রানা প্লাজা: শিল্পী-কলাকুশলীদের জন্যও দীর্ঘশ্বাস?

২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। হাইকোর্ট, আপিল বিভাগের চৌকাঠ ঘুরে চূড়ান্ত রায় আসে। রায়টা পরিচালক-প্রযোজকদের পক্ষে। দীর্ঘ চড়াই-উৎরাইয়ের পর প্রশান্তির বাতাস লাগে ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক-পরিচালক-শিল্পীদের মনে।


রানা প্লাজা: শিল্পী-কলাকুশলীদের জন্যও দীর্ঘশ্বাস? 


তবে এ বাতাসটি বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেদিন বিকালেই থেমে যায় বাতাস। তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। যেখানে লেখা ছিলো এমন- ‘সিভিল রিভিউ পিটিশন নং ১৯১/২০১৫ শুনানিকালে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণের আলোকে ফিল্ম সেন্সর আপিল কমিটি কর্তৃক রানা প্লাজা নামক চলচ্চিত্রের আপিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত সেন্সর সার্টিফিকেট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো এবং রানা প্লাজা নামক চলচ্চিত্র সমগ্র বাংলাদেশে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো।’
ব্যস ফের থমকে যায় মুক্তির সব প্রক্রিয়া।

ছবি সংশ্লিষ্টদের ইচ্ছে ছিল, পরবর্তী ঈদেই মুক্তি দেওয়ার। কিন্তু এরপর আরও কয়েকটি ঈদ গেছে। এসেছে ছবিটি নির্মাণের প্রেক্ষাপট সাভারের রানা প্লাজা বিপর্যয়ের দিনটি। ২০১৬ পেরিয়ে এখন ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল, সাভারের রানা প্লাজার সে বিভিষিকাময় ঘটনার আরও একটি বছর পার হতে চলল কিন্তু কোনও সুরহা হয়নি ছবিটির!

চলচ্চিত্রটির হালহকিকত জানতে কথা হয় পরিচালক নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘খুব কষ্টে আছি। এটা আমার জন্য যন্ত্রণার। বলা যায় নিঃস্ব হতে চলেছি, এ ছবিটি নিয়ে। কার কাছে যাইনি! আদালতের রায় আমাদের পক্ষে থাকা স্বত্ত্বেও দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি।’



ছবিটি নিয়ে এখনও মুক্তির কোনও আলো জ্বলেনি, পড়ে আছে অন্ধকারেই। পরিচালক জানালেন, তথ্যমন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা দুঃসাহসিক নারী রেশমা- সবার সঙ্গেই কথা বলেছেন এর পরিচালক ও প্রযোজক।

নজরুল জানালেন, বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন ছবিটি দেখানোর জন্য। যেন তিনি দেখে সুপারিশ করেন, ছবিতে আসল ঘটনা কী আছে। গিয়েছেন রেশমার কাছেও। ছবিটি নিয়ে তার কাছে অনুমতিও নিয়েছেন। যোগাযোগ করেছেন তথ্য মন্ত্রণালয়ে। কোনও বিহিত হয়নি।

পরিচালক বললেন, ‘ছবিতে এমন কোনও দৃশ্য নেই যেটা দেশবিরুদ্ধ। আমি  সিদ্দিকুর রহমান (বিজিএমইএ) ভাইকে অনুরোধ করেছি এটা দেখার। তিনি বললেন, আমি নাকি দেড় ঘণ্টার সংঘর্ষ দেখিয়েছি। এটা ঠিক নয়। ছবিতে গ্রামের ছেলে-মেয়ের প্রেম তুলে ধরা হয়েছে। গ্রাম উঠে এসেছে, প্রেম উঠে এসেছে। আর রানা প্লাজার দুর্ঘটনার দৃশ্য আছে মাত্র ১৮ মিনিট। আমরা শুধু সেদিনের মানবিকতা ও বিভিষিকা তুলে ধরতে চেয়েছি।’



রবিবার (২৩ এপ্রিল) ছবিটি আটকে থাকার কারণ খুঁজতে বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলা ট্রিবিউন। কিন্তু প্রত্যেকেই দায় এড়িয়ে গেছেন। বলেছেন, ‘নো কমেন্টস’।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র বিভাগে যোগাযোগ করেও এই বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিচালকের মতোই ছবিটি মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন এর শিল্পীরা। আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের প্রতিও।

ছবির অভিনেতা সায়মন সাদিক বলেন, ‘শিল্পীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকে। এ জন্য ছবিটি আমি করেছিলাম। ছবিতে কোনও রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করা হয়নি। কিন্তু ছবিটি আটকে আছে। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করবো, এ ব্যাপারে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্তত ছবিটি রিভিউ করে দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথ খুলে দেওয়া উচিত নীতিনির্ধরকদের।’
ছবিতে অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরীমনি। এটি প্রযোজনা করেছেন শামীমা আক্তার।


২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। হাইকোর্ট, আপিল বিভাগের চৌকাঠ ঘুরে চূড়ান্ত রায় আসে। রায়টা পরিচালক-প্রযোজকদের পক্ষে। দীর্ঘ চড়াই-উৎরাইয়ের পর প্রশান্তির বাতাস লাগে ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক-পরিচালক-শিল্পীদের মনে।