চুল ও ত্বকের সৌন্দর্যে বেসন

Hair-and-skin-beauty-pea 


আমাদের রান্নাঘরের কয়েকটা উপাদানের মধ্যে বেসন হচ্ছে একটি পরিচিত উপাদান। আমরা অনেকেই জানিনা এর কাজ যে শুধু বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহার হয় তা কিন্তু নয়। এর বাইরেও বেসনের রয়েছে নানান উপকারিতা।


আদিকাল থেকেই দাদী-নানীরা তাদের রূপচর্চা এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় ব্যবহার করে আসছেন এই বেসন। বেসন ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। রেগুলার বেসনের ফেইস প্যাক ব্যবহার করার মাধ্যমে ত্বকে পরিবর্তন আনা সম্ভব। ত্বক ফর্সা ও টানটান করতে এবং ত্বকের অবাঞ্ছিত লোমসহ মুখের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন বেসন। তবে আসুন জেনে নেই কিভাবে ব্যবহার করবেন বেসন।
ত্বকের যত্নে :
যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা ৩ চা চামচ বেসন এর সাথে ২ চা চামচ কাঁচা দুধ অথবা ২ চা চামচ টক দই মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমানোর সাথে সাথে ত্বকের ময়লা দূর করে। 
ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার করুন এন্টি পিম্পল বেসন মাস্ক। ২ চা চামচ বেসন, ২ চা চামচ স্যানডালউড পাউডার, এক চা চামচ দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে শুকালে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
ঘাড় এবং আন্ডারআর্মের কালো দাগ নিয়ে বিব্রত অবস্থায় পড়তে হয় অনেককেই। এসব জায়গার কালো দাগ দূর করতে বেসনের একটি প্যাক খুব কার্যকর। বেসন, টক দই এবং কাঁচা হলুদ পরিমাণ মতো নিয়ে ঘাড়ে এবং আন্ডারআর্মের কালো জায়গায় লাগান। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এরপর মুছে সেখানে তিলের তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে কমপক্ষে ৩ বার ব্যবহার করুন। 
মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে অনেক আগে থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে বেসন। মেথি গুঁড়ো এবং বেসনের সাথে পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখের যেসব জায়গায় লোম রয়েছে সেখানে এই মিশ্রণটি লাগান। শুকালে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিদিন এই ফেইস প্যাকটি ব্যবহার করুন। 
ব্রণের কালো দাগ দূর করতে বেসনের সাথে শশা এবং লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের দাগ হালকা হয়ে যাবে। 
চেহারায় মুহূর্তের মধ্যে উজ্জ্বলতা আনতে ২ চা চামচ বেসন, ১ চা চামচ শুকনো কমলার খোসার গুঁড়ো এবং আধা চা চামচ দুধ মিশিয়ে মুখে এবং ঘাড়ে লাগান। লাগানোর সময় মুখে হালকা ভাবে সারকুলার মোশনে ম্যাসাজ করুন। ১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ত্বককে উজ্জ্বল এবং মসৃণ করে। 
চুলের যত্নে :
সুন্দর এবং স্বাস্থ্যজ্জল চুল পেতেও ব্যবহার করতে পারেন বেসন। সেক্ষেত্রে একটি ডিমের সাদা অংশ, ২ চা চামচ বেসন, ১ এক চা চামচ টক দই এবং আধা চা চামচ লেবুর রস ভালো মতো মিশিয়ে নিন। এরপর চুলে লাগিয়ে ৩০-৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই হেয়ার মাস্কটি সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করুন। 
চুল লম্বা এবং চুলের গোড়া শক্ত করতে ৩ চা চামচ বেসন, ২ চা চামচ আমন্ড অয়েল, ৮ চা চামচ টক দই এবং ১ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই প্যাকটি চুলের গোড়ায় ভালো মতো লাগিয়ে ৪০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। আর চুল যদি বেশি শুষ্ক এবং ড্যামেজ হয়ে থাকে তাহলে এর সাথে ভিটামিন ই অয়েল এর ১-২ টি ক্যাপসুল যোগ করতে পারেন। এটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করুন।

আমাদের রান্নাঘরের কয়েকটা উপাদানের মধ্যে বেসন হচ্ছে একটি পরিচিত উপাদান। আমরা অনেকেই জানিনা এর কাজ যে শুধু বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহার হয় তা কিন্তু নয়। এর বাইরেও বেসনের রয়েছে নানান উপকারিতা। আদিকাল থেকেই দাদী-নানীরা তাদের রূপচর্চা এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় ব্যবহার করে আসছেন এই বেসন। বেসন ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। রেগুলার বেসনের ফেইস প্যাক ব্যবহার করার মাধ্যমে ত্বকে পরিবর্তন আনা সম্ভব। ত্বক ফর্সা ও টানটান করতে এবং ত্বকের অবাঞ্ছিত লোমসহ মুখের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন বেসন। তবে আসুন জেনে নেই কিভাবে ব্যবহার করবেন বেসন।