স্মার্টফোন সুরক্ষার ১০টি উপায়

হাতের মুঠের থাকা স্মার্টফোন (Smartphone)টি এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকের কাজ করতে হতো, কোনো কিছু জানতে এরকাছে ওর কাছে যাওয়া লাগত, এখন তার সবকিছুই ‘স্মার্টফোন (Smartphone)’এর বদৌলতে পাওয়া যাচ্ছে তাদের মুঠোয়। তাছাড়া আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অ্যাকাউন্টের সব তথ্য থাকে অনলাইনেই। সেকারণে সহজের সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে। তাই স্মার্টফোন (Smartphone) ব্যবহারে কিছু টিপস সবারই জানা দরকার। তাহলে জেনে নিন সেই টিপসগুলো:-


১. লকস্ক্রিনে ব্যবহার করুন পিন বা প্যাটার্ন: ফোনের স্ক্রিন কখনওই ‘আনলকড’ অবস্থায় রাখবেন না। কারণ, অন্য কেউ আপনার ফোনের গ্যালারি অন্যরা দেখে ফেলতে পারে। সেকারণে ফোনের লকস্ক্রিনে পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখুন। তবে মনে রাখবেন আপনার নামের পরে ১২৩ বা জন্মদিনের তারিখ মোটেও পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না।

২. প্রয়োজনীয় অ্যাপসগুলোতে পাসওয়ার্ড: আপনার দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার হয় এমন সবগুলো অ্যাপসকে এখন থেকে পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখুন। যেমন আপনার হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক মেসেঞ্জার করে থাকেন।

৩. ডাউনলোড করতে সাবধান: গুগল প্লে স্টোরের মতো কোনও বিশ্বাসযোগ্য সাইট থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করুন। অবশ্যই প্রাইভেসি পলিসি চেক করে অ্যাপ ডাউনলোড করুন। অনেক স্মার্টফোন (Smartphone)ে বিশ্বাসযোগ্য সাইট থেকে অ্যাপ ইনস্টল করা বন্ধ করা থাকে। অনেকেই সেটা ম্যানুয়ালি ‘অন’ করে দেন। সেক্ষেত্রে কিন্তু অতিরিক্ত সতকর্তা অবলম্বন করুন।

৪. অ্যাপ পারমিশন লক্ষ্য করুণ : অ্যাপ ডাউনলোড করে ‘রান’ করানোর আগে দেখে নিন অ্যাপটি আপনার ফোনে কোন কোন পারমিশন চাইছে।

৫. অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার ডাউনলোড করতে ভুলবেন না: হারিয়ে যাওয়া  স্মার্টফোন (Smartphone) খুঁজে পেতে সাহায্য করবে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার। তাই অ্যাপটি ডাউনলোড করতে ভুলবেন না।

৬. গুগল অথেনটিকেশন মেনে চলুন: গুগলের অ্যাপে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন। এতে জি-মেলের পাসওয়ার্ড জানলেও যতক্ষণ না ওটিপি আসছে, কেউ আপনার অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না। আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট কেউ হ্যাক করলে ফোনে মেসেজ চলে আসবে।

৭. ফোনে রাখুন অ্যান্টি-ভাইরাস অ্যাপ: সাধের স্মার্টফোন (Smartphone) কে একটি অ্যান্টি-ভাইরাস অ্যাপ রাখতে ভুলবেন না যেন। গুগলে অনেক ফ্রি অ্যান্টি-ভাইরাস পাওয়া যায়। পকেটে পয়সা থাকলে বাজার থেকে যে কোনও একটি স্মার্টফোন (Smartphone) বান্ধব অ্যান্টি-ভাইরাস অ্যাপও কিনে ফেলতে পারেন।

৮. পাবলিক ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চুলন: পাবলিক ওয়াই-ফাই কখনই ১০০% নিরাপদ নয়। তাই যথা সম্ভব পাবলিক ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজন শেষে ওয়াই-ফাই ‘অফ’ করে দিন।

৯. প্রয়োজন ছাড়া ব্লু-টুথ বন্ধ রাখুন: প্রয়োজন ছাড়া ব্লু-টুথ ব্যবহার না করাই উত্তম। এর মাধ্যমে হ্যাকারদের প্রথম টার্গেট হতে পারেন আপনি।

১০. ডিভাইস রুট করবেন না: ভুলেও স্মার্টফোন (Smartphone)কে ‘রুট’ করবেন না। রুটিংয়ের কয়েকটি লাভ থাকলেও এর ফলে আপনার স্মার্টফোন (Smartphone)ে ম্যালওয়্যার ঢুকতে পারে।

এই সহজ কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই দেখবেন আপনার স্মার্টফোন (Smartphone) সুক্ষরিত থাকবে।