অতিরিক্ত ক্লান্তি যেভাবে আপনাকে অসুস্থ করে তোলে



মৌসুমি সর্দি-কাশির হাত থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে চান? নতুন গবেষণা বলছে, এর জন্য সবচাইতে ভালো উপায় হচ্ছে ঘুম।
 
আমরা ইতোমধ্যেই জানি ঘুমের অভাবে অসুস্থ হবার একটা সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন স্কুল অফ মেডিসিনের নিউরোলজিস্ট এবং স্লিপ স্পেশালিস্ট নাথানিয়েল ওয়াটসন বলেন, নতুন এই গবেষণা ব্যাপারটাকে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করে।
 
আমাদের ইমিউন সিস্টেম বেশ কিছু জেনেটিক প্রক্রিয়ার দ্বারা পরিচালিত। ঘুম ভালো না হলে এসব প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইনফেকশন এবং রোগ প্রতিরোধ করতে এই প্রক্রিয়াগুলো কাজ করে, জানা যায় নতুন গবেষণায়। অর্থাৎ আমাদের ইমিউন সিস্টেমের যেভাবে কাজ করার কথা, ঘুম কম হলে সেভাবে কাজ করতে পারে না। “মানুষের স্বাস্থ্য এবং শরীরের জন্য ঘুম কতটা জরুরী তার শক্ত প্রমাণ এই গবেষণা,” বলেন ওয়াটসন।
 
গবেষকেরা ১১ জোড়া আইডেন্টিক্যাল টুইন ব্যবহার করেন। জোড়ার একজন কমপক্ষে ছয় ঘন্তা ঘুমায় প্রতি রাত্রে, আরেক জন প্রতি রাত্রে তার টুইনের চাইতে এক ঘন্টা কম ঘুমায়। টুইনদেরকে ব্যবহারের ফলে পরিষ্কার ফলাফল পাওয়া যায় এই গবেষণায়। কারণ আমাদের ঘুমের চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ জেনেটিক কারণেই নির্ধারিত হয়। তাই তুলনা করার জন্য টুইনদের ওপর গবেষণার তুলনা নেই।
 
প্রত্যেককে একটি মুভমেন্ট ট্র্যাকার স্লিপ মনিটর পরে থাকতে হয় দুই সপ্তাহ, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় প্রতি জোড়ার একজন ওপর জনের চাইতে এক ঘন্টা কম ঘুমায়। এ সময়ের শেষে সবার ব্লাড স্যাম্পল নেওয়া হয়। এ থেকে দেখা যায় যে জন কম ঘুমায় তার ইমিউন সিস্টেম অন্যজনের চাইতে বেশী সক্রিয় ছিল। যারা কম ঘুমায় তাদের শরীরে প্রোটিনের পরিমাণও ছিল কম। তাদের ইমিউন সিস্টেম যথেষ্ট সক্রিয় না থাকার কারণে তাদের অসুস্থ হবার ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে জানান ওয়াটসন।
 
এ গবেষণায় ডায়াবেটিস, বিষণ্ণতা এবং এ ধরণের মানসিক সমস্যা, স্লিপ ডিজর্ডারে ভোগা মানুষদের নেওয়া হয়নি। এছাড়াও শিফটে কাজ করেন এমন মানুষ, ধূমপায়ী, মাদকাসক্ত এবং মদ্যপায়ীদেরকেও এই গবেষণার বাইরে রাখা হয়।
 
গবেষণার শেষ কথা এটাই, যে যথেষ্ট সময় ধরে এবং ভালোভাবে ঘুমানোটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরী। ঘুম কম হলে ইনফেকশনের ঝুকির পাশাপাশি দিনের বেলা কর্মক্ষমতা কম হওয়া, বিষণ্ণতা, হাইপারটেনশন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবার সমস্যাগুলোও দেখা দেয়।