গ্রামে ৫শ’ টাকায় এক এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট দেওয়ার পরিকল্পনা

 

বেসরকারি উদ্যোগে দুই লাখ ইন্টারনেট সংযোগ তৈরির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে গ্রামে ৫শ’ টাকায় এক এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) গতির ইন্টারনেট দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)।


ইতোমধ্যে আইএসপিএবি এ বিষয়ে একটি ‘পরিকল্পনাপত্র’ তৈরি করে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে জমা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কম দামে উচ্চগতির (ব্রডব্যান্ড) ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।

সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল হাকিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেকটা বাধ্য হয়েই আমরা গ্রামে ঢাকার চেয়ে বেশি দামে ইন্টারনেট বিক্রি করি। কারণ  ট্রান্সমিশন (সঞ্চালন) খরচ বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে দুই লাখ সংযোগ দেওয়া হবে, সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে। সেই সংযোগ তৈরি, চালু, ব্যান্ডউইথ পরিবহন, মেরামত, এককালীন চার্জ, ডাটা কানেক্টিভিটি চার্জ ইত্যাদির জন্য ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কোনও চার্জ নেবে না।  মাস ভিত্তিতে কেবল বাজারমূল্যে ব্যান্ডউইথের খরচটাই নেবে। সরকার সংযোগ তৈরি করে দিলে সেখান থেকে আমরা গ্রাহকের দরজা পর্যন্ত (লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি) ইন্টারনেট সেবা দিতে পারব। ট্রান্সমিশন সেবাদানের জন্য যদি এনটিটিএন (নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক) প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচন করা হয় তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানের চার্জ দিতে হবে। আর সেটা করতে হলে আমাদের প্রস্তাবিত দামের চেয়ে কয়েকগুণ দামে ইন্টারনেট প্যাকেজ বিক্রি করতে হবে।’

জানা গেছে, ঢাকার বাইরে বিশেষ করে মফস্বল এলাকায় এক মেগা গতির ইন্টারনেট কিনতে ব্যয় হয় প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা হলো ট্রান্সমিশন খরচ। এই ট্রান্সমিশন খরচ কমানো না হলে কোনওভাবেই ইন্টারনেট খরচ কমানো যাবে না।

আমিনুল হাকিম আরও বলেন, ‘ট্রান্সমিশনের এই পুরো খরচটা চলে যায় এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। হয় সরকারি উদ্যোগে ট্রান্সমিশন পর্বটির সমাধান হোক অথবা এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্রান্সমিশন চার্জ আনুপাতিক হারে কমানো তথা ‘সিলিং’ করে দেওয়া হলে ৫০০ টাকার উদ্যোগ সফলতা পাবে।

জানা গেছে, বর্তমানে আইএসপিগুলো মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ক্যাপাসিটি ব্যবহার করে এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলোর। এর পুরোটাই প্রায় ঢাকা কেন্দ্রিক। অবশিষ্ট অংশ ব্যবহার করছে মোবাইলফোন অপারেটরগুলো।

অভিযোগ আছে, এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণহীন চার্জ আরোপের ফলে অনেক আইএসপি ওভার হেড ক্যাবলের (ঝুলন্ত তার) মাধ্যমে সেবাদান করছে। আইএসপিএবির প্রস্তাব অনুযায়ী জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনও সম্পৃক্ততা না থাকলেও তাদের ব্যবসায়ে কোনও প্রভাব ফেলবে না। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ব্যবস্থার ফলে মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর কোনও সংযোগ নেই। যেহেতু মোবাইলফোন অপারেটরগুলোই এনটিটিএন কোম্পানিগুলোকে প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসা দিয়ে থাকে।

যদিও আইএসপিএবি দুটো বিকল্প প্রস্তাবও সরকারকে দিয়ে রেখেছে। বিকল্প প্রস্তাবে সরকারের গৃহীত উদ্যোগই যদি বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে ২ লাখ কানেক্টিভিটি তৈরি করার খরচ এবং ব্যান্ডউইথের ট্রান্সমিশন চার্জসহ অন্যান্য খরচ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে (যেসব প্রতিষ্ঠানে কানেক্টিভিটি দেওয়া হবে) বহন করতে হবে। ফলে সেইসব প্রতিষ্ঠানে আসা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা অসীমিত সময় ধরে সেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দেওয়া সম্ভব হবে না বা দেওয়া হলেও তা স্বল্প সময়ের জন্য। কারণ এ জন্য তো ওই প্রতিষ্ঠানকে মাসিক বিল দিতে হবে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। প্রস্তাবনায় এই বিষয়গুলো স্পষ্ট কেরে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেসরকারি উদ্যোগে দুই লাখ ইন্টারনেট সংযোগ তৈরির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে গ্রামে ৫শ’ টাকায় এক এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) গতির ইন্টারনেট দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)।