হ্যান্ডস-অন রিভিউ: Asus Zenfone Selfie


স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ইদানীং সময়ে সেলফ প্রোট্রেট বা সহজ ভাষায় সেলফি তোলার বিষয়টা অনেক বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিয়েছে। শুধু যে তরুণরাই সেলফি প্রেমীদের মধ্যে পড়েন তা কিন্তু নয়, বরং সব বয়সের মানুষরাই সেলফি তুলছেন। এই বিষয়টি এতটাই জনপ্রিয় যে স্মার্টফোন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র সেলফি তোলার জন্য তাদের স্মার্টফোনের লাইনআপ গুলোতে বিভিন্ন ধরণের সেলফি সিরিজ বা সেলফি ডিভাইস যুক্ত করেছে। এভাবেই প্রযুক্তি বাজার পরিচিত হচ্ছে বেশ কিছু চমৎকার সেলফি ডিভাইসের সাথে। এদিক দিয়ে আসুসও পিছিয়ে নেই। সেলফি প্রেমীদের উদ্দেশ্যে এই প্রতিষ্ঠানটিও তাদের জেনফোন লাইন-আপে যুক্ত করেছে আসুস জেনফোন সেলফি ডিভাইসটি। 
চমৎকার এই ডিভাইসটিতে ব্যবহারকারীরা সেলফি তোলার জন্য পাবেন একটি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ফ্রন্ট ফেসিং ১৩ মেগা পিক্সেল ক্যামেরা। পাশাপাশি, সেলফিগুলো যেন ন্যাচারাল লুকের হয় সেজন্য স্মার্টফোনটির সামনেও রাখা হয়েছে একটি ডুয়েল-টোন এলইডি ফ্ল্যাশের। এছাড়াও ডিভাইসটিতে রয়েছে বেশ কিছু চমৎকার ফিচার! তাই, প্রিয় টেকের পক্ষ থেকে আজ সেলফি প্রেমীদের জন্য লিখতে বসেছি আসুসের জেনফোন সেলফি ডিভাইসটিকে নিয়ে। এই লেখাটির মাধ্যমে আমি এই স্মার্টফোনটির প্রায় সবগুলো ভালো এবং মন্দ দিকগুলো তুলে ধরতে চেষ্টা করব। চলুন তাহলে, আজকের এই রিভিউটি শুরু করা যাক। 
প্রতিটি স্মার্টফোনের রিভিউ-ই শুরু হয় এর আন-বক্সিং থেকে, আজও তার ব্যতিক্রম না করি! কী বলেন? 

আন-বক্সিং 

ফোনটির বক্স খুললে আপনি যা যা পাবেন, 

  • একটি স্মার্টফোন।
  • একটি ইয়ার ফোন।
  • দুই জোড়া বাড়তি ইয়ার বাড।
  • একটি ডাটা ক্যাবল।
  • একটি ট্রাভেল চার্জার। 
  • ডকুমেন্টস। 

এবার সংক্ষেপে স্মার্টফোনটির মূল ফিচার সমূহগুলো জেনে নেই চলুন। 

ফিচার সমূহ (সংক্ষেপে)


  • ডুয়েল সিম, ডুয়েল স্ট্যান্ডবাই 
  • ৫.৫ ইঞ্চি আকারের আইপিএস ক্যাপাসিটিভ টাচ স্ক্রিন ফুল এইচডি ডিসপ্লে প্যানেল, নিরাপত্তার জন্য রয়েছে গরিলা গ্লাস ৪ 
  • ৬৪-বিট কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬১৫ চিপসেট, কোয়াড-কোর ১.৫ গিগাহার্জ কর্টেক্স-এ৫৩ এবং কোয়াড-কোর ১.১ গিগাহার্জ করটেক্স-এ৫৩ সিপিইউ
  • অ্যাড্রিনো ৪০৫ জিপিইউ 
  • ভ্যারিয়েন্ট ভেদে ২ অথবা, ৩ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ১৬ অথবা, ৩২ গিগাবাইট স্টোরেজ
  • মাইক্রো এসডি কার্ড সাপোর্ট সুবিধা
  • আজীবন ৫ গিগাবাইট আসুস ওয়েব স্টোরেজ সুবিধা 
  • ১৩ মেগা পিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা, এফ/২.০ অ্যাপারচার, লেজার অটো ফোকাস সুবিধা, ডুয়েল-টোন ফ্ল্যাশ, ১০৮০পি ভিডিও রেকর্ডিং
  • ১৩ মেগা পিক্সেল ৮৮ ডিগ্রী ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ফ্রন্ট ফেসিং শুটার, এফ/২.২, কনট্রাস্ট ডিটেকশন অটো ফোকাস, ডুয়েল-টোন ফ্ল্যাশ, ১০৮০পি ভিডিও রেকর্ডিং
  • অ্যান্ড্রয়েড ৫.০.২ ললিপপ অপারেটিং সিস্টেম সাথে আসুস জেন ইউআই
  • ৩,০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার রিমুভাল ব্যাটারি 


ডিসপ্লে 

আসুস জেনফোন সেলফি স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ১০৮০পিক্সেল রেজ্যুলেশন বিশিষ্ট একটি ৫.৫-ইঞ্চ আকারের আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল। ডিভাইসটির ডিসপ্লে ডেনসিটি হচ্ছে ৪০৩ পিপিআই। স্মার্টফোনটির কালার রি-প্রোডাকশন বেশ ভালো। আমার কাছে ডিভাইসটির ডিসপ্লের ব্রাইটনেস পরিমিত মনে হয়নি। ব্রাইটনেস কিছুটা কম হওয়ায় সরাসরি সূর্যের নিচে পরিষ্কার ভিউ পেতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে ব্যবহারকারীদের। তবে, ডিভাইসটির ব্রাইটনেস পরিমিত না হলেও এর কনট্রাস্ট রেশিওর পরিমাণ বেশ ভালো।  
চমৎকার ডিসপ্লে প্যানেল থাকার পরেও আসুস তাদের নিজস্ব একটি ডিসপ্লে টিউনিং অ্যাপলিকেশন 'আসুস স্প্লেনডিড' প্রি-ইন্সটল করে দিয়েছে যার মাধ্যমে আপনি ইচ্ছেমত আপনার পছন্দ অনুযায়ী ডিভাইসটির ডিসপ্লে আডজাস্ট করে নিতে পারবেন। 

(আসুস স্প্লেনডিড) 

 

ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি 

আসুসের জেনফোন লাইনআপের প্রতিটি ডিভাইসকেই আমার কেন যেন একই ধরণের মনে হয়। তবে, এই স্মার্টফোনটি এক কথায় হুবহু প্রায় জেনফোন ২ ডিভাইসটির একটি আইডেন্টিকাল ডিভাইস। এক কথায় জেনফোন সেলফিকে জেনফোন ২ ডিভাইসটির একটি নতুন ভার্সন বলে চালিয়ে দেয়া সম্ভব যে ভার্সনটিতে যুক্ত করা হয়েছে একটি চমৎকার ১৩ মেগা পিক্সেল সেন্সরের ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা। 
ফোনটিতে রয়েছে আসুসের সিগনেচার মার্ক চমৎকার মেটাল বেজেল, কার্ভড প্ল্যাস্টিক ব্যাক এবং রিয়ার মাউন্টেড বাটন। ডিভাইসটিতে ব্যবহারিত চমৎকার প্ল্যাস্টিক ব্যাকটি খুব ভালো গ্রিপ দিয়ে থাকে। যেহেতু এটি হালকা কার্ভড তাই ঘামা হাতেও এটি ধরতে কোন রকম সমস্যা হয়না। 

ডিভাইসটির টপ ফ্রন্টে ব্যবহার করা হয়েছে একটি ১৩ মেগা পিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা, একটি ডুয়েল-টোন এলইডি ফ্ল্যাশ, স্পীকার এবং দুটি সেন্সর। 
ডিভাইসটির সামনের নিচের দিকে রাখা হয়েছে ৩টি টাচ ক্যাপসিটাভ ন্যাভিগেশন কী। জেনফোন সেলফির বাম এবং ডান সাইড একেবারেই ফাঁকা রাখা হয়েছে। 
আসুস জেনফোন সেলফি স্মার্টফোনটির একদম উপরে আপনি পাবেন পাওয়ার বাটন, একটি হেডফোন ইনপুট, একটি সেকেন্ডারি মাইক্রোফোন। আর একদম নিচের দিকে শুধুমাত্র চার্জিং/ডাটা সিংক পোর্ট এবং প্রাইমারী মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয়েছে। 
ফোনটির ব্যাকসাইডের উপরের দিকে রয়েছে লেজার অটো ফোকাস, একটি ডুয়েল-টোন এলইডি লাইট, একটি ১৩ মেগা পিক্সেল ক্যামেরা ইউনিট। ডিভাইসটির ব্যাকসাইডের ঠিক মাঝের দিকে পাবেন প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ডিং লোগো এবং নিচের দিকে একটি স্পীকার গ্রিল।  

যেহেতু ফোনটিতে যুক্ত করা হয়েছে একটি রিমুভাল ব্যাটারি, সেহেতু আপনি এর ব্যাক পার্ট খুলতে পারবেন। এবং ব্যাক পার্টটি খুলেই আপনাকে আপনার সিম কার্ডগুলো এবং মাইক্রোএসডি কার্ডটি ইন্সটল করতে হবে। 
(ব্যাক পার্টটি খোলার পর) 


সফটওয়্যার / ইউজার ইন্টারফেস 

জেনফোন সেলফি স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন ৫.০ ললিপপ। তবে ইউজার ইন্টারফেস হিসেবে আপনি ডিভাইসটিতে অ্যান্ড্রয়েড লে-আউটের উপরে আসুসের নিজস্ব জেন ইউআই দেখতে পাবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন আসুস জেনফোন ৫ ব্যবহারকারী এবং প্রায় ১ বছর হতে চলল আমি জেন ইউআই ব্যবহার করে আসছি। আমার অ্যান্ড্রয়েড এক্সপেরিয়েন্সে আমি যতগুলো ইউআই ব্যবহার করেছি তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে আসুসের এই জেন ইউআই অন্যতম চমৎকার একটি কাস্টোমাইজবল ইউআই! আশা করছি আপনি যদি জেন ইউআইটির সাথে পূর্ব পরিচিত না হয়ে থাকেন তবে ব্যবহার করার সময় এই ইউজার ইন্টারফেসটি আপনাকে নিঃসন্দেহে মুগ্ধ করবেই। 

হার্ডওয়্যার 

আসুস জেনফোন সেলফি ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬৪-বিট কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬১৫ চিপসেট, কোয়াড-কোর ১.৫ গিগাহার্জ কর্টেক্স-এ৫৩ এবং কোয়াড-কোর ১.১ গিগাহার্জ করটেক্স-এ৫৩ সিপিইউ। ভিডিও রেন্ডারিং এর জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাড্রিনো ৪০৫ জিপিইউ  এবং ভ্যারিয়েন্ট ভেদে আপনি ডিভাইসটি ২ অথবা, ৩ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ১৬ অথবা, ৩২ গিগাবাইট স্টোরেজে কিনতে পারবেন। ডিভাইসটিতে রয়েছে মাইক্রোএসডি কার্ড ব্যবহার করার সুবিধাও। 

ক্যামেরা 

আসুসের এই স্মার্টফোনটির মূল ফিচার হচ্ছে এর ক্যামেরা ইউনিট! ডিভাইসটিতে রিয়ার এবং ফ্রন্ট প্যানেলে ব্যবহার করা হয়েছে ১৩ মেগা পিক্সেল সেন্সর ক্যামেরার এবং দুটি ক্যামেরাতেই রয়েছে ডুয়েল-এলইডি টোন ফ্ল্যাশ যা কিছুটা হলেও ন্যাচারাল ছবি তুলতে সহায়তা করে থাকে। 
ডিভাইসটির রিয়ার ক্যামেরাতে ব্যবহার করা হয়েছে এফ/২.০ অ্যাপারচার এবং এর ফ্রন্ট ক্যামেরাতে এফ/২.২। তাই, রিয়ার ক্যামেরা থেকে ফ্রন্ট ক্যামেরা কিছুটা ধীর গতিতে কাজ করে থাকে। রিয়ার প্যানেলে আরও  একটি সুবিধা যোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি আর তা হচ্ছে লেজার ফোকাসিং সিস্টেম যা ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরায় নেই। ডিভাইসটি দিয়ে ছবি আমি বেশি তুলিনি তবে যতটুকুই তুলেছি সেগুলো থেকে চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় এর ক্যামেরা পারফর্মেন্স বেশ ভালো। দুটি ক্যামেরাতেই বেশ কিছু ভিন্ন ভিন্ন মোড আপনারা ব্যবহার করতে পারবেন এবং মজার বিষয় হচ্ছে দুটি ক্যামেরাতেই ডিফল্ট অ্যাপলিকেশনে ম্যানুয়াল মোড দেয়া হয়েছে। তবে যা না বললেই নয়, রিয়ার ক্যামেরাটির মাধ্যমে আপনি ৩২সেকেন্ডের লং এক্সপোজার ব্যবহার করেও ছবি তুলতে পারবেন। যদি আপনি একজন শখের ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন তবে নিঃসন্দেহে এই ডিভাইসটি আপনার ছবিতোলার প্রতি যে আকর্ষণ আছে তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিবে। এছাড়াও সেলফি প্রেমীদের জন্য সেলফি প্যানারোমা নামের চমৎকার একটি অপশন আছে ডিভাইসটিতে! তাই এখন থেকে আর বন্ধুদের সাথে একই ছবিতে জায়গা করে নিতে বেগ পেতে হবেনা কাউকেই!
চলুন, ডিভাইসটির কিছু ক্যামেরা স্যাম্পল দেখে নেয়া যাক। 


এবার চলুন, সেলফি আউটপুট দেখা যাক! 
(পাশের ছোটভাইটি সেলফি তোলার সময় কিছুটা এক্সসাইটেড হয়ে যায় কেন যেন! ইগনোর হিম :D :D ) 
যেহেতু আমি ডিভাইসটি ব্যবহার করে খুব বেশি শেয়ার করার মত ছবি তুলতে সক্ষম হইনি তাই আপনি যদি আরও কিছু ক্যামেরা স্যাম্পল দেখতে চান তবে একটু কষ্ট করে এই লিংকটি থেকে ঘুরে আসুন। লিংকটিতে শুধু ক্যামেরা স্যাম্পলই নয় বরং এর ক্যামেরার প্রায় সবগুলো মোড নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। 

বেঞ্চমার্ক 

একটি স্মার্টফোনের পারফর্মেন্স পরিমাপ করতে বিভিন্ন ধরণের বেঞ্চমার্কিং টুল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমিও এক্ষেত্রে জনপ্রিয় কিছু বেঞ্চমার্কিং টুলগুলো ব্যবহার করে আসুস জেনফোন সেলফি ডিভাইসটির কিছু বেঞ্চমার্ক ফলাফল পেয়েছি। ফলাফলগুলো নিম্নে তুলে ধরা হল - 

  • গিকবেঞ্চ ৩ - ২৫৮২
  • আনটুটু ৫ - ৩৭১৩০ 
  • বেসমার্ক ওএস ২.০ - ৮৮৩ 
  • বেসমার্ক ওএস ২.০ (সিঙ্গেল-কোর) - ২৭৭৭
  • বেসমার্ক ওএস ২.০ (মাল্টি-কোর) - ১৮৬১৫
  • জিএফক্স ২.৭ টি-রেক্স (১০৮০পি অফস্ক্রিন) - ১৩  
  • জিএফক্স ২.৭ টি-রেক্স (১০৮০পি অনস্ক্রিন) - ১৩
  • বেসমার্ক এক্স - ৪৯১৫ 
  • ক্রাকেন ১.১ - ১৭০৭৫ 
  • এবং, ব্রাউজারমার্ক ২.১ - ৯১৮ 

 

গেমিং পারফর্মেন্স 

ডিভাইসটিতে গেম খেলার সময় আমি কিছুটা ল্যাগ পেয়েছি। মডার্ন কমব্যাট ৫, অ্যাসফল্ট ৮ এবং এরকম আরও কিছু গেম খেলার পর আমি ডিভাইসটির পারফর্মেন্সে খুশি হতে পারিনি। এর চাইতে অর্ধেক দামের বেশ কিছু স্মার্টফোনে আমি এই গেমগুলো স্মুথভাবে খেলেছি, কোন রকম পারফর্মেন্স ইস্যু পাইনি। কেন এরকম হয়েছে সেটা মূলত আমার বোধগম্য হয়নি কেননা খাতা কলমের হিসেব অনুযায়ী যে গেমগুলোর নাম আমি উল্লেখ করেছি সেগুলো খেলার জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ডিভাইসটিতে রয়েছে। সম্ভবত, ওভার অল সফটওয়্যার অপটিমাইজেশনের কারণে এরকমটা হয়েছে! যাই হোক, বড় বড় গেমগুলোতে কিছুটা পারফর্মেন্স ইস্যু থাকলেও ছোট ছোট গেমগুলোতে কোন রকম সমস্যা হয়নি। বরং, চমৎকার কালার রি-প্রোডাকশনের কারণে গেমগুলো খেলে বেশ আনন্দই পেয়েছি। 

মাল্টিমিডিয়া 

  • মিউজিক - সত্যি কথা বলতে আসুস জেনফোন  সেলফি ডিভাইসটি একটি ক্যামেরা কেন্দ্রিক ফোন হলেও এর সবচাইতে যে বিষয়টি আমার ভালো লেগেছে তা হচ্ছে এর ইম্প্রেসিভ ক্লিন অডিও আউটপুট! ডিভাইসটি টেস্ট করার সময় আমার একটি এক্সটার্নাল অ্যামপ্লিফায়ারের সাথে ডিভাইসটিকে যুক্ত করার সুযোগ হয়েছিল এবং এটি সত্যিই বেশ ভালো আউটপুট দিয়েছিল, অন্তত আমি এরকমটা আশা করিনি। আমি এপর্যন্ত বেশ কিছু ডিভাইস রিভিউ করেছি এবং রিভিউ করার সময় স্বাভাবিক ভাবেই আমাকে সব ফিচারের মত মিউজিকের বিষয়টিও পরীক্ষা করে দেখতে হয়েছে। আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি এপর্যন্ত রিভিউ করা ডিভাইসগুলোর মধ্যে আমাকে সবচাইতে চমৎকার মিউজিক এক্সপেরিয়েন্স দিতে সক্ষম হয়েছে এই ডিভাইসটি। 

    শুধু তাই নয়, ডিভাইসটির সাথে আসা স্টক আসুসের ইয়ার ফোনটিও  বেশ ভালো আউটপুট দেয়। ইয়ার ফোনটির ইয়ারবাডগুলোও যথেষ্ট ভালো। নয়েজ ক্যান্সেল করলেও আফটার মার্কেটের ইয়ার ফোনগুলোর মত কিছুক্ষণ ব্যবহারে কানে কোন প্রকার অস্বস্তির সৃষ্টি করেনা। 
  • ভিডিও - ডিভাইসটির স্ক্রিন বড় হওয়ায় আপনি ডিভাইসটিতে যে কোন ধরণের ভিডিও দেখে আনন্দ পাবেন। 

কানেক্টিভটি 

আসুস জেনফোন সেলফি ডিভাইসটিতে রয়েছে ডুয়েল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই সুবিধা, ওয়াই-ফাই ডিরেক্ট এবং হটস্পট সাপোর্টও। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ব্লুটুথ ৪.০ প্রযুক্তির। এছাড়াও আপনি এতে পাচ্ছেন একটি এ-জিপিএস সহ জিপিএস রিসিভার। 
ডিভাইসটির মাইক্রোইউএসবি পোর্টটিতে ইউএসবি হোস্ট সাপোর্ট রয়েছে (ওটিজি) যার মাধ্যমে আপনি আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের পেরিফেরালস ব্যবহার করতে পারবেন এই ডিভাইসটিতে।  

ব্যাটারি লাইফ 

আসুস জেনফোন সেলফি ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি ৩,০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার রিমুভাল লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি ইউনিট। এক চার্জে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার মত স্ক্রিন অন টাইম সহ সাধারণ ব্যাবহারে আমি টানা ১১ ঘণ্টার মত ব্যাক-আপ পেয়েছি ডিভাইসটি থেকে। তাই আশা করছি আপনি যদি এক্সট্রিম ব্যবহার করেন তবে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাক-আপ অনায়াসে পাবেন ডিভাইসটি থেকে। এছাড়াও টেস্ট পিরিয়ডে ডিভাইসটি থেকে আমি প্রায় ১০ ঘণ্টা ভিডিও প্লে-ব্যাক টাইম পেয়েছি এবং ৭ ঘণ্টার মত ব্রাউজিং টাইম ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছি! তাই এক্সট্রিম ব্যবহারকারীরা খুব ভালো ব্যাক-আপ না পেলেও খুব একটা খারাপ ব্যাক-আপও পাবেন না এই ডিভাইসটি থেকে। 

 

ভালো এবং মন্দ দিক সমূহ 

প্রতিটি ইলেকট্রনিক ডিভাইসেই কিছু ভালো এবং মন্দ দিক থাকে। এই ডিভাইসটিও তার ব্যতিক্রম নয়। চলুন, ডিভাইসটির ভালো এবং মন্দ দিকগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। 

ভালো দিক সমূহ -

  • চমৎকার ক্যামেরা - এই বাজেটে আপনি যদি একটি চমৎকার ক্যামেরা ফোন খুঁজে থাকেন তবে এই ডিভাইসটি হতে পারে আপনার জন্য একটি আদর্শ ডিভাইস। স্মার্টফোনটির ফ্রন্ট এবং রিয়ার ক্যামেরা দুটিই বেশ চমৎকার আউটপুট দিতে সক্ষম। 
  • অসাধারণ মিউজিক আউটপুট - সত্যিই, ডিভাইসটির মাল্টিমিডিয়া পারফর্মেন্স এক কথায় অসাধারণ। 
  • চমৎকার গ্রিপ - ডিভাইসটির কার্ভড ব্যাক চমৎকার গ্রিপ দেয়। 
  • ডিসেন্ট ডিসপ্লে - রয়েছে ডিসেন্ট ডিসপ্লে ইউনিট। 
  • ওটিজি - প্রয়োজনমত যে কোন ইউএসবি পেরিফেরাল ব্যবহার করতে পারবেন এই ডিভাইসটিতে। 
  • ওটিএ - ডিভাইসটিতে আছে ওটিএ সুবিধা, ফলে আপনি বেশ কিছু নিশ্চিত আপডেট পাবেন।
  • আসুস ওয়েব স্টোর - ডিভাইসটির সাথে আপনি পাচ্ছেন আসুস ওয়েব স্টোরের ৫ গিগাবাইট স্পেস,  সারা জীবনের জন্য। 
  • গুগল ড্রাইভ - ২ বছরের জন্য ১০০ গিগাবাইট গুগল ড্রাইভ স্টোরেজ পাচ্ছেন বিনামূল্যে! 
  • গেসচার সুবিধা - সেলফি প্রেমীরা সরাসরি সেলফি ক্যামেরার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন অফ-স্ক্রিন স্পেশাল গেসচার। এছাড়া অন্যান্য কিছু গেসচারের সাথে রয়েছে ডাবল ট্যাপ টু লক এবং ওয়েক সুবিধাও। 
  • চমৎকার ভলিউম বাটন প্লেসমেন্ট - প্রথম প্রথম অভ্যাসে আনতে কিছুটা বিরক্ত লাগলেও পরবর্তীতে ডিভাইসটির ভলিউম বাটন প্লেসমেন্ট আপনার ভালো লাগতে বাধ্য! 


মন্দ দিক সমূহ -

  • এনএফসি সুবিধা নেই। 
  • কিছুক্ষেত্রে ল্যাগি পারফর্মেন্স পেয়েছি। 
  • গেমিং পারফর্মেন্স ততটা ভালো নয়। 
  • ব্রাইটনেস তুলনামূলক ভাবে কম। 
  • পাওয়ার কী প্লেসমেন্ট।

 

সিদ্ধান্ত 

১৯,৩৯০ টাকা (প্রায়) মূল্যের এই ফোনটির একই সাথে বেশ কিছু ভালো দিক এবং মন্দ দিক রয়েছে। আমি প্রিয় টেকের পাঠকদের জন্য দুটি দিকই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এখন আপনি এই ডিভাইসটি ব্যবহার করবেন কি না তা সম্পূর্ণই আপনার উপর নির্ভর করে। তবে, আপনি যদি একজন সেলফি প্রেমী হয়ে থাকেন তবে নিঃসন্দেহে এই ডিভাইসটি আপনার জন্য হতে পারে একটি আদর্শ ডিভাইস!