আপনার নিজের বা সন্তানের কী রাতে দাঁত কিড়মিড় করার অভ্যাস আছে?

 

বেশিরভাগ মানুষেরই দাঁতে দাঁত ঘষার অভ্যাস থাকে। অনিয়মিত দাঁত কিড়মিড় করাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ব্রুক্সিসম (Bruxism) বলে, এর ফলে তেমন কোন ক্ষতি হয়না।  কিন্তু দাঁতে দাঁত ঘর্ষণের বিষয়টি নিয়মিত হলে দাঁতের ক্ষতি হয় এবং মুখের স্বাস্থ্যের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বড়দের তুলনায় ছোটদের হয়ে থাকে বেশি।কেন এই সমস্যাটি হয় এবং এর থেকে মুক্ত হওয়ার উপায়ের বিষয়েই জেনে নিব আজ।

কেন মানুষের দাঁতে দাঁত ঘর্ষণ হয়?

মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তার কারণে হয়ে থাকে দাঁত কিড়মিড় করার সমসাটি। এটি প্রায়ই ঘুমের সময় হয় এবং অস্বাভাবিক কামড়, অনুপস্থিত বা বাঁকা দাঁতের কারণে হয়। নিদ্রাহীনতার মত ঘুমের সমস্যার কারণেও হতে পারে এটি।

আপানার দাঁত কিড়মিড় করা বোঝার উপায়

যেহেতু দাঁত কিড়মিড় করার সমস্যাটি বেশিরভাগ সময়ই ঘুমে থাকাকালীন হয়, তাই বেশিরভাগ  মানুষই এ সম্পর্কে জানেন না। যদিও নিস্তেজ ও নিয়মিত মাথাব্যথা অথবা চোয়ালে ব্যথা হওয়া ব্রুক্সিসম হওয়ার লক্ষণ।

দাঁত কিড়মিড় করা ক্ষতিকর কেন?

কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী দাঁতের পিষণ দাঁত ভেঙ্গে গেলে বা পড়ে গেলে হয়। দীর্ঘস্থায়ী দাঁতের ঘর্ষণের ফলে দাঁত ক্ষয় হয়। এর ফলে দাঁতে ব্রিজ, ক্রাউন, রুট ক্যানাল, ইমপ্লান্ট, পারশিয়াল ডেঞ্চার এমনকি সম্পূর্ণ ডেঞ্চার ও করতে হতে পারে। দাঁত কিড়মিড় করার ফলে শুধু দাঁতেরই ক্ষতি হয় না বরং মাড়ির ও ক্ষতি হতে পারে।

দাঁত কিড়মিড় করা বন্ধ করার উপায়

ঘুমের সময়ে মাউথ গার্ড ব্যবহার করলে দাঁত কিড়মিড় করার সমস্যা থেকে মুক্ত হতে পারেন। এজন্য দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্ট্রেস মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন। ঘুমের সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করুন। এছাড়াও

·         চকলেট, কফি এবং কোকা কোলার মত ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় এড়িয়ে চলুন।

·         অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন

·         খাবার ছাড়া অন্য কিছু কামড়ানোর অভ্যাস থাকলে তা পরিত্যাগ করুন। চুইংগাম এড়িয়ে চলুন।

·         দিনের বেলায় যদি দাঁত পেষার সমস্যাটি লক্ষ্য করেন তাহলে দুই পাটি দাঁতের মাঝে জিভ রাখুন। এভাবে অনুশীলন করলে চোয়ালের পেশী রিলেক্স হবে।

·         রাতে মাড়ির পেশীকে রিলেক্স রাখার জন্য কানের লতির সামনের অংশে উষ্ণ কাপড় রাখুন।

শিশুদের ক্ষেত্রে

আনুমানিক ১৫-৩৩ শতাংশ শিশুর দাঁত কিড়মিড় করার সমস্যা হয়ে থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে দুটি সময়ে হয়ে থাকে এই সমস্যা – তাদের দুধ দাঁত ওঠার সময় এবং স্থায়ী দাঁত ওঠার সময়। এই দুই সেট দাঁত পুরোপুরি ওঠার পর বেশিরভাগ শিশুরই দাঁত কিড়মিড় করার অভ্যাসটি দূর হয়ে যায়।

শিশুদের ক্ষেত্রে রাতের বেলায় দাঁত কিড়মিড় করার সমস্যাটি হতে দেখা যায়। এর সঠিক কারণ জানা যায়নি। হতে পারে অনিয়মিত দাঁতের সারি অথবা উপরের ও নীচের পাটির দাঁতের অসংযোগ, অসুস্থতা, অন্য কারণ যেমন- পুষ্টির ঘাটতি, পিনওয়ার্ম, অ্যালার্জি, এন্ডোক্রাইন গ্রন্থির সমস্যা এবং মানসিক কারণ যেমন- দুশ্চিন্তা ও স্ট্রেস এর কারণে। 

শিশুর দাঁত কিড়মিড় করার কারণে সমস্যা হওয়াটা খুবই বিরল। তবে নিয়মিত দাঁত কিড়মিড় করার ফলে চোয়ালে ব্যথা, মাথাব্যথা, TMD ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। যদি আপনার সন্তান দাঁতে ব্যথার কথা বলে তাহলে তাকে ডেন্টিস্টের কাছে নিয়ে যান। এছাড়াও-

·         শিশুর স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করুন। বিশেষ করে ঘুমাতে যাওয়ার আগে।

·         পেশীকে শিথিল করার জন্য ম্যাসাজ ও স্ট্রেচিং করান।

·         পর্যাপ্ত পানি পান করান। ডিহাইড্রেশনের কারণেও দাঁতে দাঁত ঘষার প্রবণতা হতে পারে।

·         দন্ত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

বেশিরভাগ মানুষেরই দাঁতে দাঁত ঘষার অভ্যাস থাকে। অনিয়মিত দাঁত কিড়মিড় করাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ব্রুক্সিসম (Bruxism) বলে, এর ফলে তেমন কোন ক্ষতি হয়না। কিন্তু দাঁতে দাঁত ঘর্ষণের বিষয়টি নিয়মিত হলে দাঁতের ক্ষতি হয় এবং মুখের স্বাস্থ্যের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বড়দের তুলনায় ছোটদের হয়ে থাকে বেশি।কেন এই সমস্যাটি হয় এবং এর থেকে মুক্ত হওয়ার উপায়ের বিষয়েই জেনে নিব আজ।