আড়ংয়ে ১৪০ টাকার চাদর বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়!


আড়ংয়ে ১৪০ টাকার চাদর বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়! 

ব্র্যাকের মালিকানাধীন হস্ত ও কারুশিল্প ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আড়ংয়ের বিরুদ্ধে ১৪০ টাকার চাদর ১২০০ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। আড়ংয়ের বিভিন্ন পণ্য কিনে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।


সম্প্রতি লুৎফুর রহমান পলাশ নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমার এক বন্ধু আড়ং থেকে ১২০০ টাকায় বিছানার চাদর কিনেছে। বাসায় এসে দেখল রংপুরের কোন একটা সমবায় থেকে চাদর কেনা হয়েছে ১৪০ টাকায়। ভুলে সেই প্রাইস ট্যাগ খোলা হয় নাই।’

খুব সাদামাটা এই স্ট্যাটাসটি তার ওয়াল থেকে মাত্র ৬০ জন মানুষ শেয়ার করলেও ‘অনিয়ম’ ও ‘ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশান অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)’ নামের দুটি ফেসবুক পেজে এ নিয়ে পোস্ট দেওয়ার পর থেকেই হাজার হাজার মানুষ এই নিয়ে কথা বলা শুরু করেছেন। অসংখ্য ভুক্তভোগী মানুষ এসে তাদের প্রায় একই ধরনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

সব পোস্টেই আড়ংয়ের পাশাপাশি ‘ক্যাটস আই’য়ের শার্টের মূল্য নিয়েও কথা বলা হয়েছে। লুৎফর রহমান অভিযোগ করেন, ‘ক্যাটস আই থেকে সাদা শার্ট কিনেছি ২৮০০ টাকায়। মাস ছয়েক পড়েছি প্রতি মাসে গড়ে দুই দিন। সেই হিসেবে ১২ বার বা ১২ দিন গায়ে দিতেই শার্ট ত্যানা হয়ে গেছে। আড়ং ১৩৫০ টাকার নীল শার্ট তিন ধুয়া দিতেই মোটামুটি সাদা হয়ে গেছে।’

ব্র্যান্ড নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের লোকজন এখন পণ্যের কোয়ালিটি কিনে না; ব্র্যান্ড কিনে। মূলত লোকজন ব্র্যান্ডের কাছে যায় কোয়ালিটির জন্য। পাশাপাশি ভাল ব্র্যান্ড মানে মনের শান্তি। আসলে কি তাই হয়? ব্র্যান্ড ব্যবসায়ীরা বুঝে গেছে ক্রেতারা ব্র্যান্ড কিনে সুতরাং প্রাইস আর কোয়ালিটি নিয়ে টেনশনের কিছু নাই। দাম বেশি হলেও কিনবে।’

‘অনিয়ম’ নামের ফেসবুক পেজে এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পর সেই স্ট্যাটাস সাড়ে সাত হাজার মানুষ শেয়ার করেছেন এবং ১৮ শতাধিক মানুষ এই নিয়ে মন্তব্য করেছেন। প্রায় সব মন্তব্যই নেতিবাচক ছিল। আড়ং ছাড়াও দেশের অন্যান্য ব্র্যান্ডের পণ্য কিনে প্রতারিত হয়েছেন এমন অনেক তথ্যই এখানে উঠে এসেছে।

আহসান হাবিব নামের একজন লিখেছেন, ‘গত বছর আড়ং থেকে একটা পাঞ্জাবি নিয়েছিলাম ২৪০০ টাকা দিয়ে। স্রেফ একদিন পরেছি। যে দিকে টান খায় সেদিকে ছিঁড়ে যায়। বুঝুন অবস্থা। কিন্তু স্যান্ডেল্টা ভাল হয়েছিল। তাই এবার আড়ংয়ে গিয়েছিলাম স্যান্ডেল কিনতে। পাঞ্জাবির দিকে ফিরেও তাকাইনি।’

মোহাম্মাদ এ বারেক লিখেছেন, ‘ভাই সবার প্রথমে আড়ংয়ের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। ডাকাত বললেও কম হবে। এরা নম্র, ভদ্র, সুশীল প্রতারক। বি.দ্র. আড়ং ১০ টাকার পণ্য ১০০০ টাকা রাখে। সাথে আবার ভ্যাটো আছে।’

শামসুল ইসলাম মিঠুন লিখেছেন, ‘গত ঈদে একজন আমা‌কে ২০০০ টাকা দি‌য়ে একটা গ্যাবা‌টিং প্যান্ট গিফট ক‌রে আড়ং থে‌কে। যখন প্যান্ট‌টি পড়‌তে যাব তখনই প্যান্ট‌টি ছি‌ড়ে গি‌য়ে‌ছিল।’

প্রবাসী ফাইজুন নাহার লিখেছেন, ‘আমার এক বাংলাদেশি বান্ধবী আড়ং থেকে আমাকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে একটা বেড কাভার গিফট করেছিলেন, এক ধোয়া দিতেই ব্যবহারের অযোগ্য। এই বুঝি আড়ং এর মান?’

রাজিবুল রনি লিখেছেন, ‘৫৫০০ টাকা দিয়ে আড়ং থেকে ১টা পাঞ্জাবি কিনে আমার ৩টা পাঞ্জাবি নষ্ট হয়েছে। ধোয়ার সময় আড়ংয়ের পাঞ্জাবির কন্ট্রাস্ট থেকে রঙ উঠে অন্য তিনটা নষ্ট হয়েছে!’

মাহমুদ হাসান লিখেছেন, ‘আমি অনেক সময় আড়ংয়ের হাতের কাজ করা বেডশিট দেখেছি যেটার কোয়ালিটি আমাদের জামালপুরের হাতের কাজ করা বেডশিটের থেকেও খারাপ। কিন্তু দামটা দিগুণ রাখা হয়েছে। এমন প্রায় সব রকমের হাতের কাজ করা পণ্যের দাম দিগুণ। বর্তমানে এসব ব্র্যান্ড তাদের জনপ্রিয়তা পুঁজি করে প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের ঠকিয়ে যাচ্ছে।’

মইনুল তুহিন লিখেছেন, ‘আসলে আমাদের দেশের কোম্পানিগুলো ব্রান্ড কালচারই বোঝে না। এদের কোয়ালিটি কন্ট্রোল, মূল্য নির্ধারণ, ব্যবহার সব কিছুতেই পেশাদারিত্বের চরম অভাব। ক্রেতাদের প্রতি এদের কোনো কমিটমেন্ট নাই। আসুন আমরা সবাই প্রতিবাদ করি। এদের পণ্য বর্জন করি।’

ব্র্যাকের মালিকানাধীন হস্ত ও কারুশিল্প ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আড়ংয়ের বিরুদ্ধে ১৪০ টাকার চাদর ১২০০ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। আড়ংয়ের বিভিন্ন পণ্য কিনে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।