বার্নাব্যুর মঞ্চ দখল করে নিলেন মেসি



লিগ টেবিলের সুবিধাজনক জায়গায় দাঁড়িয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আট থেকে বিদায়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বার্সার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে জয় রিয়ালকে নিয়ে যেতে পারত শিরোপার একদম প্রান্তে, যে ট্রফি ২০১২ সালের পর তারা জেতেইনি। ড্র হলেও হয়তো হতো। কিন্তু জাদুকর যে তাঁর হ্যাটে লুকিয়ে রেখেছিলেন শেষ মুহূর্তের জন্য বের করে আনা খরগোশ! প্রায় একাই রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি। জোড়া গোল, দ্বিতীয়টি ম্যাচের শেষ শট থেকে। আর তাতেই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ৩-২-এ রিয়ালকে হারিয়ে স্প্যানিশ লিগের শিরোপার লড়াইটা আবারও ফিরিয়ে আনল বার্সেলোনা।

‘এল ক্লাসিকো’ নামটা যেন সার্থক আজকের এই ম্যাচে। কী ছিল না এতে! আক্রমণ, পাল্টা-আক্রমণ, গোল-পাল্টা গোল। খেলোয়াড়দের মেজাজ হারানো, নাটকীয়তা, সবকিছু যেন পসরা সাজিয়ে বসেছিল রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। ছিল লাল কার্ডও। 
প্রথমে কাসেমিরোর গোলে রিয়ালের এগিয়ে যাওয়া। ২৮ মিনিটের সেই গোলটি ৫ মিনিটের মধ্যেই শোধ করে দিলেন মেসি। ৭৩ মিনিটে ইভান রাকিতিচের গোল আর ৭৬ মিনিটে সার্জিও রামোসের লাল কার্ড ম্যাচটা ওখানেই শেষ করে দিয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসের সর্বকালের সেরা এল ক্লাসিকোর একটি মঞ্চায়িত হবে বলে যে আগে থেকেই ঠিক করে রাখা! জিদানের বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া ‘সুপার-সাব’ রদ্রিগেজ ৮৬ মিনিটে ২-২ করে ফেললেন। শুধু তা-ই নয়, শেষ মুহূর্তে বার্সার বক্সে বিপদের কারণও হলেন বেশ কবার।
তবে ২-২ ড্রয়েই খেলা শেষ ভেবে টিভি রিমোট অনেকে হাতে নিয়েছে কি নেয়নি; সেই মুহূর্তে দৃশ্যপটে আবারও মেসি। সার্জি রবার্তো-মারিও গোমেজ-জর্ডি আলবা আর মেসি—এই চারের মিলিত এক দুর্দান্ত পাল্টা আক্রমণে এল মেসির ৯২ মিনিটের সেই গোল।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে রবার্তো নিজেদের সীমানা থেকে বল নিয়ে প্রায় একক প্রচেষ্টায় রিয়ালের সীমানায় এসে বল বাড়ান গোমেজের কাছে। গোমেজ বলটি বাঁয়ে ঠেলে দেন আলবার কাছে। মেসি তখনো বক্সে নেই। কিন্তু আলবা জানেন কখন থাকবেন। সেই হিসেব করেই যেন নিখুঁত পাস ঠেললেন। ঠিক সময়ে হাজির মেসির হার্লি ডেভিডসন। রিয়াল রক্ষণ কিছু বুঝে ওঠার আগেই যেন কেইলর নাভাসের পাশ দিয়ে একটা তিরের ফলা ঢুকে গেল। তাতেই বিদ্ধ রিয়াল, রক্তাক্ত রিয়াল। যে ম্যাচে মেসিকে যেকোনোভাবে আটকাতেই হবে ছক কষে মাঠে নামা রিয়াল শুরু দিকেই মেসিকে রক্তাক্ত করেছে। মার্সেলোর দৃশ্যত ইচ্ছাকৃত কনুইয়ে মেসির ঠোঁট গিয়েছিল ফেটে।

কিন্তু মেসি শেষ গল্পটা লিখবেন বলেই তৈরি ছিলেন। জুভেন্টাস ম্যাচের পর তাঁর রাজত্ব শেষের শুরু হলো কি না, আলোচনা উঠে গিয়েছিল। জয়সূচক নাটকীয় গোলটির পর মেসি নিজের জার্সি খুলে মেলে ধরলেন বার্নাব্যুর ৮০ হাজারের গ্যালারির সামনে। মেসি ও ১০ লেখা জার্সিটিকে তখন মনে হচ্ছে নিশান। পতপত করে উড়ছে। যেন জানান দিচ্ছে, মেসি-রাজত্ব এই তো এখানে! রিয়ালের মাটিতেই খুঁটি গেড়ে গেলাম!

আর এই জয়ে রিয়ালকে টপকে অবশেষে আবারও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বার্সা। রিয়ালের হাতে এখনো একটি ম্যাচ বা ৩ পয়েন্টের হিসাব বাকি আছে। অবশ্য সেভিয়া আর ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষাও দিতে হবে তাদের। রিয়াল-বার্সা সমান পয়েন্ট নিয়ে লিগ শেষ করলে, লা লিগার নিয়ম অনুযায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় শিরোপা জিতবে বার্সা। কাল মেসির কাছে ব্যক্তিগত লড়াইয়ে নিঃশর্ত আত্মসমর্পন করা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্যও দ্বিতীয় লা লিগা ট্রফির অপেক্ষা বাড়বে তাহলে। রিয়ালে প্রায় আট বছরের ক্যারিয়ারে রোনালদো যে লিগ জিতেছেন একবারই!