গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমাতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমাতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার 


দফায় দফায় ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের মূল্য কমানো হলেও গ্রাহক পর্যায়ে এর কোনো প্রভাব পড়ছে না। তাই এবার প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার।


ইতোমধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ১৭ এপ্রিল সোমবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে ইন্টারনেটের মূল্য সম্পর্কিত বিভিন্ন উপকরণের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলছে, ইন্টারনেটের বর্তমান দামের যৌক্তিকতা বিষয়ে বিটিআরসির কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। কমিশনের জবাবের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তি তৈরি করবে সরকার। একইসঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর পদক্ষেপও নেয়া হবে এ সুপারিশের ভিত্তিতেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোনভিত্তিক ইন্টারনেটের দাম নির্ধারণে ‘কস্ট মডেলিং’ (সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট খরচ বের করার পদ্ধতি) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি। এ জন্য সংস্থাটি আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) একজন কর্মকর্তাকে পরামর্শকও নিয়োগ করেছে সংস্থাটি। এই পরামর্শক ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণে বিটিআরসিকে পরামর্শ দেবেন।

এ দিকে গত ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক বৈঠকে কস্ট মডেলিংয়ের জন্য পরামর্শক নিয়োগে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, কস্ট মডেলিংয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেটের দাম কত হওয়া উচিত, সে বিষয়ে একটি ধারণা পাওয়া যাবে। এরপর সে অনুযায়ী বিটিআরসি ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে ২০১৬ সালেও একবার কস্ট মডেলিং করার উদ্যোগ নিয়েছিল বিটিআরসি। ২০০৮ সালে ভয়েস কলের ক্ষেত্রে কস্ট মডেলিং বিনামূল্যে করে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থা (আইটিইউ)। 

এদিকে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পের ‘রিকগনিশন অব এক্সিলেন্স পুরস্কার’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ১৯ এপ্রিল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরুর আগে পুরস্কারটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ায় আইটিইউয়ের নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশকে এখন কস্ট মডেলিংয়ের জন্য অর্থ খরচ করতে হবে। পরামর্শক দিয়ে কাজটি করাতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আগামী মাসে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের উদ্বোধন করবেন। ফলে বিকল্প সংযোগ হিসেবে কাজ করবে এই সাবমেরিন কেবল। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেবলগুলোকে (আইটিসি) সরবরাহ করতে চায় সরকার। এ জন্য প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে তাদের কাছে ব্যান্ডউইথ সরবরাহের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডকে (বিএসসিসিএল) নির্দেশনা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় মনে করছে, আমদানি করা ব্যান্ডউইথের চেয়ে কম মূল্যে সরবরাহ করা হলেই আইটিসিগুলো বিএসসিসিএলের কাছ থেকে ব্যান্ডউইডথ কিনতে আগ্রহী হবে। ব্যান্ডউইডথের আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি আইটিসিগুলো যেন প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বিএসসিসিএল থেকে ব্যান্ডউইডথ কিনতে পারে, সে জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বর্তমানে আইটিসিগুলো বিটিআরসির অনুমতিসাপেক্ষে নিজেদের ব্যবহৃত ব্যান্ডউইডথের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বিকল্প হিসেবে বিএসসিসিএল থেকে কিনতে পারে। এ সীমা তুলে দেয়ার ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করছে মন্ত্রণালয়। তারা মনে করছে, নানামুখী এসব পদক্ষেপ নিলে শিগগির প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য কমানো সম্ভব হবে। আপাতত এ ব্যাপারে পরামর্শের জন্য বিটিআরসির দিকে তাকিয়ে আছে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

দফায় দফায় ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের মূল্য কমানো হলেও গ্রাহক পর্যায়ে এর কোনো প্রভাব পড়ছে না। তাই এবার প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার।