ওর অতীত আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে

 


আপু, আমার বয়স ২৬বছর আমার স্বামীর বয়স ৩১ বছর। ৬ মাস আগে আমাদের বিয়ে হয়।।আমার স্বামীর পূর্বে একটি বিবাহ হয়েছিল এবং তাদের ডিভোর্স ও হয়ে যায়। আমাদের বিয়ের সময় ওর পরিবার আমার পরিবারকে  বিষয়টা জানিয়েছিল।আমি তখন সব মেনে নিয়ে ওকে বিয়ে করি। কারণ ভার্সিটি লাইফে ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল। ওকে আমার খুব ভালো লাগতো।আমি খুব খুশি ছিলাম ওকে আমার লাইফে পেয়ে।

যাই হোক, ভালোই চলছিল। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই হঠাৎ আমার মনের মধ্যে একটা সমস্যা অনুভব করতে লাগলাম। সমস্যাটা হলো এরকম যে, "ও আমাকে যেটাই বলতেছে বা আমার সাথে যাই করতেছে তখনই আমার বার বার মনে হতে থাকে যে, ও তো সবই ওর আগের ওয়াইফের সাথে পূর্বেই করে আসছে। আমি তো ওর লাইফের প্রথম কেউ না। নতুন করে তো কিছুই করছেনা ও আমার সাথে।"

আর এটা মনে হলেই আমার মনের মধ্যে খুব অশান্তি হয়, আপু। প্রতিটা মূহুর্তে আমার এই কথাগুলো মনে হতে থাকে।আমাদের প্রাইভেট মূহুর্তে আরও বেশি করে মনে পড়ে। আমি ব্যাপারটা কিছুতেই সহ্য করতে পারছিনা আপু।।  প্রথম প্রথম ভাবনাটাকে পাত্তা দিইনি।।কিন্তু এখন এমন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যে আমি ওকেই সহ্য করতে পারছিনা। বার বার একটা কথাই মনে হতে থাকে যে, "ওর লাইফে নতুন কোনো কিছুই অবশিষ্ট নাই আমাকে দেয়ার মত"। আমি দিন দিন পাগল হয়ে যাচ্ছি আপু। ওর অতীত আমাকে কুড়ে কুড়ে খেয়ে ফেলছে।

আমি আর পারছিনা। মানসিক রোগী হয়ে পড়ছি।। বিশ্বাস করো আপু আমার স্বামী আমাকে আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমিও ওকে খুব ভালোবাসি। কিন্তু এই কারণে স্বামীর সাথে খুব বাজে ব্যবহার করি,অনেক অশান্তি করি। ও খুব কষ্ট পায়, আপু। আর আমার কারণে ও ভালো থাকতে পারছে না। আমার সংসারটা ভাংতে বসছে, আপু।আমরা কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারবনা।কিন্তু এভাবে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি।।আমার স্বামীর নিজেরই ওর অতীত নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই।ও এখন ওর লাইফে আমাকে ছাড়া কিছু ভাবতেই পারেনা।

তাহলে আমার কেনো এমন হচ্ছে, আপু? আগে ওর অতীত মেনে নিতে পারলে এখন কেন পারছিনা?? কেন এই মনগড়া ভাবনাগুলো আমাকে শান্তিতে বাঁচতে দিচ্ছেনা। প্লিজ, আমাকে এই অশান্তি থেকে মুক্ত করো। আমি ওকে কিছুতেই ছাড়তে পারবোনা।।আমি ওর সাথেই থাকতে চাই। এমন কোনো সলিউশন দাও আপু যেন আমি ওর সাথে শান্তিতে বেঁচে থাকতে পারি।এই ব্যপারটা যেন আমার আর না মনে পড়ে যেন ভুলে যেতে পারি।

আপু, প্লিজ আমাকে একটু সঠিক পরামর্শ দিন। প্লিজ হেল্প মি।

প্রশ্নটি আমাদের ই-মেইল করেছেন: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন।

চাইলে আপনিও যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন আমাদের কাছে। আর নিজের নাম গোপন রাখতে চাইলে প্রশ্ন পাঠাতে পারেন পেজের ইনবক্সে, সঙ্গে লিখে দিতে হবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

স্বাস্থ্য হোক বা সৌন্দর্য, খেলা হোক বা সিনেমা, দাম্পত্য বা প্রেম, অফিসের সমস্যা কিংবা আইনি, বিজ্ঞান হোক বা রাজনীতি, স্কুল-কলেজ হোক বা সামাজিক ও পারিবারিক কোনো সমস্যা। যে কোনো সমস্যা লিখে জানান আমাদের। আপনার হয়ে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করবো আমরা।

আপনার প্রশ্ন, বিশেষজ্ঞের উত্তর।  আপনার জন্যই অপেক্ষায় আছি আমরা।



পরামর্শ: প্রথমেই বলি আপু, আপনার ধারণাটি একদম ভুল। না, স্বামীর অতীত আপনাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে না। খাচ্ছে আপনার নিজের প্রবল ঈর্ষাবোধ। হ্যাঁ, প্রবল আর প্রচণ্ড ঈর্ষাবোধই আপনাকে এক মুহূর্তে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে। এতে আপনার স্বামীর কোন দোষ নেই। এবং না, এমন কোন ট্যাবলেট নেই যে আমি আপনাকে লিখে দিব আর খেলেই আপনি এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। মানসিক কষ্ট, যন্ত্রণা ইত্যাদি চট করে শেষ করে ফেলে যায় এমন কোন উপায় নেই।

আমি তাই প্রথমেই বলছি- আপনি যদি নিজের ও স্বামীর ভালো চান ও এই অহেতুক কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে চান, আপনাকে অতি অবশ্যই একজন কাউন্সিলারের কাছে যেতে হবে। ডিভোর্সড কাউকে বিয়ে করার পর এই সমস্যা অনেক মানুষেরই হয়, আপনি ব্যতিক্রম নন। এই ঈর্ষাবোধ থেকে আপনি তখনই বের হতে পারবেন, যখন নিজের মুখোমুখি নিজে দাঁড়িয়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজবেন। একজন কাউন্সিলার আপনাকে সেই কাজটি করতে সহায়তা করবে, নিজের অনুভূতির ওপরে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সহায়তা করবে। এতে সময় লাগবে, কিন্তু লেগে থাকলে কিছুদিন পরই নিজেকে মুক্ত করতে পারবেন অনুভবগুলো থেকে।

কিছুদিন আগে একটি ছেলে এই একই সমস্যার কথা আমাকে লিখেছিল। আপনারা দুজনেই যা বুঝতে পারছেন না, সেটা হচ্ছে- "প্রথম প্রেম" কোন মহিমান্বিত ব্যাপার নয়। হ্যাঁ, নাটক-সিনেমায় যদিও এই প্রথম প্রেম ব্যাপারটিকে খুবই মহিমান্বিত করে দেখানোর চেষ্টা করা হয় বাণিজ্যিক কারণে। কিন্তু সত্য এটাই যে প্রথম প্রেম আসলে অনেকটাই হবার জন্য হওয়া। এই বয়সটাই এমন যে আমরা কারো প্রেমে পড়তে চাই আর সেটাই স্বাভাবিক। বাস্তবতা এটাই যে, কারণ প্রথম প্রেম হবার মাঝে কোন ক্রেডিট নেই। ক্রেডিট আসলে কারো শেষ প্রেম হবার মাঝেই। হ্যাঁ, কৃতিত্ব সেই মানুষটি হবার মাঝে যাকে ভালোবাসার পর আর অন্য কাউকে ভালবাসা যায় না! আর আপনার স্বামীর জীবনে আপনি কিন্তু সেই মানুষটি হয়েছেন, তাই না? প্রথম স্ত্রী তাঁকে অধিকার করতে পারেন নি, আপনি পেরেছেন। এখন আপনি যদি শেষ প্রেম হবার বদলে প্রথম প্রেম হবার জন্যই অস্থির থাকেন, তাহলে নিশ্চিত রুপেই স্বামী আপনাকে ছেড়ে যাবে আর আপনি কেবলই হয়ে রইবেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী! এখন নিজেই ভেবে দেখুন, স্বামীর শেষ ভালোবাসা হতে চান, নাকি অন্য কিছু?

একটা জিনিস জানবেন , এই পৃথিবীতে কিছুই নিশ্চিত নয়। কিছুই চিরকালের নয়। সম্পর্ক ভেঙে ভেঙে কষ্ট পেয়েই তবে মানুষ সত্যিকারের ভালোবাসার সন্ধান পায়। অনেক দোকান ঘুরে যেমন আপনি মনের মত একটি জিনিস কেনেন, তেমনই ভাঙা সম্পর্কের গলি দিয়ে হেঁটেই মানুষ স্থায়ী সম্পর্কের খোঁজ পায়।  "ও আমাকে যেটাই বলতেছে বা আমার সাথে যাই করতেছে তখনই আমার বার বার মনে হতে থাকে যে, ও তো সবই ওর আগের ওয়াইফের সাথে পূর্বেই করে আসছে। আমি তো ওর লাইফের প্রথম কেউনা। নতুন করে তো কিছুই করছেনা ও আমার সাথে।"- এটি অসম্ভব অসুস্থ একটি ভাবনা। কারণ প্রতিটি মানুষের নিজস্ব একটা স্থান থাকে। আপনি যেমন তাঁর প্রথম স্ত্রী হতে পারবেন না, প্রথম স্ত্রীও কখনো আপনার সাথেন আসতে পারবেন না। দুজনেই নিজ নিজ স্থানে থাকবেন আজীবন।

স্বামীর জীবনে আগে কেউ ছিল বলে আজ এমন করছেন, ভাবুন তো যদি আপনার ব্যবহারে স্বামী অতিষ্ঠ হয়ে চলে যায় আর আবারও বিয়ে করে- তখন কীভাবে সহ্য করবেন? তখন তো নতুন স্ত্রীর সাথেও তাই তাই করবে যা আপনার সাথে করেছেন। তখন কীভাবে সহ্য হবে আপনার?

ভাবুন আপু, ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন। উত্তর পেয়ে যাবেন। মনে রাখবেন, ভালোবাসা কেবল পাওয়ার নাম না। ভালোবাসা দেয়ার নাম। আপনি কী পাচ্ছেন সেটা হিসাব করার আগে হিসাব করুন যে আপনি কী দিচ্ছেন। আর হ্যাঁ, একজন কাউন্সিলারের সাথে সম্ভব হলে অবশ্যই দেখা করবেন।

আপু, আমার বয়স ২৬বছর আমার স্বামীর বয়স ৩১ বছর। ৬ মাস আগে আমাদের বিয়ে হয়।।আমার স্বামীর পূর্বে একটি বিবাহ হয়েছিল এবং তাদের ডিভোর্স ও হয়ে যায়। আমাদের বিয়ের সময় ওর পরিবার আমার পরিবারকে বিষয়টা জানিয়েছিল।আমি তখন সব মেনে নিয়ে ওকে বিয়ে করি। কারণ ভার্সিটি লাইফে ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল। ওকে আমার খুব ভালো লাগতো।আমি খুব খুশি ছিলাম ওকে আমার লাইফে পেয়ে।