গণহত্যা নিয়ে পাঁচ ছবি !


গণহত্যা হলো পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট একটি জাতি বা গোষ্ঠীর মানুষকে নির্বিচার হত্যা করা। এ বছর থেকে ২৫ মার্চ দিনটিকে জাতীয়ভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে শুরু হওয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞে প্রাণ দিয়েছে ৩০ লাখ বাংলাদেশি। আজ থাকছে পৃথিবীর পাঁচটি গণহত্যা নিয়ে নির্মিত পাঁচটি চলচ্চিত্রের (কাহিনি ও প্রামাণ্যচিত্র) কথা

দ্য কিলিং ফিল্ডস
কম্বোডিয়ার গণহত্যা নিয়ে ছবিটি নির্মিত হয় ১৯৮৪ সালে। আমেরিকান সাংবাদিক সিডনি শনবার্গের অনুবাদক হিসেবে কাজ করছিলেন কম্বোডিয়ার ডিথ প্র্যান। সিডনি ও ডিথ কম্বোডিয়ায় শাসক দল খেমাররুজের শাসনামলে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধান করছিলেন। পল পটের নেতৃত্বাধীন এ দলের শাসনামলে সংঘটিত হয় বিংশ শতাব্দীর অন্যতম নৃশংস গণহত্যা। খেমাররুজ অনুসারীরা ওই সময় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে জনগণের শিক্ষিত অংশকে। চিকিৎসক, শিক্ষক ও প্রকৌশলীরা ছিলেন অন্যতম লক্ষ্য। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সালে সংঘটিত এ গণহত্যায় প্রাণ দিয়েছিল ১৫ থেকে ৩০ লাখ মানুষ।

সালভাদর
১৯৮০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ঠান্ডা যুদ্ধের বলি হয়েছিল এল সালভাদরের ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ। মধ্য আমেরিকার এ দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলে প্রায় ১২ বছর, ১৯৭৯-এর শেষ দিক থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত। সোভিয়েতপন্থী পাঁচটি দলের প্ল্যাটফর্ম ফারাবুন্দো মার্তি ন্যাশনাল লিবারেশনাল ফ্রন্টের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় দেশটির মার্কিনপন্থী সামরিক সরকার। ১৯৮৬ সালে অলিভার স্টোন এ গণহত্যা নিয়ে নির্মাণ করেন সালভাদর ছবিটি।


শিন্ডলার’স লিস্ট
১৯৯৩ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গ এ ছবিটি নির্মাণ করেন। বলা হয়ে থাকে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে বানানো সেরা ছবিগুলোর একটি এ ছবি। ছবিতে দেখানো হয়, হিটলারের নাৎসি বাহিনী কীভাবে ইহুদিদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছিল। অস্কার শিন্ডলার নামের জার্মান এক ব্যবসায়ী কীভাবে এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, তা নিয়ে আবর্তিত হয় ছবির কাহিনি।


হোটেল রুয়ান্ডা
রুয়ান্ডার গণহত্যা নিয়ে ২০০৪ সালে টেরি জর্জের এই ছবি মুক্তি পায়। ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডার হুতু ও তুতসি সম্প্রদায়ের মধ্যকার উত্তেজনা গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়। প্রায় ৮ লাখ মানুষ এ গণহত্যার শিকার হয়। জাতিবিদ্বেষ ও গণমাধ্যমের উত্তেজনাপূর্ণ প্রচারণা দিয়ে হুতুরা নির্বিচারে তুতসিদের হত্যা করছিল। এর মধ্যে একজন হুতু, যার স্ত্রী একজন তুতসি, কীভাবে মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, সে গল্পই দেখা যায় ছবিতে।

সেই রাতের কথা বলতে এসেছি
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর বিশেষ লক্ষ্য ছিল ছাত্র ও বাঙালি পুলিশ। সে রাতে পাকিস্তানিরা কীভাবে গণহত্যা চালিয়েছিল ঢাকায়, তার দলিল এ প্রামাণ্যচিত্র। ২৫ মার্চ শুরু হওয়া নিধনযজ্ঞ চলেছে পরের নয় মাসজুড়ে, সারা দেশে। কাওসার চৌধুরী নির্মিত এ ছবি মুক্তি পেয়েছিল ২০০১ সালের ২৫ মার্চ। ছবিতে মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত অপারেশন সার্চলাইটই প্রাধান্য পেয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার ছবিটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিলে পরিণত করেছে।