১৬ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পেল জাতীয় পুরস্কার

১৬ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পেল জাতীয় পুরস্কার 



দেশীয় প্রতিষ্ঠানের নির্মিত সেরা মোবাইল কনটেন্ট ও উদ্ভাবনী মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের স্বীকৃতি হিসেবে ‘জাতীয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পুরস্কার’ পেল ১৬টি অ্যাপ। ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে ৮টি ক্যাটাগরিতে এই ১৬টি অ্যাপ পুরস্কার পেয়েছে।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পুরস্কারের এই দ্বিতীয় আয়োজনের সহযোগী ছিল ওয়ার্ল্ড সামিট অ্যাওয়ার্ড, গুগল ডেভেলপার গ্রুপ (জিডিজি) বাংলা ও জিডিজি সোনারগাঁও।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এসময় তিনি বলেন, এখন পৃথিবীতে ৫০ লাখের মতো মোবাইল অ্যাপ্লিকশন আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি অ্যাপ আছে সাড়ে তিন হাজারের মতো। নিজেদের বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগটা নিতে হবে আমাদেরকে। এটার প্রস্তুতির জন্য আমরা কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর নতুন একটি প্রকল্প দিয়েছেন যেখানে আমরা ১০ হাজার অ্যাপ ও গেম ডেভেলপার তৈরি করব। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০টি বিশেষায়িত ল্যাব তৈরি করব। এবং আমাদের বিশ্বাস এই বিনিয়োগ করে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা আয় করবে বাংলাদেশিরা।

অনুষ্ঠানে এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারায় বেশ কিছু মাইলফলক পূর্ণ করেছে। তার অনেকগুলোই তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে হয়েছে। আমাদের ডেভেলপাররা বিশেষ করে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের হাত ধরেই এ উন্নয়ন অব্যাহত থাকেব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার, সাহিত্যিক আনিসুল হক ও আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হারুনুর রশিদ।

উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সহসভাপতি রাসেল টি আহমেদ, ওয়ার্ল্ড সামিট অ্যাওয়ার্ডের কান্ট্রি এক্সপার্ট আশরাফ আবীর, জিডিজি বাংলার কমিউনিটি ম্যানেজার জাবেদ সুলতান। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন জিডিজি বাংলার প্রধান পরামর্শক মুনির হাসান।  

গত ৩ মার্চ হতে এই পুরস্কারে অংশগ্রহণের জন্য আহবান জনানো হয়। মূলত নতুন অ্যাপ বিশেষ করে তরুণদের করা ইনোভেটিভ প্রকল্প এতে আশা করা হচ্ছে। যেখান থেকে অন্তত কয়েকটি অ্যাপ যেন বড় পরিসরে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ পায়। ৮টি ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ২৯৭ টি অ্যাপ জমা পড়েছিল। তিন ধাপের বিচারকাজ শেষে ১৬টি সেরা অ্যাপ নির্বাচন করা হয়েছে৷ জাতীয় পুরস্কার পাওয়া অ্যাপগুলো ওয়ার্ল্ড সামিট মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পুরস্কারের গ্লোবাল প্রতিযোগিতার জন্য সরাসরি মনোনীত হবে।

সেরা অ্যাপকে স্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সেমিনার। এতে আলাদা আলাদা ৭টি সেশনের আয়েজন হয়। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে টেকনিক্যাল সেশনের পাশাপাশি সফলদের গল্প শোনা, অ্যাপ তৈরিতে বাংলাদেশের অবস্থান ও সম্ভাবনার জায়গাগুলোও তুলে ধরা হয়। সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য রাখেন গুগলের কান্ট্রি মার্কেটিং কনসালটেন্ট হাশমি রাফসানজামি, এসএসএল ওয়্যারলেসের হেড অব ইঞ্জিনিয়ারিং মো. ইফতেখার আলম ইসহাক, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সহকারি অধ্যাপক কাজী হাসান রবিন, ক্লাউডির অপারেশনস্ ডিরেক্টর রাজিব হাসান, এমসিসি লিমিটেডের সিনিয়র অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপার আশিকুজ্জামান আশিক, ল্যান্ডনকের প্রধান নির্বাহী ইরাম এমএ রহমান, টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক ও ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির।

পুরস্কার পেল যেসব অ্যাপ:

গভর্নমেন্ট পার্টিসিপেশন ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন ব্যাট চেকার, রানার আপ প্রাইমারি স্কুল মনিটরিং। মিডিয়া ও নিউজে চ্যাম্পিয়ন ইয়োথ অপরচুনিটিস, রানার আপ হাউ আই ওয়ার্ক। এন্টারেটইনেমন্ট ও লাইফস্টাইলে চ্যাম্পিয়ন হিরোস অব সেভেন্টি ওয়ান ও রানার আপ ল্যান্ড নক। লার্নিং অ্যান্ড এডুকেশনে চ্যাম্পিয়ন নিলিমার বায়োস্কোপ ও রানার আপ ব্রেইন ইকুয়েশন। এনভায়রনমেন্ট ও হেল্থে চ্যাম্পিয়ন জলপাই ও রানার আপ বেবিটিকা। ট্যুরিজম ও কালচার ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নৌকা বাইচ, রানার আপ পথ দেখুন। ইনক্লুশন ও অ্যানভায়রনমেন্ট ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন কলোরব রানার আপ ওটিজম বার্তা। বিজনেস অ্যান্ড কমার্স ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন ডেসকো, রানার আপ শপ আপ।

দেশীয় প্রতিষ্ঠানের নির্মিত সেরা মোবাইল কনটেন্ট ও উদ্ভাবনী মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের স্বীকৃতি হিসেবে ‘জাতীয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পুরস্কার’ পেল ১৬টি অ্যাপ। ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে ৮টি ক্যাটাগরিতে এই ১৬টি অ্যাপ পুরস্কার পেয়েছে।