নিজের আবিষ্কারেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের...

নিজেদের আবিষ্কারকে সফল হিসেবে দেখতে চান সব উদ্ভাবকই। তাঁরা মনে করেন, এতে হয়তো পুরো বিশ্বের চালচিত্রই বদলে যাবে। কিন্তু কখনো কখনো তা বুমেরাং হয়েও আবির্ভূত হয়। কিছু ক্ষেত্রে আবিষ্কারই হয়ে দাঁড়ায় আবিষ্কারকের মৃত্যুর কারণ। আসুন জেনে নিই এমনই কিছু আবিষ্কারকের কথা—
থমাস এন্ড্রুজথমাস এন্ড্রুজ১. নৌযানের নকশাকারদের জগতে থমাস এন্ড্রুজ বেশ বিখ্যাত একটি নাম। টাইটানিক জাহাজের নকশা করেছিলেন তিনি। জাহাজটির প্রথম বা পক্ষান্তরে শেষযাত্রায় সঙ্গী ছিলেন থমাস। বিশাল আকারের জাহাজের নকশা করলেও এর ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন তিনি। নকশায় ৪৬টি জীবন রক্ষাকারী নৌকা (লাইফবোট) রাখার সুপারিশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বড়কর্তারা তা মানেননি। ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল হিমবাহে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায় টাইটানিক। বাঁচতে পারেননি থমাসও। এমনকি তাঁর মরদেহও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
উইলিয়াম বুলকউইলিয়াম বুলক২. প্রথম আধুনিক প্রেস আবিষ্কার করেছিলেন উইলিয়াম বুলক। ফিলাডেলফিয়ার একটি সরকারি অফিসে প্রেস মেশিন বসাতে গিয়ে এর নিচে চাপা পড়েন তিনি। পরে তাঁর পায়ে গ্যাংগ্রিন হয়ে যায়। ১৮৬৭ সালের এপ্রিলে অস্ত্রোপচারের সময় হওয়া জটিলতায় তিনি মারা যান।
লুই স্লটিনলুই স্লটিন৩. লুই স্লটিন পেশায় ছিলেন একজন পারমাণবিক পদার্থবিদ। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি প্লুটোনিয়াম নিয়ে গবেষণা করছিলেন। কিন্তু একটি ফিশন বিক্রিয়া চালানোর সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। তখন অন্যদের বাঁচাতে স্লটিন ওই প্লুটোনিয়াম পাত্রটিকে আগলে ধরেছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হয়ে দুর্ঘটনার দুই সপ্তাহ পর, ১৯৪৬ সালের ৩০ মে মৃত্যু হয় তাঁর।
সিলভেস্টার এইচ রোপারসিলভেস্টার এইচ রোপার৪. সিলভেস্টার এইচ রোপার বিশ্বের প্রথম মোটরসাইকেল আবিষ্কার করেছিলেন। এর নাম তিনি দিয়েছিলেন ভেলোসিপেড। এটি মূলত ছিল বাষ্প ইঞ্জিন চালিত একটি বাইসাইকেল। ১৮৯৬ সালের ১ জুন পরীক্ষামূলকভাবে মোটরসাইকেলটি চালানোর সময় ভয়ংকর দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। তাতেই মৃত্যু হয় এই আবিষ্কারকের।
হোরেস লসন হানলেহোরেস লসন হানলে৫. হোরেস লসন হানলে সাবমেরিন আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁর নকশায় তৈরি প্রথম সাবমেরিনটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার সফল হয়েছিল। এরপর আরও উন্নত সাবমেরিন তৈরিতে লেগে পড়েন হানলে। কিন্তু নতুন সাবমেরিন পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সময় ঘটে বিপত্তি। ১৮৬৩ সালের ১৫ অক্টোবর সাবমেরিনটি পানিতে নামে। কিন্তু পানির ওপরে আর ভেসে উঠতে পারেনি। সব ক্রু নিয়ে সলিলসমাধি হয় হানলের।
মেরি কুরিমেরি কুরি৬. মেরি কুরির পরিচয় দুটি। একাধারে পদার্থ ও রসায়নবিদ ছিলেন তিনি। দুবার নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন এই গবেষক। তেজস্ক্রিয়তার তত্ত্ব, দুটি মৌলিক পদার্থ ও এক্স-রে রশ্মি আবিষ্কারেরও কৃতিত্ব ছিল তাঁর। প্রায়ই নিজের সঙ্গে একটি টেস্টটিউবে তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্লুটোনিয়াম রাখতেন মেরি কুরি। ১৯৩৪ সালের ১৪ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের বক্তব্য, অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তার কারণেই মৃত্যু হয়েছিল তাঁর।