জানুন নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো


নারী এবং পুরুষের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ প্রায় একই রকম হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য দেখা যায়। নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও দুর্বোধ্য হয়। তাই নারীদের সম্ভাব্য হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ চিনতে পারাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকায় নারী এবং পুরুষ উভয়ের মৃত্যুর প্রধান কারণ হচ্ছে হৃদরোগ। ২০১৬ সালের এক গবেষণায় জানা যায় যে, পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি মারা যান হৃদরোগে।
হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণগুলো হচ্ছে- বুকে ব্যথা, ব্যথা এক বাহুতে ছড়িয়ে যাওয়া, বমি বমিভাব এবং বমি হওয়া। একজন নারী যখন হার্ট অ্যাটাকের সম্মুখীন হন তখন তার মধ্যে এই সব ধরনের লক্ষণই প্রকাশ পায়। তবে পুরুষের চেয়ে নারীদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলো কম স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, বুকে ব্যথা নারীদের হার্ট অ্যাটাকের একটি সাধারণ লক্ষণ, কিন্তু একমাত্র বা প্রধান লক্ষণ নয়। পুরুষের বুকে ব্যথার মত নারীদের বুকে ব্যথা এতোটা তীব্র হয় না। বুকে ব্যথার সাথে অন্য লক্ষণ ও দেখা যায় যেমন- শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি এবং বমি বমি ভাব। এছাড়াও এই ব্যথা শুধু বুকেই নয় পিঠে এবং কাঁধ বা ঘাড়েও হয়ে থাকে।
কেন পুরুষের চেয়ে নারীর হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো ভিন্ন হয় সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা নেই। এক্ষেত্রে কিছু বিষয় প্রধান ভূমিকা রাখে। পুরুষের চেয়ে নারীদের ক্ষেত্রে হৃদরোদে আক্রান্ত হলে হৃদপিন্ডের ছোট রক্তনালীগুলোর উপর প্রভাব পড়ে। পুরুষের মত নারীদের ধমনীতে কঠিন বাঁধার সৃষ্টি হয় না। নারীদের রক্তনালীগুলো ছোট হয় এবং রক্তনালীর প্রাচীর অনমনীয় হয়। কিন্তু এই বিষয়টিই লক্ষণের বিভিন্নতার অন্তর্নিহিত কারণ কিনা সে বিষয়টি ভালোভাবে বোঝা যায়নি।
হৃদরোগের ঝুঁকির বিষয়গুলো নারী এবং পুরুষের ক্ষেত্রে এক। ডায়াবেটিস, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ওজন বৃদ্ধি পাওয়া, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তার অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাবার এই সব কিছুই হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। পুরুষ ধূমপায়ীদের চেয়ে নারী ধূমপায়ীদের হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তেমনি পুরুষ ডায়াবেটিসের রোগীদের চেয়ে নারী ডায়াবেটিসের রোগীদের হৃদরোগ  হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
এছাড়াও আরো কিছু নির্দিষ্ট রিস্ক ফ্যাক্টর আছে যা শুধু নারীদের উপরই প্রভাব বিস্তার করে। যে নারীদের গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে যা প্রি-এক্লাম্পসিয়ার কারণ, তাদের পরবর্তীতে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। মেনোপোজের পরে যখন ইস্ট্রোজেনের মাত্রা নেমে যায় তখন নারীদের হৃদরোগ হওয়ার হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।
আপনার হৃদরোগের  ঝুঁকির বিষয়গুলো নিয়ে আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।  আপনার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক চিকিৎসা ইতিহাস নিয়ে পর্যালোচনা করুন যাতে আপনি আপনার রিস্ক ফ্যাক্টরগুলোর বিষয়ে বুঝতে পারেন।
যদি আপনি মনে করেন যে, আপনার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি আছে, এমন কি সেটা খুব অস্পস্ট হলেও আপনার তাকে অবহেলা করা উচিৎ নয় এবং অপেক্ষা করে বসে থাকাও উচিৎ নয়। দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিন এবং সুস্থ থাকুন।