শরীরের ক্লান্তি দূর করতে



খাবারদাবারের ব্যাপারে বেশ সচেতন। এরপরও অনেকে অল্প কাজ করলেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন৷ এমনকি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও যেন দূর হতে চায় না শরীরের ক্লান্তি৷ পুষ্টিকর খাবার খাওয়া হচ্ছে, নিয়মিত বিশ্রাম—সবকিছুই হয়তো ঠিক আছে, এরপরও এ অবস্থা কেন? এর কারণ খুঁজে পান না অনেকে৷ এ ব্যাপারে অ্যাপোলো হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী জানালেন, নিয়ম না মেনে খাওয়াই এর মূল কারণ৷

১. দেখা যায়, সারা দিন পুষ্টিকর ভালো ভালো খাবার খাচ্ছেন, কিন্তু ব্যস্ততার কারণে সকালের খাবারটা বাদ পড়ে যাচ্ছে খাবার তালিকা থেকে৷ এটাই মূলত শরীরে ক্লান্তি ভর করার মূল কারণ৷

২. রাতে ঘুমানোর কারণে দীর্ঘ সময় শরীর কোনো খাবার পায় না৷ এ জন্য সকালে না খাওয়া হলে দুর্বল হয়ে পড়ে শরীর৷ তাই দিনের অন্য সময় যতই ভালো খাবার খাওয়া হোক না কেন, শরীরের এই দুর্বলতা কিছুতেই কাটতে চায় না৷

৩. এ ছাড়া সকালে খাওয়া হয়নি দেখে অন্য বেলায় বেশি বেশি করে খাবার খাওয়াও শরীর ক্লান্ত করে তোলে। কারণ, রাতে ঘুমানোর পর থেকে সকাল পর্যন্ত অনেকটা সময় দেহযন্ত্র বিশ্রাম নেয়৷ যে কারণে অন্য বেলায় বেশি করে খাওয়ার ফলে খাবার হজম করতে গিয়ে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়ে৷ যার প্রভাব পড়ে শরীরে৷

৪. ডায়েটের নামে খাবার থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া একেবারে ঠিক নয়৷ কারণ, যাঁরা নিয়মিত ভাত অথবা কার্বোহাইড্রেট-জাতীয় খাবার খেয়ে অভ্যস্ত, তাঁরা যখন হঠাৎ খাদ্যতালিকা থেকে এসব খাবার বাদ দেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই শরীর তা মেনে নিতে পারে না, যা শরীর ক্লান্ত হওয়ার আরেকটা কারণ৷ তাই নিয়মিত একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রতিদিন কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে৷

৫. শরীর ক্লান্ত লাগছে ভেবে বেশি বেশি চা-কফি খাওয়াও কিন্তু একেবারেই ঠিক নয়৷ কারণ, এই পানীয়গুলো শরীরের ক্লান্তি তো দূর করেই না, বরং শরীরের ক্লান্তি-বিষণ্নতা আরও বাড়িয়ে তোলে৷ তাই শরীরের ক্লান্তি ভাব দূর করতে নিয়ম মেনে তো খেতে হবেই, এর পাশাপাশি নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা, হাঁটাহাঁটি শরীরকে ফুরফুরে করে তুলতে সহায়তা করবে৷