যে কারণে বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছে একসেঞ্চার

যে কারণে বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছে একসেঞ্চার 


ভারতীয় একটি কোম্পানির বাংলাদেশে আসা, কোম্পানিতে ইউনিয়নের দৌরাত্ম্য এবং কোম্পানি থেকে টেলিনর তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়াতেই বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছে বহুজাতিক পরামর্শক একসেঞ্চার। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) পাঁচশ ৫৬ কর্মীকে টার্মিনেশন লেটার পাঠিয়েছে একসেঞ্চার বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের পাওনা পরিশোধ করে ওইদিন থেকেই একসেঞ্চার বাংলাদেশ বন্ধ করে দেওয়া হবে।


মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে গ্রামীণফোন আইটি (জিপিআইটি)। ২০১৩ সালের ৩ আগস্ট এই প্রতিষ্ঠানের ৫১ ভাগ মালিকানা কিনে নেয় একসেঞ্চার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের (একসেঞ্চার এমপ্লয়িজ ইউনিউয়ন) চাপে টেলিনর ও একসেঞ্চারের মধ্যেকার সম্পর্ক সুখকর ছিল না। এ কারণে একসেঞ্চার থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে থাকে টেলিনর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসেঞ্চারের মূল ভরসার জায়গা ছিল টেলিনর। সেই টেলিনর নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে একসেঞ্চার আর বাংলাদেশে থাকা যুক্তিযুক্ত মনে করেনি।
এছাড়া, এরই মধ্যে কিছু কিছু কাজ টেলিনর নিজেরাই ইনহাউজ করতে শুরু করেছে। এ কারণে কমছে একসেঞ্চারের কাজের পরিধি। এর সঙ্গে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান উইপ্রো বাংলাদেশে আসছে— এমন খবরও একসেঞ্চারের বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। কারণ, একসেঞ্চার যে ধরনের কাজ এ দেশে করছিল, উইপ্রো বাংলাদেশে এসে ঠিক ওই ধরনের কাজই করবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বেশ কিছুদিন ধরেই বলে আসছিলেন, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান উইপ্রো আসছে বাংলাদেশে। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই কথা বললেও কেউ নিজেকে উদ্ধৃত করতে রাজি হননি। তবে তারা জানিয়েছেন, কেবল উইপ্রো নয়, আরও একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আসছে।


জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার  ‘একসেঞ্চার বাংলাদেশ থেকে চলে গেলে ইমেজের বড় ধরনের একটা সংকট তৈরি হবে। আরও যেসব প্রতিষ্ঠান বা বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায় বা সরাসরি আসতে চায়, তারা দ্বিতীয়বার ভাববে। আমরা যতই সফটওয়্যার ও সেবাপণ্য রফতানি করি না কেন, এই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।’

অন্যদিকে প্রযুক্তি পণ্য ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি আলী আশফাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে শুনছি, উইপ্রো বাংলাদেশে আসছে। উইপ্রোর পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে এখনও নিশ্চিত কোনও খবর নেই।’

তবে হঠাৎ করে একসেঞ্চারের বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা ক্ষুব্ধ। একঞ্চোর বাংলাদেশের আইটি অপারেশন টিম লিড ও একসেঞ্চার এমপ্লয়িজ ইউনিউয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ  মঙ্গলবার তারা সবাই টার্মিনেশন লেটার পেয়েছেন এবং এর প্রতিবাদে তারা বুধবার থেকে কর্মবিরতিতে যাবেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে একসেঞ্চার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের টার্মিনেশন লেটার মেইল করা হয়েছে। এরই মধ্যে আমরা আমাদের সুযোগ সুবিধা ও এক্সিট প্ল্যান নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নেগোশিয়েশন শুরু করেছি।’

শাহীন আহমেদ বলেন, ‘এ মুহূর্তে দুইটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। প্রথমত, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান যদি দেশ থেকে হঠাৎ করে চলে যায়, তাহলে আমাদের দেশের বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে একটা ভুল বার্তা চলে যাবে। তখন হয়তো বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে বিনিয়োগ করতে চাইবে না। এই অবস্থা নিরসনে আমরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। দ্বিতীয়ত, একসেঞ্চার বাংলাদেশের কর্মী ও তাদের পরিবার ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

এ বিষয়ে জানার জন্য একসেঞ্চার বাংলাদেশের কমিউনিকেশন বিভাগের সঙ্গে ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে একসেঞ্চার এক বিবৃতিতে তাদের অবস্থান তুলে ধরে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এশিয়া ও ইউরোপে বিভিন্ন আয়োজনে একযোগে সম্পৃক্ত হতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে টেলিনর গ্রুপ ও একসেঞ্চার। এর ফলে বর্তমানে একসেঞ্চার কমিউনিকেশন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার সলিউশনস লিমিটেডের (এসিআইএসএল) দেওয়া কিছু সুনির্দিষ্ট সেবা স্থানান্তরিত হবে, কিছু সেবা যাবে তৃতীয় পক্ষের কাছে। এর অংশ হিসেবে এসিআইএসএলের কিছু কর্মী তৃতীয় পক্ষের হয়ে কাজ করারও সুযোগ পাবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সব কর্মীকে যথাযথ সহায়তা দেবে এসিআইএসএল।’

ভারতীয় একটি কোম্পানির বাংলাদেশে আসা, কোম্পানিতে ইউনিয়নের দৌরাত্ম্য এবং কোম্পানি থেকে টেলিনর তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়াতেই বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছে বহুজাতিক পরামর্শক একসেঞ্চার। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) পাঁচশ ৫৬ কর্মীকে টার্মিনেশন লেটার পাঠিয়েছে একসেঞ্চার বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের পাওনা পরিশোধ করে ওইদিন থেকেই একসেঞ্চার বাংলাদেশ বন্ধ করে দেওয়া হবে।