নতুন চাকরিতে যে ভুলগুলো হয়ে থাকে

here-are-mistakes-that-new-job 

নতুন চাকরিতে প্রবেশের পর শুরুতে অনেকেই খুব নার্ভাস থাকেন। অফিসে অবস্থান মজবুত করতে সবারই চেষ্টা থাকে তার সবচেয়ে ভালো কাজটি দেওয়ার। চাকরির প্রথম দিকে নিজেকে মানিয়ে নিতে কয়েক সপ্তাহ লেগেও যায়! কেননা কাজের ধরনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়। অফিসে কাজের রুটিনও তৈরি হয়ে যায় এসময়েই। সেই কারণে, প্রথম কয়েকটি সপ্তাহ অনেকের কাছেই বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে হয়। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে যেয়ে প্রায় অনেকেই স্বাস্থ্যের কথা ভুলে যান। গড়ে তোলেন বদঅভ্যাস।

নতুন চাকুরেদের এমনই সেরা ভুলগুলো নিয়ে এবারের প্রতিবেদন। মিলিয়ে দেখুন নিজের নতুন চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতার সাথে মেলে কিনা!
১. নতুন অবস্থায় কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেকেই দুপুরে না খেয়েই কাটান। এটা ঠিক, সময় মতো শেষ না করলে কাজ ক্রমেই জমতে থাকবে। তাই বলে এই নয় যে দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজের গুরুত্বপূর্ণ দেহটির কথা ভুলে যাবেন। নিজের প্রতি এমন দায়িত্বহীনতা কর্মস্থলেও অনেকের চোখে ধরা পরবে। কাজেই এই বদঅভ্যাসকে পরিত্যাগ করুন। খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই এক জরিপে দেখা গেছে, ২০ শতাংশেরও কম মানুষ নিয়মিত দুপুরের খাবার খেয়ে থাকেন। ৩৯ শতাংশ মানুষ নিজের টেবিলেই খাবার খান। আর বাকি ২৮ ভাগ মানুষ দুপুরে খাবারই খান না।
২. দুপুরের খাদ্য ঘাটতি মেটাতে অনেকে আবার পরে ভারী নাস্তা করেন।  এটাও স্বাস্থ্যকর নয়। অবশ্যই দুপুরে পরিমাণ অনুযায়ী খাবার খাওয়া উচিৎ। এবং তা সবুজ শাক সবজি সমৃদ্ধ হওয়া উত্তম। এছাড়া মিষ্টি কোমল পানীয় ত্যাগ করে শুধু পানি পান করুন।
৩. যারা ভাবছেন, কর্মস্থলে টেবিলেই দুপুরের খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যের প্রতি খুব সুবিচার করছেন... একদিক দিয়ে ভুল করছেন তারাও। কেননা সারাদিন টেবিলে একভাবে বসে থাকলে কোমর ব্যাথা, পেশিতে টানসহ শরীরে নানা ধরনের সমস্যার জন্ম নিতে পারে। ভুরিটার কথা আর নাই বললাম!
৪. দুপুরে খাদ্য গ্রহণ না করা যেমন নিজের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়, ভালো নয় প্রতিষ্ঠানের জন্যও। কেননা স্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে চলার ফলে শরীর যে কোন সময় বিদ্রোহ করতে পারে। প্রতিষ্ঠানের জন্য সুস্থ অবস্থায় যেমন কাজ করবেন, অসুস্থ অবস্থায় নিশ্চয়ই তা করতে পারবেন না! এমন কি, শরীর বেশি খারাপ হলে তো কাজেই যেতে পারবেন না। একবার ভাবুন, সে সময় আপনার কাজগুলো কে করে দেবে?
৫. যতো কাজই থাকুক, মাঝে চেয়ার ছেড়ে একটু উঠুন। সব কিছু ভুলে বাইরে এসে বুক ভরে শ্বাস নিন। এতে কাজের গতি দ্রুত হয়। প্রায় ৮৫ ভাগের বেশি চাকরিজীবীর মতে প্রতিদিন কাজের মাঝে একটু অবসর তাদের কাজের জন্যে বেশ উপকারী। গবেষণাও বলছে, গভীরভাবে ডুবে থাকলেও কাজের মাঝে একটু বিরতি মনোযোগ বৃদ্ধি করে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেও ভূমিকা রাখে। কাজেই দুপুরে ঠিক মতো খাওয়া প্রয়োজন.. তা মস্তিস্ক ও শরীর উভয়ের জন্যই।
৬. দুপুরে খাবারের ফাঁকে অফিস কলিগদের সাথে আলাপ করতে পারেন। এতে তাদের সাথে সম্পর্ক যেমন বাড়বে, তেমনই আপনিও ক্রমেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। একই সাথে পুরনো কলিগদের সাথেও যোগাযোগ চালিয়ে যান। গবেষকদের মতে, অবসরের এই আলাপচারিতায় অনুপ্রেরণা এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে। 
৭. একনাগারে কাজ করার পর মন ও শরীর বিশ্রাম চায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের পর নতুন অফিসে কারো অতিরিক্ত দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় থাকা বিপদজনক অভ্যাস। গবেষণায় দেখা গেছে, কাজ শেষ করে দেরি করে অফিস ত্যাগ করায় হার্টে অসুখ দেখা দিতে পারে। এমনকি হার্ট এ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। নতুন অফিসে তিন দিনের কাজ দুই দিনে সেরে ফেলার ঝুঁকি যারা দেখান, একসময় তারাই বেশি চাপে পড়েন। কেননা, বেশিদিন এই অভ্যাস তারা বজায় রাখতে পারেন না।
৮. বেশি বেশি কাজ দেখিয়ে যোগ্যতা দেখানোর মেকি মনোভাব কলিগদের কাছেও নিজেকে হেয় করে দেয়। এক্ষেত্রে তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম দিতে পারে। ভালো কৌশল হলো, নতুন অফিসে যোগদানের পর কাজের গতি এবং পরিবেশ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা। কলিগদের কাছ থেকে অফিসের প্রচলিত সময়সীমা জানা। সবাই যেভাবে অফিসের সময় মানে, সেভাবে মানা। যদি আপনার কাজ সম্পাদনের দুশ্চিন্তা থাকে তবে অফিস শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আসুন এবং সাধারণ সময়ের চেয়ে একটু বেশি থাকুন। তবে তা অবশ্যই ঘন্টাখানেক হবে না। আবার বাসায় কাজ নিয়ে যাওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এতে অফিসের প্রভাব পরিবারেও ছড়ায়। নিত্যকার্যসূচিতেও ঘটে ছন্দপতন।
৯. নতুন চাকরিতে দায়িত্বের দুশ্চিন্তা একটু বেশিই থাকে। তাই অনেকে গভীর রাতেও অফিসের মেইল চেক করে থাকেন। স্মার্ট ফোনের যুগে এই কাজ এখন অনেক সহজ। এমনকি, বেশিরভাগ চাকরিজীবী ছু্টিতে থাকলেও অফিসের মেইল দেখা তাদের চাইই চাই। শ্রমজীবীদের নিয়ে মোবাইল সফটওয়্যার সংস্থা ‘গুড টেকনোলজি’র এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫০ ভাগই রাতে বিছানায় শুয়ে মেইল দেখে থাকেন।
১০. ছুটিতে থাকা চাকরিজীবীদের উপর আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের আরেক জরিপে দেখা গেছে, যারা ভ্রমণে থাকেন, তাদের ৪৪ ভাগ প্রয়োজন না থাকলেও অফিসের মেইল চেক করেন। আর অসুস্থতার কারণে যারা ছুটিতে থাকেন, তাদের অন্তত ৫৪ ভাগই বিছানায় শুয়েই এই কাজ করেন। গবেষকেরা বলছেন, এই ধরনের অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর। শুধু তাই নয়, এর ফলে উৎপাদনশীলতাও হ্রাস পায়।
সবচেয়ে ভালো হলো, অফিসের কার্যদিবসে মন খুলে কাজ করুন। এবং তা সেখানেই শেষ করুন। শরীর ও মন হালকা করে পরদিন নতুন উদ্যোমে আবার কাজ শুরু করুন। নিখুঁত ও চাপমুক্ত সঠিক কাজই বরং আপনার পদোন্নতির জন্য সহায়ক হবে। স্বাস্থ্য ও চাকরি উভয়েরই হবে কল্যাণ।

নতুন চাকরিতে প্রবেশের পর শুরুতে অনেকেই খুব নার্ভাস থাকেন। অফিসে অবস্থান মজবুত করতে সবারই চেষ্টা থাকে তার সবচেয়ে ভালো কাজটি দেওয়ার। চাকরির প্রথম দিকে নিজেকে মানিয়ে নিতে কয়েক সপ্তাহ লেগেও যায়! কেননা কাজের ধরনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়। অফিসে কাজের রুটিনও তৈরি হয়ে যায় এসময়েই। সেই কারণে, প্রথম কয়েকটি সপ্তাহ অনেকের কাছেই বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে হয়। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে যেয়ে প্রায় অনেকেই স্বাস্থ্যের কথা ভুলে যান। গড়ে তোলেন বদঅভ্যাস।