উড়ল দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট


দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট মহাকাশের পথে উড়েছে। ভারতীয় স্পেস রিসার্চ অরগানাইজেশন (আইএসরিএ) এর তৈরি এ স্যাটেলাইট শুক্রবার বিকালে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার হতে উৎক্ষেপিত হয়।
স্যাটেলাইট উক্ষেপণ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ধ্যায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন। এসময় স্যাটেলাইটের আরও অংশীদার দেশ আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরাও যুক্ত ছিলেন।
শেখ হাসিনা এতে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  সূচনা ও সমাপনী বক্তব্য দেন।
সফল উক্ষেপণের জন্য ভারত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন করবে। এই স্যাটেলাইটের ফলে স্থল ও জলের পর মহাকাশে আমাদের মধ্যে যোগাযোগে স্থাপিত হবে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার চেহারা বদলে যাবে।’
নরেন্দ্র মোদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘মহাকাশে দক্ষিণ এশিয়ার সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে থাকবে এই স্যাটেলাইট।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ গণি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী থেসারিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা ।
গত ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ এই স্যাটেলাইটে যোগ দেওয়ার জন্যে চুক্তি করে। চুক্তি অনুসারে স্বল্প ক্ষমতার স্যাটেলাইটটির ১২টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে একটি ব্যবহার করতে পারবে বাংলাদেশ।
প্রথমে এই স্যাটেলাইটটির নাম দেওয়া হয়েছিল সার্ক স্যাটেলাইট। কিন্তু পাকিস্তান এতে যোগদানের আপত্তি জানালে নাম বদলে যায়। দেশটিকে বাদ রেখেই এগিয়ে যায় স্যাটেলাইট কার্যক্রম।
স্যাটেলাইটটির প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার ৩৬ থেকে ৫৪ মেগাহার্জের। তবে এজন্য নিজ খরচায় বাংলাদেশকে দেশের যেকোনো স্থানে একটি গ্রাউন্ড স্টেশন বসাতে হবে।
এই ট্রান্সপন্ডার ব্যবহার করে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন, টেলি-মেডিসিন ও ইন্টার-গভর্নমেন্ট নেটওয়ার্ক, দুর্যোগ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগ, টেলিভিশন ব্রডকাস্ট এবং ডিটিএইচ টেলিভিশন সার্ভিস সুবিধা নিতে পারবে। তবে প্রত্যেকটি দেশই বিষয়বস্তু সংযোজন ও এর ব্যবহারের জন্য দায়ী থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
চুক্তির দিনই ভারতের বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার শ্রী হর্ষ বর্ধণ শ্রিংলা জানান, ৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইটটি।
শ্রিংলা তখন জানিয়েছিলেন, এটি তার দেশ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যে একটি উপহার হবে।
২০১৪ সালে এই স্যাটেলাইট বিষয়ে উদ্যোগ নেয় ভারত। তাদের খরচেই উড়ল এই স্যাটেলাইট। আর ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য সব কাজও করবে তারাই।
এর আগে সার্ক স্যাটেলাইট বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে থেকে মতামত দিয়েছিল বাংলাদেশ। তখন বলা হয় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের স্বার্থ ঠিক রেখেই ওই স্যাটেলাইটের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উড়বে মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায়। আর প্রস্তাবিত সার্ক থেকে দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইটের জন্য নেওয়া হয়েছে ৪৮ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমা। দুটি স্যাটেলাইটের ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ ১২ দশমিক ৭৫ থেকে ১৩ দশমিক ২৫ গিগাহার্ডজ।