মুভি রিভিউঃ কাবিল


জীবন-ছবি আর ছায়াছবি মিলতে দেখেছি বহুবার... 

‘কাবিল’-এর হাত ধরেই জীবনযুদ্ধে হৃতিক রোশন নিজেকে ‘কাবিল’ প্রমাণ করার চেষ্টায় মত্ত ছিলেন৷ পারলেন কি? নিশ্চিতভাবে পেরেছেন! কিছুটা সময় পিছিয়ে গেলে দেখা যাবে, হৃতিকের বিয়ে ভেঙেছে৷ ঠিক সে সময় বলিউডের এক নায়িকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক পরিণত হয়েছে রিভেঞ্জ স্টোরি-তে! আর চোটের ওপর নুনের জ্বালা ‘মহেঞ্জদারো’র মতো সুপারফ্লপ৷ শোনা যায় সঞ্জয় গুপ্তা পরিচালিত ‘কাবিল’-এর সেটে, হৃতিক নাকি এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন ভালো পারফর্ম করার জন্য যে শেষমেশ নির্ধারিত সময়ের আগে ছবির শ্যুটিং শেষ হয়ে যায়৷ আর সেই চিরসত্য, বাচ্চা বিপদে পড়লে, বাবা-মা এসে, ঠিক যেভাবে হাতটা ধরতে পারেন, সারা পৃথিবীতে কারও ক্ষমতায় তা কুলায় না৷ অর্থাত্ হৃতিক যখন সব হারিয়ে বিধ্বত্ব, তখন বাবা রাকেশ রোশন ময়দানে নামলেন ছেলে হৃতিককে নিয়ে৷ হৃতিকও যে সঠিক জিনিসগুলো সাময়িকভাবে চোখে দেখতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন৷ এ-ও একপ্রকার অন্ধ হয়ে যাওয়াই! তাঁর চোখে আঙুল দিয়ে রাকেশই বোধহয় দেখালেন, কোন পথে সাফল্য আসবে৷ ঘুরে দাঁড়াতে লাগবে, ছবি মুক্তির পর শুধুমাত্র তিনটে দিন৷ 

‘কাবিল’ ছবিতে হূতিকের চরিত্র জন্ম থেকে অন্ধ৷ তবে রূপে-গুণে, এমনকী ডান্স ফ্লোরে সে তাক লাগিয়ে দিতে পারে৷ ডাবিং আর্টিস্ট হিসেবে তার জুড়ি মেলা ভার৷ তা হলে আর জীবনসঙ্গী খোঁজার কাজটা বাকি থাকে কেন? জীবনসঙ্গী হিসেবে হৃতিক বেছে নেয় ইয়ামি গৌতমের চরিত্রকে, যে অবশ্য শুরুতে এ কথা বিশ্বাস করতে হোঁচট খায়, যে একজন অন্ধ,আরেক অন্ধের অন্ধকার দূর করতে পারে৷ তবে প্রেম-বিয়ের মরশুম এতটাই উপভোগ্য ছিল, দু’জনের সুখী দাম্পত্য শুরু হয়ে যায়৷ কিন্তু ইয়ামির ওপর নজর পড়ে পাড়ার এক মস্তানের, যে চরিত্রে রয়েছেন রোহিত রায়৷ দু’বার সে ধর্ষণ করে ইয়ামির চরিত্রকে, হৃতিকের চরিত্র যখন দিনের বেলা চাকরি করতে বাইরে যায়, সে সময়৷ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় হৃতিকের সদ্য বিয়ে করা বউ৷ একেবারে প্রত্যাশা মতো পুলিশ কোনওভাবে সহযোগিতা করে না৷ রোহিতের দাদার চরিত্র রণিত রায়, বরং এসে হুমকি দিয়ে যায় হৃতিককে৷ এরপর? হৃতিক কীভাবে প্রতিশোধ নেয়, সেটাই ছবির টানটান দ্বিতীয় ভাগ৷ তার কীভাবে তিনটে লাশ ফেলেও সে পুলিশের হাত থেকে বেঁচে যায়, সেটা ছবির ক্লাইম্যাক্স! 

‘কাবিল’ ছবি ‘ব্লাইন্ড ফিউরি’ আর হালআমলে তৈরি হওয়া দক্ষিণ কোরিয় ছবি ‘ব্রোকেন’ অনুপ্রাণিত, এ নিয়ে ইতিমধ্যেই বহু কথা হয়েছে৷ তবে অত কথা হওয়ার কিছু নেই! কারণ পরিচালক সঞ্জয় গুপ্তা ঠিক এভাবেই ‘অনুপ্রাণিত’ ছবি বানিয়ে এসেছেন এতদিন৷ উতরে গিয়েছেন ‘কাবিল’-এ, সে চিত্র এখন স্পষ্ট৷ কিং খানের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় যে ছবি প্রথম দিন ‘রাইস’-এর অর্ধেক ব্যবসা করেছে দেশে, পরের দিন সেই ছবির সকালের শো প্রায় হাউজফুল সারা দেশে৷ এর কারণ কী, তা নিয়ে মাথা ঘামালে তিনটে উত্তর পাওয়া যাচ্ছে৷ ১৷ অন্ধের চরিত্রে হৃতিক রোশন হাস্যকর নন একেবারেই৷ ২৷ ঊর্বশী রতেলার আইটেম ডান্স ছাড়া চিত্রনাট্য মেদহীন৷ ৩৷ ছবিতে কিছু মুহূর্ত রয়েছে, যা দেখে দর্শকের চোখ দিয়ে জল গড়াতে পারে৷ যেমন মৃত ইয়ামির পা যখন হৃতিকের পিঠ ছুঁয়ে যায়৷ গান ছাড়া ছবিতে খুব একটা কিছু বাড়তি-ও নেই৷ আসলে ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’, ‘যোধা আকবর’ বা ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’র যে হূতিককে দেখে আসলে মুগ্ধ হওয়া যায়, সেই হৃতিক রোশনই বহুদিন পর ধরা দিয়েছেন এই ছবিতে৷ 

পুনশ্চ: ‘রইস’ ভার্সেস ‘কাবিল বক্সঅফিস যুদ্ধে, ‘রইস’ যদি খরগোশ হয় আর ‘কাবিল’ কচ্ছপ, ছোটবেলায় পড়া গল্পটা যদি মিলে যায় আবার, তা হলেও অবাক হওয়ার কিচ্ছুটি নেই!