেছি আমরা অন্যদের থেকে আলাদা। আমরা শুধু বক্স বিক্রি করছি না। বরং আমরা সলিউশন বিক্রি করছি। এই সলিউশনের মধ্যে রয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই এবং ক্লাউড বা অতিরিক্ত স্টোরেজ। ২০১৬ সালের মধ্যে আমরা ৯ শত স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই সংযুক্ত করতে পেরেছি। এরপরেও আমরা ঢাকার বাইরে অনেক জায়গাতে ফ্রি ওয়াইফাই দিতে পারছি না; কারণ অনেক জায়গাতে অবকাঠামো প্রস্তুত না। তবে এ বছরের মধ্যে আমরা দুই হাজার ৫ শত জায়গায় ওয়াইফাই সংযুক্ত করতে চাই।

 এই সলিউশন বিক্রিতে গ্রাহকদের সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

মুনতাসির আহমেদ: গ্রাহকদের সাড়া আশানুরূপ। আপনি জানেন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে অনেক সমস্যা থাকে। সারাদেশে আমাদের এখন পর্যন্ত ৪৫টি 'উই কেয়ার সেন্টার' রয়েছে। গ্রাহকদের থেকে আমাদের গড়ে হ্যান্ডসেটের সমস্যা দেখে গেছে ১ থেকে ২ শতাংশ। আমাদের সার্ভিস সেন্টারে আমাদের যেসব কর্মীরা রয়েছেন তাদের গত এক বছরে খুব বেশি কিছু করার মতো ছিল না। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সার্ভিস সেন্টার নিয়ে নতুন কিছু করতে যাবো। সার্ভিস সেন্টারের সাথে 'কাস্টমার এক্সপেরিয়ান্স জোন' তৈরি করতে যাচ্ছি।

 এখন আপনাদের ৪৫টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। যেসব এলাকায় সার্ভিস সেন্টার নেই সেখানে কিভাবে গ্রাহকসেবা দিচ্ছেন?

মুনতাসির আহমেদ: যেখানে আমাদের সার্ভিস সেন্টার নেই সেখানে আমরা কালেকশন পয়েন্ট করেছি। বাংলাদেশের শীর্ষ মোবাইল ব্র্যান্ডের একটি যাদের মোট সার্ভিস সেন্টার রয়েছে ২৬/২৭টি। সেখানে আমাদের ইতিমধ্যেই ৪৫টি হয়ে গেছে। এছাড়া প্রতি মাসেই আমরা ৩/৫টা করে সার্ভিস সেন্টার দিচ্ছি। আগামী আগস্টের মধ্যে আমাদের ৬৪টি সার্ভিস সেন্টার হয়ে যাবে।

 গত এক বছরে কতগুলো হ্যান্ডসেট নিয়ে এসেছেন? সবচেয়ে ভাল চলছে কোনটা?

মুনতাসির আহমেদ: এক বছরে আমরা মোট ১২টি ডিভাইস নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে 'এওয়ান' নামের একটি ডিভাইস। এই প্রোডাক্টটি বেশি বিক্রি হওয়ার কারণে এর দাম অনেক কম এবং কোয়ালিটি অনেক ভাল। যার দাম ৩ হাজার টাকার নিচে। তবে আমরা সবচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি 'এক্সওয়ান' এবং 'বিটু'-এর জন্য। আমরা আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর সময় থেকেই 'এক্সওয়ান' নিয়ে এসেছিলাম। গত ৪/৫ মাস আগে এটার সব কপি বিক্রি হয়ে গেছে। তবে এখনও এই ডিভাইসের জন্য মানুষের আগ্রহ দেখতে পাই। আর 'বিটু' আমাদের ৪ হাজার এমএইচ ব্যাটারি বলে অনেকেই এটার ব্যাপারে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন। সাড়ে তিন মাস আগে এটা মার্কেটে দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তৃতীয়বার আমাদের রিঅর্ডার করতে হয়েছে।

 গত এক বছরে লোকাল ব্র্যান্ড হিসেবে কি কি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন?

মুনতাসির আহমেদ: আমরা এটাকে চ্যালেঞ্জ না বলে অপরচুনিটি হিসেবে দেখেছি। অ্যাপল-স্যামসাং থেকে শুরু করে লোকাল সকল ব্র্যান্ড চায়না থেকে প্রোডাক্ট নিয়ে আসছে। এখানেই আমাদের প্রতিযোগিতা। ভাল প্রোডাক্ট গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নিজেদের ব্যতিক্রমী হিসেবে উপস্থাপন করা। এ জন্য গত বছর আমরা সরকারের সহায়তায় যশোরের হাইটেক পার্কে একটি বড় স্পেস নিয়েছি। আশা করছি আগামী দেড় মাসের মধ্যেই সেখানে লোকাল অ্যাপস এবং ওএস ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ শুরু করতে পারবো। অ্যান্ড্রয়েডের জন্য বাংলা ভার্সন করার চেষ্টা করবো। লোকাল কনটেন্ট নিয়ে কাজ করতে চাই। লোকাল কনটেন্ট বাড়লে ডেটা ইউজেস বাড়বে, ঠিক একইভাবে আমাদের ডিভাইসও বিক্রি ও ব্যবহার বাড়বে।

 মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানীতে 'ট্যাক্স' একটা বড় ইস্যু, এ ব্যাপারে কি বলবেন?

মুনতাসির আহমেদ: 'ট্যাক্স' অবশ্যই বড় একটি ইস্যু। 'ট্যাক্স' আরেকটু কমাতে পারলে আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে আরও বেশি স্মার্টফোন নিয়ে যেতে পারবো। সরকার এ জন্য অনেক কাজ করছে। আমাদের ট্যাক্সের বিষয়টি সরকারের নজরে আছে। আমরা সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে বসেছি। তারা আমাদের এ ব্যাপারে কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকার এর বাইরেও অনেক কাজ করছে। যেমন আগে গ্রে মার্কেটে অবৈধ বা ট্যাক্সছাড়া অনেক প্রোডাক্ট আসতো। সরকার এ বিষয়টি সমাধান করেছেন। এখন এই অবৈধ চ্যানেল অনেকটা কমে এসেছে। আশা করি ট্যাক্স ইস্যুটিও সরকার গুরুত্বের সাথে দেখে এই ইন্ডাস্ট্রিকে আরও বেশি প্রসারে সহয়তা করবেন।

 কিছুদিন আগে আমরা জেনেছি 'উই' বাংলাদেশের বাইরে হ্যান্ডসেট ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছে। সেটার এখন কি অবস্থা?

মুনতাসির আহমেদ: খুব শিগগির এ বিষয়ে সু-সংবাদ দিতে পারবো। আমাদের দেশের মতো অন্য দেশেও হ্যান্ডসেট ব্যবসা শুরু করতে গেলে অনেক প্রক্রিয়া শেষ করে যেতে হয়। এখন সেসব বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। বাংলাদেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন একটি ধারা শুরু করতে যাচ্ছে। এটা যেমন আমাদের গর্ব তেমন সাড়া দেশের গর্ব।

 আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই।

মুনতাসির আহমেদ: উন্নতমানের এবং সাধ্যের মধ্যে ক্রয় করা যাবে এমন ডিভাইস নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। প্রচুর বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা বিদেশে বসবাস করেন তাদের জন্য আমরা কাজ করতে চাই। বাংলাদেশি ব্র্যান্ড হিসেবে বিদেশে কাজ করতে চাই। আমরা এ ব্যাপারে খুব আশাবাদী কারণ রেগুলেটরি, সরকার ও মন্ত্রী মহাদয় থেকে অনেক সহযোগিতা পাচ্ছি।

বাংলাদেশের স্থানীয় মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ড ‘উই’ দ্বিতীয় বছরে পা দিয়েছে। গত বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই ব্র্যান্ড গত এক বছরে দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। হ্যান্ডসেটের সাথে গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াইফাই সুবিধা ও ক্লাউড স্টোরেজের কারণে মানুষের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ডিং এবং কমিউনিকেশন বিভাগের সহকারি মহাব্যবস্থাপক মুনতাসির আহমেদ।