সাইবার হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

সাইবার হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ 


বিশ্বব্যাপী নজিরবিহীন সাইবার হামলায় বাংলাদেশের আক্রান্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লিনাক্স বা ইউনিক্সভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত হওয়ায় জাতীয় ডাটা সেন্টারসহ সরকারি সব সার্ভারে এ হামলা ঘটেনি।


তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ম্যালওয়্যারটিতে বাংলাদেশেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

জাতীয় ডাটা সেন্টারের পরিচালক তারেক বরকতুল্লাহ বলেন, আক্রমণটি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) একটি সাইবার অস্ত্রের মাধ্যমে, যা ওয়ানাক্রিপটো বা ওয়ানাক্রাই নামে পরিচিত। হ্যাকাররা এটি চুরি করে বিশ্বব্যাপী আক্রমণের কাজে ব্যবহার করেছে। ম্যালওয়্যারটি মূলত উইন্ডোজভিত্তিক সিস্টেমে আক্রমণ করে। লিনাক্স, ইউনিক্সসহ এ ধরনের অপারেটিং সিস্টেমে এটি কাজ করে না। আমাদের ডাটা সেন্টারসহ সরকারি যেসব তথ্যভাণ্ডার রয়েছে, সেগুলো লিনাক্স বা ইউনিক্সভিত্তিক হওয়ায় নিরাপদ রয়েছে।

তিনি বলেন, ডেস্কটপ কম্পিউটারে যারা উইন্ডোজ ব্যবহার করছেন, মার্চেই তাদের জন্য আপডেট ছেড়েছিল মাইক্রোসফট। তবে যারা আপডেট করেননি বা পাইরেটেড সফওয়্যার ব্যবহার করেছেন, তারাই এ আক্রমণের শিকার হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ওয়ানাক্রিপটোর হামলায় আক্রান্ত হওয়ার তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। এ-সংশ্লিষ্ট পুরো তালিকাও প্রকাশিত হয়নি। তবে ম্যালওয়্যার আক্রমণ-বিষয়ক যেসব ওয়েবসাইট রয়েছে, সেগুলোয় বাংলাদেশের আক্রমণের বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুক্রবার এ হামলা হওয়ায় দেশের সরকারি সিস্টেমগুলো হামলার মুখে পড়েনি। কারণ ছুটির দিন হওয়ায় অধিকাংশ কম্পিউটার বন্ধ ছিল। তবে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমভিত্তিক কম্পিউটারে এ হামলা হতে পারে। এমন হামলার ঘটনা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বলেন, বিশ্বব্যাপী এ আক্রমণের পর পরই দেশে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও তদারকি বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে এ হামলার কোনো ঘটনা চিহ্নিত হয়নি।

বিশ্বব্যাপী এ সাইবার হামলায় এখন পর্যন্ত ৯৯টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। র‌্যানসম: উইন৩২. ওয়ানাক্রিপ্ট নামের ম্যালওয়্যারটি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের কম্পিউটার ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেয় হ্যাকাররা। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত দেশগুলোও।

র‌্যানসমওয়্যার  এক ধরনের সফটওয়্যার প্রোগ্রাম, যা কম্পিউটারে প্রবেশ করিয়ে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়। এরপর তা থেকে মুক্তির জন্য অর্থ দাবি করে হ্যাকাররা।

বিশ্বব্যাপী নজিরবিহীন সাইবার হামলায় বাংলাদেশের আক্রান্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লিনাক্স বা ইউনিক্সভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত হওয়ায় জাতীয় ডাটা সেন্টারসহ সরকারি সব সার্ভারে এ হামলা ঘটেনি।