স্মৃতির উন্নতিতে সাহায্য করে যে খাবারগুলো

 

বর্তমানের মানুষদের জীবনযাপনের কারণেই তাদের ঘুম কম হয় এবং মাথায় অনেক বেশি চাপ পড়ে। খাদ্য মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকর কাজের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং স্মৃতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে যে খাবারগুলো সেগুলোর বিষয়েই জানবো আজ।


এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড 

ফ্যাট সব সময় স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ নয়, বরং এরা মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, জয়েন্ট এবং আমাদের সাধারণ ভালো থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। EPA or eicosapentaenoic acid এবং DHA or docosahexaenoic acid সমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে। এগুলো পাওয়া যায় স্যামন, মারকেল, টুনা ইত্যাদি মাছে।  DHA এর মাত্রা কম হলে আলঝেইমার্স রোগ হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে EPA ও DHA এর মাত্রা সেরেটোনিন এর উৎপাদনে সাহায্য করে। এই রাসায়নিকটি ভালো মেজাজের জন্য দায়ী। নিরামিষভোজীদের জন্য সয়াবিন, মিষ্টিকুমড়ার বীজ এবং আখরোট ভালো পছন্দ হতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে প্রতিদিন ২২ গ্রাম ফ্যাট গ্রহণ করা উচিৎ। সে অনুযায়ী প্রতিদিন ২ টি আখরোট খাওয়া যেতে পারে। ৩০ গ্রাম সয়াবিন এবং ২ চা চামচ মিষ্টি কুমড়ার বীজ খাওয়াই পর্যাপ্ত হতে পারে।

আস্ত শস্য

মস্তিষ্কের কাজ মসৃণভাবে হওয়ার জন্য শক্তি অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। মস্তিষ্কের ফোকাসের উন্নতির জন্য নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত গ্লুকোজের সরবরাহ হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু গ্লুকোজের উৎস পছন্দ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এর খাবার পছন্দ করতে হবে। আস্ত শস্যের পাউরুটি, পাস্তা এবং অপরিশোধিত চাল পছন্দ করা উচিৎ।

ফল ও সবজি

ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা ফ্রি র‍্যাডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করে। কিছু ফল স্মৃতিশক্তির উন্নতিতেও সাহায্য করে। সাইট্রাস ফল, জাম ফল ইত্যাদিতে অ্যান্থোসায়ানিন নামক যৌগ থাকে যা স্মৃতির উন্নতিতে সাহায্য করে। টমেটো, ব্রকলি এবং লাল মরিচের মত সবজিগুলো মস্তিষ্কের ক্ষয়ের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। টমেটোতে লাইকোপিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ডিমেনশিয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। ব্রোকোলিতে গ্লুকোসাইনোলেটস নামক যৌগ থাকে যা নিউরোট্রান্সমিটার এর ভাঙ্গনকে ধীর গতির করে এবং মস্তিষ্ক ও স্মৃতিকে তীক্ষ্ণ হতে সাহায্য করে। দৈনিক অন্তত ৫-৬ কাপ ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

অন্যান্য খাবার

ভিটামিন ই বয়স্কদের জ্ঞানীয় দক্ষতা কমে যাওয়াকে প্রতিরোধ করে। বাদাম, সবুজ সবজি, ক্যাফেইন, কলা ইত্যাদি খাবারগুলো মস্তিষ্কের জন্য ভালো।

গ্রিনটি, ডার্ক চকলেট এ পলিফেনল থাকে যা একধরণের ভালো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি কোষের মৃত্যু কমিয়ে স্মৃতি শক্তির উন্নতিতে সাহায্য করে। নিজেকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্দীপিত করতে ক্যাফেইন চমৎকার কাজ করে, কিন্তু এর উপর নির্ভরশীল হয়ে যাওয়া উচিৎ নয়।

কলায় ডোপামিন থাকে যা এমন এক ধরনের রাসায়নিক যা মনোযোগ ও প্রেরণার উন্নতিতে সাহায্য করে। এই খাবারগুলো ছাড়াও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখার জন্য ব্যায়াম করাটা অত্যাবশ্যকীয়। নিয়মিত ব্যায়াম করলে মানসিক বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ধীর গতির হবে এবং জ্ঞানীয় কাজের উন্নতি ঘটবে। তাই মস্তিষ্ক বা সম্পূর্ণ শরীরের সুস্থতার জন্য খাদ্যের পাশাপাশি সক্রিয় জীবনযাপন করাও অত্যাবশ্যকীয়।

স্মৃতির উন্নতিতে সাহায্য করে যে খাবারগুলো