যে ৬ টি শারীরিক লক্ষণকে অবহেলা করা ঠিক নয়


সকল ব্যথাই মারাত্মক কোন সমস্যার কারণে হয় না। কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু ব্যথার লক্ষণের বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এই লক্ষণগুলো দেখা গেলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। এরকম কিছু লক্ষণের বিষয়েই জানবো আজকের ফিচারে।
১। হাত ও পায়ের দুর্বলতা
যদি আপনার হাত, পা বা মুখের পেশী দুর্বল বা অবশ মনে হয় তাহলে তা হতে পারে স্ট্রোকের লক্ষণ। বিশেষ করে যখন তা হয় শরীরের একপাশে। এছাড়াও যদি হাঁটতে সমস্যা হয়, মাথা ঘোরে বা আপনি যদি শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখতে না পারেন তাহলে স্ট্রোক হয়ে থাকতে পারে আপনার। যদি হঠাৎ করেই আপনি ভালোভাবে দেখতে না পান, মাথাব্যথা করে, দ্বিধান্বিত অনুভব করেন অথবা কথা বলতে বা বুঝতে যদি সমস্যা হয় তাহলে দ্রুত সাহায্য নেয়া প্রয়োজন আপনার। যদি প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাওয়ার ৪.৫ ঘন্টার মধ্যেই জমাটবদ্ধ রক্তকে তরল করার বা দূর করার ঔষধ প্রয়োগ করা যায় তাহলে স্ট্রোকের ফলে দীর্ঘমেয়াদী খতির ঝুঁকি কমানো যায়।
২। বুকে ব্যথা
ওয়াশিংটন ডিসি এর একটি মেডিক্যাল গ্রুপের এমডি শিল্পী আগরওয়াল বলেন, যেকোন ধরনের বুকে ব্যথা, বিশেষ করে যদি ব্যথার সাথে সাথে ঘেমে যাওয়া, চাপ অনুভব করা, শ্বাসকষ্ট অনুভব   করা অথবা যদি বমি বমিভাব হয় তাহলে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।  
বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করলে বিশেষ ভাবে সক্রিয় থাকা অবস্থায় এমন অনুভব করাও হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। হৃদরোগ ছাড়াও অন্য আরেকটি মারাত্মক সমস্যা যেমন- জমাটবদ্ধ রক্ত ফুসফুসের ভেতরে নড়াচড়া করলেও হতে পারে বুকে ব্যথা বলেন আমেরিকার ওহাইও এর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ টাইটেলবাম।
যদি আপনার বুকে আঁটসাঁট বা ভারী অনুভূতি হয় এবং কয়েক মিনিটের চেয়ে বেশি সময় থাকে অথবা চলে যায় ও আবার ফিরে আসে তাহলে একে অবহেলা না করে সাহায্য নিন।
৩। পায়ের নিচে পেছনের দিকে ব্যথা এমং নমনীয়তা
এটি পায়ে রক্ত জমাট বাঁধার একটি লক্ষণ হতে পারে, একে ডিপ ভেইন থ্রোম্বোসিস বলে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে যেমন- প্লেনে চড়লে অথবা দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকলে হতে পারে DVT এর  সমস্যা। বিশেষ করে হাঁটলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা অনুভব হয় রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা হলে। এছাড়াও পা ফুলে যেতে পারে, লাল ও নরম হয়ে যায় এবং এই পা টি অন্য পায়ের চেয়ে বড় দেখায়।
ব্যায়ামের পরে পা নরম হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক কিন্তু যদি পা লাল হয়ে ফুলে যায় ও গরম অনুভব হয় অথবা ব্যথা করে তাহলে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
টাইটেলবম বলেন, ‘হোমেন্স সাইন’ এর বিষয়েও আপনার লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। পায়ের  আঙ্গুলগুলো উপরের দিকে উঠাতে গেলে যদি ব্যথা হয় তাহলে তা হতে পারে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে। রক্তের জমাটবদ্ধাতাকে রক্ত চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি করার আগেই চিহ্নিত করা প্রয়োজন, নাহলে জটিল সমস্যা সৃষ্টি হয়।  
৪।  প্রস্রাবের সাথে রক্ত
যদি প্রস্রাবের সাথে রক্ত যায় এবং শরীরের পাশে বা পেছনে যদি ব্যথা হয় তাহলে তা হতে পারে কিডনি পাথরের কারণে। খনিজ ও লবণ জমাটবদ্ধ হয়ে ছোট স্ফটিকের মত গঠন তৈরি হলে তাকে কিডনির পাথর বলে। অনেক সময় কিডনির পাথর প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়, তখন খুবই ব্যথা হয়।
যদি প্রস্রাবের বেগ বৃদ্ধি পায়, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হয় তাহলে তা তীব্র ব্লাডার ইনফেকশন বা কিডনি ইনফেকশনের কারণে হতে পারে। যদি জ্বর আসে তাহলে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করবেন না।  
প্রস্রাবের সাথে রক্ত দেখা গেলেও যদি ব্যথা না করে তাহলে তা হতে পারে কিডনি বা ব্লাডার ক্যান্সারের কারণে। তাই দ্রুত একজন ডাক্তারকে দেখানো প্রয়োজন।  
৫। শ্বাসকষ্ট
শ্বাসকষ্ট দ্রুত নিরাময় করা প্রয়োজন। যদি আপনাকে জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে হয় এবং শ্বাস নেয়ার সময় হুইসেলের মত শব্দ শোনা যায় তাহলে ডাক্তার দেখান।
অ্যাজমা, ফুসফুসের রোগ, তীব্র অ্যালার্জির কারণে বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে হতে পারে শ্বাসকষ্টের সমস্যা।
নিউমোনিয়া বা ব্রংকাইটিসের কারণেও হতে পারে শ্বাসকষ্ট। যদি কাশীর সাথে হলুদ বা সবুজ মিউকাস বের হয় এবং জ্বর থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন দ্রুত।
৬। আত্মহত্যার চিন্তা
যদি আপনার আশা ভঙ্গ হয় বা কোন ফাঁদে আটকে যান বা বেঁচে থাকার কোন কারণ নেই মনে করেন তাহলে আপনার সাহায্য প্রয়োজন। একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে তিনি আপনাকে সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করবেন। তাই একজন মনোবিজ্ঞানীর সাথে কথা বলুন।