জুতায় যত স্টাইল



পায়ে যদি থাকে সুন্দর এক জোড়া জুতা, তাহলে সেই নারী কোনোভাবেই কুৎসিত হতে পারেন না। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড শ্যানেলের প্রতিষ্ঠাতা কোকো শ্যানেল তাই মনে করে উক্তিটি করেছিলেন। মার্কিন অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোও জুতা নিয়ে বেশ সচেতন ছিলেন। তিনিও মনে করতেন একজন মেয়ে সঠিক জুতা পেলেই পৃথিবী জয় করতে পারবে। যাঁরা জুতা ভালোবাসেন, এই কথাগুলোর মানে সহজেই বুঝে গেছেন। কথায় আছে ব্যক্তির রুচি প্রকাশ পায় জুতা আর ব্যাগ দিয়ে। সময়ের সঙ্গে, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে জুতা পরাটা জরুরি। আরাম তো থাকতেই হবে। স্টাইলটাও যদি যোগ করা যায়, পুরো লুকে চলে আসবে ভিন্নতা।
কাটওয়ার্কের কাজ নজর কাড়ছে বেশ। জুতা: বাটা
কাটওয়ার্কের কাজ নজর কাড়ছে বেশ। জুতা: বাটা
জুতার সঙ্গে মানিয়ে পোশাক? নাকি পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে জুতা। এমন কয়েকজনকে চিনি যাঁরা জুতার জন্যই অনেক সময় পোশাক পাল্টে ফেলেন। কারণ তাঁরা জানেন অসচেতন অথবা সচেতনভাবে জুতার ওপরই চোখ চলে যায় সবচেয়ে আগে। এই গরমের জুতার ফ্যাশনধারা তুলে ধরতেই এই প্রতিবেদন।
বাজার ঘুরে দেখা গেল গ্রীষ্মের জুতা জোড়াগুলো সাজানো হয়ে গেছে দোকানের তাকগুলোতে। পাশাপাশি শীতে পরার উপযোগী জুতার ওপর কিছু দোকানে ছাড় দিয়ে বিদায় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গরমের কারণে জুতাগুলো বানানো হচ্ছে একটু খোলামেলা নকশায়। বিশ্ব ফ্যাশনের পাশাপাশি বাংলাদেশেও গ্ল্যাডিয়েটর, পিপটো, মিড হিল, স্লিং ব্যাক, অ্যাংকেল স্ট্র্যাপ স্টাইলগুলো বেশ চলবে আগামী বেশ কয়েক মাস। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ধারা অনুসরণ করা হয় এ দেশে। তবে ডিজাইনাররা জানিয়েছেন—ততটুকুই, যতটুকু মানিয়ে যাবে এ দেশের ফ্যাশনের সঙ্গে।
গরমে খোলামেলা জুতা
গরমে খোলামেলা জুতা
মজার বিষয় হলো শীতের জুতা হয়েও ব্যালেরিনার আধিপত্য দেখা যাচ্ছে এখনো। কারণটা আর কিছুই না, ক্রেতারা কিনছেন। ব্যালেরিনার ওপর সোনালি, রুপালিসহ বিভিন্ন নকশার গ্লিটার চোখে পড়ছে বেশ। ফুলেল নকশাও আছে। পাশাপাশি লেজার কাটের নকশাও আছে।
ইদানীং ফ্যাশন জগতে স্নিকারস বা কেডসের বেশ জনপ্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। শুধু জিনসের সঙ্গে নয়, বরং একটু ভিন্ন লুক আনতে অনেকে স্কার্ট, ফ্রক, পালাজ্জোর সঙ্গেও পরছেন।
জুতা: অ্যাপেক্স
জুতা: অ্যাপেক্স
জুতার রং বেছে নেওয়ার সময় ডিজাইনাররা বেশ গভীরভাবে চিন্তা করেন। বাটার মার্চেন্ডাইজিং বিভাগের এক্সিকিউটিভ কালেকশন সারা জায়না হক বলেন, ‘কোন ধরনের জুতা বানাব এবং রং বেছে নেব এই দুটা চিন্তা থেকেই আমাদের জুতা বানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়। বসন্তের রঙের যে প্যালেট আছে সেখান থেকেই আমরা রং বেছে নিই। প্রকৃতি থেকেও আমরা রং নিয়ে থাকি। বসন্ত ও গরমের সময় বিভিন্ন ধরনের ফুল দেখা যায়। এসব ফুলের রং থেকে যেগুলোকে মনে করা হয় জুতার সঙ্গে মানাবে, সেগুলো নিয়েই কাজ করা হয়।’ তাই তো লাল, কালো, বাদামি, নীল, রোস গোল্ড, হট পিংক, মেরুন, কমলা, ফুশিয়া, সবুজ ইত্যাদি রং ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সময়ের জুতা বানাতে সিনথেটিক, সোয়েড, পেটান্ট, ফ্যাব্রিক, কৃত্রিম চামড়া, চামড়া ব্যবহার করা হয়। দেওয়া হয় ম্যাট ও চকচকে (গ্লসি) ফিনিশিং।
সারা দিনের ঘোরাঘুরিতে আরাম দেবে ফ্ল্যাট জুতা। জুতা: বাটা
সারা দিনের ঘোরাঘুরিতে আরাম দেবে ফ্ল্যাট জুতা। জুতা: বাটা
কাটওয়ার্কের কাজ বেশ নজর কাড়ছে এবার। জুতার ওপর এবং চারপাশে এই নকশা করা হচ্ছে। এর ফলে বাতাস তার সুবিধামতো চলাচল করার জন্য একটা জায়গাও পেয়ে যায়। গ্লিটারস ছাড়াও এমব্রয়ডারি, পাথর, মুক্তা, বিডস, মেটাল দিয়ে জুতাগুলোকে সাজানো হচ্ছে বলে জানান অ্যাপেক্সের এক্সিকিউটিভ মার্চেন্ডাইজিং ফারিয়া রহমান। ‘বসন্ত ও গরমের সময়টাতে বেশ কিছু উৎসব থাকে। এসব উৎসবের কথা চিন্তা করেই জুতার ওপর নকশা করা হয়ে থাকে’ বলে জানান তিনি।
বাটার গরমের জুতাগুলোর মধ্যে ফ্ল্যাট, হাই হিল, মিড হিল, ব্লক হিল, ওয়েজ, লো ওয়েজ, কিটেন হিল পাওয়া যাচ্ছে। বাটার চারটা বিভাগ—বাটা কমফিট, বাটা মেরি ক্লেয়ার, বাটা ইনসোলিয়া ও বাটা। বাটা কমফিটের জুতাগুলোতে আরাম খুঁজে পাবেন। ভবিষ্যতে কোনো প্রযুক্তি খুঁজে পাওয়া গেলে বাটা কমফিটের জুতাগুলোতে বিভিন্ন কাঠামো যোগ করা যাবে। বাটা ইনসোলিয়া বাটার নতুন সংযোজন।
পেনসিল হিলে সমস্যা হলে উচ্চতা এনে দেবে ওয়েজ হিল। জুতা: বাটা
পেনসিল হিলে সমস্যা হলে উচ্চতা এনে দেবে ওয়েজ হিল। জুতা: বাটা
ইনসোলিয়া একটি প্রযুক্তি, যেটা অনেক ব্র্যান্ডের জুতাতে ব্যবহার করা হয়। পায়ের আঙুলের ওপর এতে করে এক জায়গায় অতিরিক্ত ভার পড়ে না। বরং সব জায়গায় চাপটা সমান ভাগে ভাগ হয়ে যায়। বাটা ইনসোলিয়ার জুতাগুলোতে হিল থাকলেও তিন গুণ বেশি সময় পরে থাকতে পারবেন। পরিবারের সব বয়সীর জন্যই জুতা বানায় বাটা। ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের উদ্দেশ্য করেই বানানো এটি। ওটার মধ্যে আমরা ওয়েজ, লো ওয়েজ ও ফ্ল্যাটও আছে।
আনুষ্ঠানিক লুক আনতে চাইলে ব্যবহার করতে পারেন পাম্প শু
আনুষ্ঠানিক লুক আনতে চাইলে ব্যবহার করতে পারেন পাম্প শু
মেরি ক্লেয়ার বিভাগে পার্টিতে পরার জন্য জুতা খুঁজে পাবেন। মেরি ক্লেয়ারের ফ্ল্যাট স্যান্ডেলগুলোও খুব স্টাইলিশভাবে বানানো হয়। এ ছাড়া পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে পরার জন্য স্নিকারস পাবেন নর্থ স্টারে।
লোটোর মার্চেন্ডাইজিং বিভাগের উপব্যবস্থাপক তন্ময় মিত্র জানান, জুতা তৈরির সময় আরামের কথাটা চিন্তা করা হয়। জুতাটা যেন নরম ও হালকা ওজনের হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। জুতায় ব্যবহার করা হচ্ছে ছাপা নকশা ও উজ্জ্বল রং। ওয়েজ হিল, কিটেন হিল, ব্লক হিল, পেনসিল হিলের জুতা খুঁজে পাবেন অ্যাপেক্সেও। নিনা রসি, মুচি, স্যান্ড্রা রোজা ও ডক্টর মক বিভাগে মেয়েদের জুতা খুঁজে পাবেন। সব বয়সীর জন্য স্টাইল থেকে শুরু করে আরাম, সব ধরনের জুতাই এখানে পাওয়া যাবে বলে জানান ফারিয়া রহমান। একই রকম নকশার জুতা ২ থেকে ৪টা রঙে রাঙানো হয়।
জুতার নকশা যতই পছন্দ হোক, কেনার সময় আপনার স্বচ্ছন্দের কথা মাথায় রাখতে হবে। না হলে পথ চলতে বাধাই তৈরি করবে। শুভ হোক পথচলা, গরমের জুতার ট্রেন্ডের সঙ্গে।