এবার মেয়েদের শেরওয়ানি


শেরওয়ানি কি শুধুই ছেলেদের পোশাক? বিয়ের কনে, যাঁরা একটু অন্য রকম পোশাক পরতে চান, তাঁরা ইদানীং বেছে নিচ্ছেন শেরওয়ানি। ভ্রু কুঁচকে হয়তো ভাবছেন, এ আবার কেমন কথা? মেয়েরা আবার শেরওয়ানি পরে নাকি? তাহলে জেনে নিন, ছেলেদের শেরওয়ানির সঙ্গে মেয়েদের শেরওয়ানির কিছু পার্থক্য আছে। আর আন্তর্জাতিক ফ্যাশনে গত বছর থেকেই এটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

মেয়েদের শেরওয়ানির ভিন্নতা কাটছাঁট আর নকশার ধরনে। দৈর্ঘ্য হাঁটুর নিচে নামানো হয় না। আর নিচের দিকটা হয় ডিম্বাকৃতির (ওভাল)। 
ফিউশন করতে চাইলে সামনে খাটো দিয়ে পেছনে লম্বা ঝুলও দেওয়া যেতে পারে। মানে ছেলেদের শেরওয়ানির মতো এটি একদম সোজা থাকে না। কাঁধ চওড়াই থাকবে, কিন্তু পোশাকটি হবে কলি কাটের।

ফ্যাশন হাউস ওটুর ডিজাইনার তানজিনা নূর খানম বলেন, ‘মেয়েদের শেরওয়ানিতে ওপরের দিকে ভারী কোনো নকশা থাকে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিচের দিকে নকশা করা হয়। এ ছাড়া কলারে আর হাতায় কাজ থাকে। শেরওয়ানির সঙ্গে চাপা প্যান্ট ভালো লাগে। প্যান্টটি প্রিন্টের বা নকশা করা হলেও মন্দ লাগবে না।’
কথা হলো ভায়োলার ফারিহা তাসমিনের সঙ্গেও। তিনি বললেন, ‘শেরওয়ানির সঙ্গে প্যান্ট জমকালো লাগবে৷ চাইলে লম্বা পোশাকের ওপরেও শেরওয়ানি পরা যেতে পারে। আর বিয়ের কনে হলে প্যান্টের বদলে স্কার্টের সঙ্গে শেরওয়ানি পরলে ভালো দেখাবে। সাধারণত বউভাত বা পানচিনি অনুষ্ঠানে এই পোশাক মেয়েরা বেশি পছন্দ করছেন।’
মেয়েদের শেরওয়ানির বোতামে থাকছে কারুকাজ। বোতামের পরিবর্তে পাইপ, পুঁতি বা চেইনও ব্যবহার করা যেতে পারে। পেছনে, পিঠের কাছে ছোট করে কোনো নকশা করা যায়। তবে পেছনের পুরোটা জুড়ে কাজ না করাই ভালো। এতে বেশি জবরজং মনে হতে পারে।
কালো ভেলভেটের শেরওয়ানিতে জমকালোভাব। চুলটাও বাঁধতে পারেন একটু অন্যভাবে, শেরওয়ানির সঙ্গে মানাবে ঐতিহ্যবাহী গয়না
কাতান ও মখমলের কাপড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে মেয়েদের শেরওয়ানি। তার ওপর আবার করা হচ্ছে ভারী কাজ। এর সঙ্গে ওড়নাটা কেমন হলে মানাবে? তানজিনা নূর খানম মনে করেন, পোশাক আর এর সঙ্গে মানানসই গয়না পরে নিলে ওড়না ছাড়াই এটি ভালো লাগবে। আর ফারিহা তাসমিনের মতে, এর সঙ্গে নেট বা মখমলের কাপড় দিয়ে শালের মতো কিছু বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে। নেটের ওড়নার চারপাশে চওড়া লেস লাগালে সুন্দর দেখাবে। যদি কনের পোশাক হয়, তাহলে পুরো ওড়নায় কাজ থাকলেও খারাপ লাগবে না। শুধু বিয়ের কনে কেন? বোন বা ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর বিয়েতে এটি হতে পারে হালের স্টাইলিশ পোশাক।

চাপা কাটের সালোয়ার অথবা স্কার্ট পরতে পারেন শেরওয়ানির সঙ্গে
কেমন হবে সাজগোজ?
এই পোশাকের সঙ্গে সাজ কেমন হবে, তা জানিয়েছেন হেয়ারোবিক্স ব্রাইডালের রূপ বিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন। পোশাকটি জমকালো, তাই সাজ বেশি গাঢ় হবে না। বরং এই পোশাকের সঙ্গে গয়নাগুলো হতে পারে ভারী ও ঐতিহ্যবাহী। তানজিমা শারমিন বলেন, শেরওয়ানি তো রাজা-বাদশার আমলের পোশাক। সেই সময় মানুষ সাজগোজ খুব বেশি করত না। সাজ বলতে তাদের কাছে ছিল কেবল গয়না। ঐতিহ্যবাহী এই পোশাকের সঙ্গে তেমনভাবে সাজলেই বেশি ভালো লাগবে।

শেরওয়ানির ওপরের দিকে হালকা কাজ থাকছে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো কাজই থাকছে না। তাই কয়েক লহরের মালা বা হার এর সঙ্গে ভালো লাগবে। লম্বা আকৃতির ঝুমকা ও চ্যাপটা দুল এর সঙ্গে মানাবে। হাতে ঐতিহ্যবাহী নকশার বালা বা এক হাতে রতনচূর পরা যেতে পারে।

পোশাকের কলার ও কাঁধে নকশা থাকে বলে চুল খুলে না রেখে টান টান করে বেঁধে রাখলেই ভালো। তা না হলে শেরওয়ানির নকশাই তো দেখা যাবে না। বেণি অথবা চুল সামান্য ফুলিয়ে খোঁপা করে নিলে খুব মানাবে।
এই পোশাকের সঙ্গে চাপা প্যান্টই পরুন আর নিচে লম্বা ড্রেস, পেনসিল হিলের সঙ্গে সবচেয়ে মানানসই। জারদৌসি নকশার নাগরা যদি পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়, তাহলে সেটিও পরতে পারেন। আর হাতে ক্লাচ নেবেন নাকি বটুয়া, সেটিও নির্ভর করছে পোশাকের নকশা ও আপনার ব্যক্তিত্বের ওপর।

শেরওয়ানি মাপ দিয়ে বানিয়ে নিলেই ভালো। কারণ ফিটিং ঠিকঠাক না হলে এই পোশাকের সৌন্দর্য পুরোটাই জলে যাবে। কাটছাঁটের কৌশল সাধারণ নয় বলে এটি অভিজ্ঞ দরজির কাছ থেকে বানানোই ভালো। ব্লেজার, কোট ও শেরওয়ানি বানায় এমন দরজির কাছে এই পোশাক বানানোর পরামর্শ দিলেন তানজিনা নূর খানম।