ঘুমের সময় ‘এসি’র কুপ্রভাব


গরমের সময় ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রটা যতই আপন মনে হোক, ঘুমের সময় এই যন্ত্রের বাতাস স্বাস্থ্যকর নাও হতে পারে। 



সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ঘুমের মধ্যে কিংবা অনুভূতিশূন্য বা অচেতন অবস্থায় মানবদেহের উপর সরাসরি জোরে বাতাস দেওয়া হলে হৃদস্পন্দনের হার বেড়ে যেতে পারে। যার ঘুমের উপর প্রভাব ফেলে।

‘এনার্জি অ্যান্ড বিল্ডিংস’ নামক জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে- ‘এয়ার কন্ডিশনার’ থেকে গড়ে ০.১৪ মিটার/সেকেন্ড বেগে বায়ু প্রবাহিত হলে ওই ঘরে থাকা মানুষের নড়াচড়া, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায় উল্লেখযোগ্য হারে। 

এখান থেকে ধারণা করা যায়, যাদের শারীরিক শক্তি কম কিংবা ঠাণ্ডায় যারা বেশি সংবেদনশীল তাদের ঘুমের উপর ঠাণ্ডা বাতাস নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জাপানের তোয়োহাশি ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির গবেষকদের মতে, এসির বাতাস ঘুমন্ত অবস্থায় শরীরের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে এবং বাতাসের বেগ ধীর গতির হলেও তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে ঠাণ্ডা আবহাওয়া একজন ব্যক্তির জন্য আরামদায়ক হলেও এসির বাতাস শরীরের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। এসির বায়ুর বেগ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে অবগত না থাকাই এই সমস্যার কারণ বলে গবেষকদের ধারণা।

প্রধান গবেষক অধ্যপক কাজুও সুজুকি ও তাঁর দল এই গবেষণার জন্য দুটি ঘরে এসির বায়ু প্রবাহের বেগ দুইরকম করে রেখে ওই ঘরে অংশগ্রহণকারীদের ঘুমাতে বলেন।

পরে ইলেক্ট্রোএন্সেফালোগ্রাম (ইইজি)’এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের গভীরতা পরিমাপ করা হয়।

দুই ঘরের বাতাস প্রবাহের মাত্রা ছিল ০.১৪ মিটার/সেকেন্ড (সাধারণ এসি) এবং ০.০৪ মিটার/সেকেন্ড (নিয়ন্ত্রিত এসি)। তবে দুটি ঘরের তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাতাসের প্রবাহ যে ঘরে বেশি ছিল সে ঘরে অংশগ্রহণকারীরা ঘুম এবং জাগরণের মধ্যে ঠাণ্ডা অনুভব করেছেন বেশি।

তবে ঘুমানোর আগে কোনো অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য চোখে পড়েনি।

ঘুমানোর সময় এসির বায়ুপ্রবাহ কী রকম থাকা উচিত সে সম্পর্কে উপকারী পরামর্শ দেয় এই গবেষণার ফলাফল।