বুলেটপ্রুফ গ্লাসের স্মার্টফোন নিয়ে আসছি: তৌফিকুল ইসলাম

Bulletproof-glass-will-bring-a-smartphone-Toufiqul-Islam 


 বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ সেবায় ২০০৮ সাল থেকে কাজ করছেন মো. তৌফিকুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের নতুন হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ড ডিসিএল মোবাইলের হেড হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। এর আগে চায়নিজ ব্র্যান্ড জিওনি মোবাইল নিয়ে কাজ করার সময় আলোচনায় আসেন তিনি। ক্যারিয়ার জীবনে খুব অল্প সময়ে নিজের যোগ্যতায় মোবাইল ব্যবসার শীর্ষ পদে উঠে এসেছেন তিনি। তাঁর সাফল্যের পেছনের গল্প আর নতুন ব্র্যান্ড ডিসিএল মোবাইল নিয়ে নানান পরিকল্পনার কথা বলেছেন


দেশি অফার: প্রথমে আপনার টেলিকম ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানতে চাই।

মো. তৌফিকুল ইসলাম: বিএসসি শেষ করে প্রথম দিকে আমি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করি। এরপর ২০০৮ সালের শেষের দিকে যোগদান করি এলজি মোবাইলে। এরপর স্প্রিন্ট, আই মোবাইল, মালাটা-তে কাজ করি। ২০১১ সালের জুনে জয়েন করি ওয়াটসন গ্রুপে। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে এসে আমি একই প্রতিষ্ঠানের ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজারে পদোন্নতি পাই। এ বছর আমরা কিছু চায়নিজ মোবাইল ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করি; যেমন কল-মি, সিসিআইটি, লেমন। ২০১৩ সালে এসে এই কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার হই। ২০১৪ সালের শেষের দিকে চায়নিজ ব্র্যান্ড জিওনি যখন বাংলাদেশে আসবে, তখন তারা আমাকে এখানে জয়েন করতে বললো। এখানে প্রথম এক বছরে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যবসা ভালো করতে না পারায় জিওনি আমাকে নাইজেরিয়ার দায়িত্ব দিয়ে দিল। কিন্তু আমার পরিবার রাজি না হওয়াতে আমার আর সেখানে যাওয়া হয়নি। এরপর ২০১৫ সালের ১ নভেম্বরে ড্যাফোডিল মোবাইলে জয়েন করলাম।

দেশি অফার : দেশে এখন প্রচুর লোকাল ও ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ডের মোবাইল রয়েছে। এই মার্কেটে আপনাদের প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকার কতটুকু সম্ভাবনা আছে?

মো. তৌফিকুল ইসলাম: এই প্রতিযোগিতা কিন্তু সব সময় ছিল এবং থাকবে। বর্তমান বাজারে মূলত প্রাইজগেম নিয়ে খেলা হয়। সিম্ফনি-ওয়ালটন যখন মার্কেটে এসেছে তখন মার্কেট খালি ছিল। এখন যদি তারা আসতো তাহলে তাদেরকেও কিন্তু একই ধরনের প্রতিযোগিতায় নামতে হতো। আমরা ফিচার মোবাইল নিয়ে স্ট্র্যাটেজি করছি। আমরা বলছি সাধ্যের মধ্যে সাশ্রয়ী ফোন। ৭০ শতাংশ মার্কেট এখনও ফিচার ফোনের দখলে। আমরা যদি প্রান্তিক পর্যায়ে কম দামে ভালো কোয়ালিটির ফোন দিতে পারি তাহলে অবশ্যই তারা এটা গ্রহণ করবে। আর আমাদের প্রতি যেন তাদের বিশ্বাসের জায়গা থাকে এ জন্য আমাদের সকল ফোনে দুই বছরের ওয়ারেন্টি দিচ্ছি।

দেশি অফার: আপনারা প্রমোশনের জন্য কি করছেন?

মো. তৌফিকুল ইসলাম: আমরা প্রমোশনের জন্য গতানুগতিক কোন কিছু না করে 'শপিং শপ' করবো। এখানে একটি দোকানে একজন বিক্রেতা থাকবে। এরপর আমরা 'আই কন্ট্রাক্ট' করবো। অর্থাৎ একজন ক্রেতা যখন হ্যান্ডসেট কিনতে শপিং মলে যাবে তখন সেখানে গিয়ে সে যেন দেখতে পারে আমাদের প্রোডাক্ট আছে বা ব্র্যান্ডিং করা আছে। এরপর এই ক্রেতা দোকানে গিয়ে প্রোডাক্ট এক্সপেরিয়েন্স করার পর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। আমরা এভাবে একজন গ্রাহককে বাসা থেকে দোকান পর্যন্ত নিয়ে তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়া পর্যন্ত কাজ করবো।

দেশি অফার: লি-ফোন আর ডিসিএল এক সাথে দুটি ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করছে ড্যাফোডিল। দুটি একসাথে থাকার কারণে কি ব্যবসায় কোন প্রভাব পড়ছে না?

মো. তৌফিকুল ইসলাম: লি-ফোন একটি ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ড। তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফোরজি হ্যান্ডসেট দিচ্ছে। বাংলাদেশে যখন ফোরজি চালু হবে তখন মোবাইল অপারেটরদের সাথে লি-ফোন নিয়ে বেশি কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। আমরা গাজীপুর কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে ৩০ হাজার স্কয়ার ফুট জায়গা নিয়েছি। আগামীতে ওখানে ড্যাফোডিল কম্পিউটার ও ডিসিএল মোবাইল অ্যাসেম্বেলিং করার টার্গেট রয়েছে। এর জন্য পেছন থেকে যে সাপোর্ট দরকার হয় সেটা আমাদের দেবে লি-ফোন। ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড মেইন্টেইন করার জন্য আমাদের এই টার্গেট ঠিক করা হয়েছে। 

Bulletproof-glass-will-bring-a-smartphone-Toufiqul-Islam 


দেশি অফার: আপনি অ্যাসেম্বেলিংয়ের কথা বলছিলেন। এ ক্ষেত্রে কি কোন ডেডলাইন আছে আপনাদের? কতদিনে এটা শুরু করতে পারবেন? 

মো. তৌফিকুল ইসলাম: সরকার আমাদের এই জায়গায় কোন সুবিধা দেয়নি। আপনি জানেন আমাদের হ্যান্ডসেট আমদানি করার ওপর ২৩.৭৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয় এয়ারপোর্টে। আবার দেখুন, আমাদের এক্সসরিজ আমাদানি করার ওপর আমাদের কোন কোনটাতে ৩৫ শতাংশও চার্জ দিতে হয়। তাহলে এটা নিয়ে এসে অ্যাসেম্বেলিং কীভাবে করা সম্ভব হবে? এটা করলে দাম বরং আরও বেড়ে যাবে। আমরা জানি এখানে সিম্ফনি, ওয়ালটনের মতো প্রতিষ্ঠান অ্যাসেম্বেলিং করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আমরা অপেক্ষা করছি এবং তাদের সাথেই আশা করছি অ্যাসেম্বেলিং-এ চলে যেতে পারবো। আগামী জুনে আমাদের হাইটেক পার্কে জায়গা হস্তান্তর করার কথা। এরপর আমরা সরকারের দিকে চেয়ে আছি। সরকার আমাদের সাপোর্ট দিলে খুব তাড়াতাড়িই আশা করছি শুরু করতে পারবো।

দেশি অফার: আপনাদের স্মার্টফোন শিগগিরই বাজারে আসছে। সে সম্পর্কে যদি কিছু বলেন।

মো. তৌফিকুল ইসলাম: আমাদের স্মার্টফোন নিয়ে প্রাইজগেমিং কখনই করবো না। আমাদের সর্বনিম্ন হ্যান্ডসেট আসবে টু জিবি র‍্যাম, ১৬ জিবি রম। চায়নিজরা এই প্রোডাক্টকে বলে বুলেটপ্রুভ গ্লাসের স্মার্টফোন। আপনি এই সেট ফেলে দিলে বা একটা দিয়ে আরেকটা স্ক্র্যাচ করার চেষ্টা করলেও গ্লাস ভাঙবে না। আগে যেমন গরিলা গ্লাস ব্যবহার করা হতো এটা এখন সেটা হবে বুলেটপ্রুফ গ্লাস। কিন্তু এটার জন্য আমরা বেশি দাম রাখবো না। সমসাময়িক যেমন দাম হয় সেরকম দাম হবে এই স্মার্টফোনের।

বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ সেবায় ২০০৮ সাল থেকে কাজ করছেন মো. তৌফিকুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের নতুন হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ড ডিসিএল মোবাইলের হেড হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। এর আগে চায়নিজ ব্র্যান্ড জিওনি মোবাইল নিয়ে কাজ করার সময় আলোচনায় আসেন তিনি। ক্যারিয়ার জীবনে খুব অল্প সময়ে নিজের যোগ্যতায় মোবাইল ব্যবসার শীর্ষ পদে উঠে এসেছেন তিনি। তাঁর সাফল্যের পেছনের গল্প আর নতুন ব্র্যান্ড ডিসিএল মোবাইল নিয়ে নানান পরিকল্পনার কথা বলেছেন