সব খাবার কী কাঁচা খাওয়া ভালো?

What-s-good-to-eat-raw-food
 

সন্তোষজনক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো রান্নার অভ্যাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি অভ্যাস। স্বাস্থ্যকর রান্নার অভ্যাসের সাথে আসলে অন্য কিছুর তুলনা হয়না। নির্দিষ্ট কিছু খাবার কাঁচা খাওয়া ভালো নাকি রান্না করে খাওয়া ভালো এই বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন বেশিরভাগ মানুষ। বর্তমানে কাঁচা খাবার খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই এখন কাঁচা খাবার খাওয়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। তবে সব খাবার কাঁচা খাওয়া ভালো নয়। কোন খাবারগুলো কাঁচা খাবেন আর কোন খাবারগুলো রান্না করে খাওয়া উচিৎ সে বিষয়ে পুষ্টিবিদের পরামর্শ জেনে নিই চলুন।


ফল


অন্যকোন উপাদানের সাথে রান্না করার চেয়ে ফল কাঁচা খাওয়াই ভালো, যেহেতু তারা বাড়তি  ক্যালোরি যোগ করে। ফলের জুসের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়া উচিৎ কারণ ফলের জুস শরীরে চিনির মাত্রা বৃদ্ধি করে। দই এর মিষ্টতা বৃদ্ধির জন্য ফল যোগ করতে পারেন, এছাড়াও বাদাম ও শুকনো ফল ও মিশিয়ে নিতে পারেন।

মটরশুঁটি 


অঙ্কুরিত বা রান্না করা মটরশুঁটি হজমে সাহায্য করে এবং ভিটামিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। কাঁচা মটরশুঁটি হজম করা কঠিন।

সবজি


সবজির ভিটামিন ঠিক রাখার জন্য বেশী পানিতে সিদ্ধ করার পরিবর্তে ভাপে সিদ্ধ করুন। সবজি পানিতে সিদ্ধ করার সময় পানিতে দ্রবণীয় বি ও সি ভিটামিন এবং অনেক খনিজ উপাদান বের হয়ে যায়। এ কারণে ভাপে সিদ্ধ করা ভালো। চর্বির অনুপাতকে চেক দেয়ার জন্য স্টার ফ্রাই (হালকা তেলে নেড়েচেড়ে নেয়া) করে খেতে পারেন সবজি। মাইক্রোওয়েভে রান্না করলে ভিটামিন বি ৬ নষ্ট হয়ে যায় তাই সিদ্ধ বা ফ্রাই করে খান।

মাছ, মাংস বা মুরগী


এ ধরনের প্রোটিনগুলো স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গ্রহণ করার জন্য বেক করে, গ্রিল করে বা ফ্রাই করে খেতে পারেন। মাংস গ্রিল করার সময় খুব অল্প তেল ব্যবহার করা প্রয়োজন। কাঁচা মাছ পরজীবীর উৎস বলে কাঁচা গ্রহণ করা ঠিক নয়। মাংস ও সবজি অতিরিক্ত তাপে ভিটামিন বি, সি এবং ই নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া কাঁচা ডিম খাওয়া এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ। কারণ কাঁচা ডিমে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে যার মাধ্যমে সংক্রমণ হতে পারে। রান্না করলে এরা ধ্বংস হয়।

শস্য


রক্তের চিনির মাত্রা এবং শক্তির মাত্রা ঠিক রাখার জন্য আস্ত শস্য রান্না করে খাওয়া উচিৎ। পরিশোধিত ময়দা গ্রহণ এড়িয়ে চলুন। এটি অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান নষ্ট করে দেয়। এটি ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং ফ্যাট বৃদ্ধি করে। এছাড়াও চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত শর্করা খাওয়া এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ।

রান্নার কিছু টিপস


-      ফ্রাই করলে খাবারে বিষাক্ততা সৃষ্টি হয় বলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

-      রান্নার জন্য সবচেয়ে ভালো হচ্ছে ধানের তুষ থেকে তৈরি তেল বা রাইস ব্রেন অয়েল, বাদাম তেল এবং অলিভ অয়েল। এরা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকতে সাহায্য করে।

-      সয়াতে ফাইটোইস্ট্রোজেন থাকে বলে নারী হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পুরুষদের নিয়মিত সয়া পণ্য গ্রহণ করাকে এড়িয়ে যেতে বলা হয়।

-      লবণের ব্যবহার সীমিত রাখা উচিৎ। রক্তচাপ এবং পানির আবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এটি। গোলমরিচ এবং তুলসি, সেলেরি ও অরিগেনো এর মত ভেষজগুলো যুক্ত করুন আপনার খাদ্যতালিকায়।

সন্তোষজনক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো রান্নার অভ্যাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি অভ্যাস। স্বাস্থ্যকর রান্নার অভ্যাসের সাথে আসলে অন্য কিছুর তুলনা হয়না। নির্দিষ্ট কিছু খাবার কাঁচা খাওয়া ভালো নাকি রান্না করে খাওয়া ভালো এই বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন বেশিরভাগ মানুষ। বর্তমানে কাঁচা খাবার খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই এখন কাঁচা খাবার খাওয়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। তবে সব খাবার কাঁচা খাওয়া ভালো নয়। কোন খাবারগুলো কাঁচা খাবেন আর কোন খাবারগুলো রান্না করে খাওয়া উচিৎ সে বিষয়ে পুষ্টিবিদের পরামর্শ জেনে নিই চলুন।