স্বাস্থ্যসেবায় আর্থিক সহায়তা করবে টনিক: সাজিদ রহমান

Tonic-will-provide-financial-support-to-healthcare-Sajid-Rahman 



 নরওয়েভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনর বিশ্বের ১৩টি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। টেলিনরের মালিকানাধিন অপারেটর গ্রামীণফোন তাদের সবচেয়ে বেশি গ্রাহক নিয়ে বাংলাদেশে সেবা দিচ্ছে। গতবছর ‘টনিক’ নামে মোবাইলে স্বাস্থ্যসেবার একটি কার্যক্রম চালু করেছে অপারেটরটি। প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত বর্ধিত আরও অন্যান্য সেবা নিয়ে গ্রামীণফোনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করেছে টনিক। এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অবস্থা নিয়ে প্রিয়.কমের সাথে কথা বলেছেন টেলিনর হেলথের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিদ রহমান।
 
১৩টি দেশে টেলিনরের ব্যবসা থাকলেও ‘টনিক’ নামের এই সেবা সবার আগে বাংলাদেশে কেন?

সাজিদ রহমান: দেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের মাধ্যমে এ সেবা বাংলাদেশের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বাজারে একটি আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। এটা প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভব। তাই টনিক এখানে কাজ করা শুরু করেছে এটা অবাক করার মতো কোনো বিষয় নয়। আমাদের দেশের বাজার অনেক বড়। এ বাজারের চ্যালেঞ্জগুলো লক্ষ্য করলেই বোঝা যায় এখানে স্টার্টআপের জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে। আমাদের এখানে অনেক মেধাবী তরুণ রয়েছে যারা নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম গড়ে তুলতে চায়। এ সম্পূর্ণ ব্যবস্থাই অনেক দ্রুত বড় হচ্ছে।  আপনাদের কার্য পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই।

সাজিদ রহমান: আমরা স্টার্টআপের মতো করেই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কিন্তু আমরা যে বৈশ্বিক একটি ব্র্যান্ডের অংশ এ ব্যাপারেও সতর্ক। বর্তমানে টনিকে রয়েছে ১২ জন কর্মীর একটি দল। আর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন দেশখ্যাত প্রসিদ্ধ সব ডাক্তারগণ। টেলিনরের জন্য এটা প্রথমবারের মতো কোনো ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম নয়। উন্নয়নশীল ও উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে এ টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে বিস্তৃত পরিধির ব্যাংকিং সেবা। টেলিনর এর আগেও এমন নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে যা এশিয়ার কৃষিশিল্পখাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সহায়তা করবে।

 টনিক কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে?

সাজিদ রহমান: টেলিনরের মালিকানাধীন টনিক একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্যখাত ডিজিটালকরণের মাধ্যমে টনিকের অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। যেখানে প্রায় সব মানুষের হাতেই মোবাইল ফোন রয়েছে সেখানে সমস্যা সমাধানে মোবাইল ফোনকে খুব শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটা কোটি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রাথমিকভাবে টনিক চারটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘টনিক জীবন’। গ্রামীণফোন গ্রাহকদের জন্য একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক কন্টেন্ট পোর্টাল ‘টনিক জীবন’। এর মাধ্যমে অভিজ্ঞ ডাক্তাররা সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ থাকা বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দিবেন। গুগল সার্চ যেমন ভারত, ব্রাজিল ও অন্যান্য দেশে স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য সেবা দিচ্ছে এটা অনেকটা এরকমই।  আপনাদের গ্রাহক সেবা দেওয়ার পদ্ধতি কী?

সাজিদ রহমান: রয়েছে ২৪/৭ হেল্পলাইন যেখানে কাজ করবে ৩০ জন ডাক্তার। এ হেল্পলাইনের মাধ্যমে গ্রাহকরা ডাক্তারের কাছ থেকে দূরে থাকলে কিংবা এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় না থাকলেও প্রয়োজনে চিকিৎসা সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাবেন। গ্রামীণফোনের যেকোনো গ্রাহক ইউএসএসডি *৭৮৯# নাম্বারে ডায়াল করে অথবা www.mytonic.com এই ওয়েবসাইটে গিয়ে কিংবা ৭৮৯ নাম্বারে কল করার মাধ্যমে বিনাখরচে টনিকের সাথে যুক্ত হতে পারবেন। ভারতের প্রাকটো ও লাইব্রেটের মতো অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যারা এ ধরনের সেবার বাইরেও রোগীর অতিরিক্ত যত্নে বাড়তি সব সুবিধা দিচ্ছে টনিকও দিচ্ছে এমন সব সুবিধা। প্রথমত, টনিকের মাধ্যমে গ্রাহকরা বছরে নির্দিষ্ট কিছু হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয়ের ওপর  সর্বোচ্চ চারবার পর্যন্ত আর্থিক পরিসেবা পাবেন।  টনিকে আপনাদের আর্থিক সেবা দেওয়ার যে পদ্ধতি চালু আছে সেটা কীভাবে দিচ্ছেন?

সাজিদ রহমান: উদাহরণস্বরূপ, টনিক ব্যবহারকারীদের জন্য তিন রাত হাসপাতালে থাকার ফি ৫শ’ টাকা হতে পারে। এ আর্থিক পরিমাণ খুব বেশি মনে হচ্ছে না, কিন্তু এখানকার অধিকাংশ মানুষেরই স্বাস্থ্যবীমা করা নেই। অথচ এখানে একজন পোশাক শ্রমিকের ন্যূনতম বেতন প্রতিমাসে প্রায় ৫ হাজার ৩শ’ টাকা। এছাড়াও টনিকের ডিসকাউন্ট সুবিধার মাধ্যমে গ্রাহকরা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা খরচের ওপর ডিসকাউন্ট পাবেন। প্রাথমিকভাবে ৫০টি হাসপাতালের সাথে আমাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। 

 গ্রামীণফোন গ্রাহকদের জন্য আলাদা কোনো সুযোগ থাকছে কী?

সাজিদ রহমান: প্রাথমিকভাবে গ্রামীণফোন গ্রাহকরা বিনামূল্যে টনিক সুবিধা পাবেন। এটা পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। সময়ের সাথে সাথে সেবা গ্রহণ অনুযায়ী এটি পরিশোধযোগ্য সেবা মডেল হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ, এখানে প্রাথমিক সেবা বরাবরই বিনামূল্যে থাকবে কিন্তু বিস্তৃত সেবা পরিশোধযোগ্য হবে। এটা এখন যে অবস্থা আছে সেটা পরিবর্তন ঘটবে না যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন সব ফিচার এ সেবার সাথে যুক্ত না হয়।

নরওয়েভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনর বিশ্বের ১৩টি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। টেলিনরের মালিকানাধিন অপারেটর গ্রামীণফোন তাদের সবচেয়ে বেশি গ্রাহক নিয়ে বাংলাদেশে সেবা দিচ্ছে। গতবছর ‘টনিক’ নামে মোবাইলে স্বাস্থ্যসেবার একটি কার্যক্রম চালু করেছে অপারেটরটি। প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত বর্ধিত আরও অন্যান্য সেবা নিয়ে গ্রামীণফোনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করেছে টনিক। এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অবস্থা নিয়ে প্রিয়.কমের সাথে কথা বলেছেন টেলিনর হেলথের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিদ রহমান।