‘বন্ধ্যাত্ব’ মানে এখন আর ‘ডিভোর্স’ নয়!

Infertility-means-no-longer-divorce 


বন্ধ্যাত্ব। এটা নারীর পাশাপাশি পুরুষেরও হতে পারে। কিন্তু এর কারণে কি একটা বিয়ের পরিণতি ডিভোর্সে গিয়ে দাঁড়ায়? অনেকেই তা মনে করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। নতুন এক গবেষণা দাবি করছে বন্ধ্যাত্বের কারণে আর যাই হোক ডিভোর্স হয় না।


পূর্বের অনেক গবেষণায় এটাই প্রমাণিত হয়েছিল যে, একটি সম্পর্কে যখন বন্ধ্যাত্ব বাসা বাঁধে তখন সেখানে মানসিক চাপ, বিষণ্নতা, ঝগড়া-ঝাটি লেগেই থাকে এবং এর শেষ পরিণতি গড়ায় ডিভোর্সে। কিন্তু কিছু সমসাময়িক দম্পতিকে নিয়ে করা এই নতুন গবেষণা বলছে, সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়েছে। পরিবর্তন এসেছে সম্পর্কেও। আর এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে।

প্রথমত, বিয়ের সম্পর্কে এক ধরনের মায়া তৈরি হয়। আর এই মায়া কাটিয়ে ওঠা অনেকটাই কঠিন। নতুন গবেষণাটিতে অংশগ্রহণ করা কিছু দম্পতি বলেন যে, বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকটাই উন্নত। এতে করে তাদের মাঝে একটা আশা থাকে যে হয়ত চিকিৎসার মাধ্যমে তারা এই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। যদি এরপরও কোনো সমাধান না মেলে তবে তারা বাচ্চা অ্যাডপ্ট করতেও প্রস্তুত কিন্তু তারপরও একে অন্যকে ছাড়তে প্রস্তুত না।
 


দ্বিতীয়ত, শিক্ষার পরিবর্তনের কারণেও এর পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। কিছু দশক আগেও যখন স্বামীর বন্ধ্যাত্বের কারণে নারীরা গর্ভবতী হতেন না তখন এর সব ধরনের মানসিক চাপ নারীর উপরেই আসতো। কিন্তু বর্তমানে নারী-পুরুষের শিক্ষার অগ্রগতির কারণে নারীরা এখন এটা ভাবেন না যে, শুধু সন্তান প্রতিপালনের মাঝেই জগতের সমস্ত সুখ লুকায়িত বরং তারা নিজেদের মতো করে বাঁচতে শিখেছে। আর পুরুষরাও মানতে শিখেছে এটা প্রকৃতির-ই দান।

তৃতীয়ত, বর্তমান সময়ের নারী-পুরুষরা মনে করেন না যে শুধু সন্তানই তাদের জীবন সুখময় করে তুলতে সক্ষম। বরং তাদের জীবনে আরও অনেক বিষয় যেমন; ক্যারিয়ার, লক্ষ্য, অ্যাডভেঞ্চার, ভ্রমণ ইত্যাদি রয়েছে যেগুলো তাদেরকে পরিপূর্ণতা দিতে পারে।

নতুন এই গবেষণাটি ৪৫,০০০ সন্তানবঞ্চিত দম্পতিদের নিয়ে পরিচালিত হয়েছে। তাদের মাঝে ১ শতাংশ নারী-পুরুষও বন্ধ্যাত্বের কারণে সঙ্গীকে ছেড়ে দিতে রাজী হননি। বরং এই গবেষণাটি তাদের জন্য শিক্ষার আলো বয়ে নিয়ে আসতে পারে যারা এখনও ‘বন্ধাত্বের কারণে ডিভোর্স দিতে হবে’ এমন মানসিকতায় বসবাস করছেন।

হ্যাঁ বলতে পারেন, সামাজিকতার বিষয়টিকে কীভাবে উপেক্ষা করা যাবে? গবেষণায় অংশগ্রহণকারী সকল দম্পতিই শিক্ষিত পরিবার থেকে এসেছিল আর এ কারণেই হয়ত তাদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে কোনো সমস্যা হয়নি। কেননা তারা সমাজ, পরিবার থেকে তেমন চাপের শিকার হননি। কিন্তু বাংলাদেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন প্রায় দম্পতিই। সঙ্গী বন্ধ্যা হলে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তারা সামাজিক, পারিবারিকভাবে এক ধরনের চাপের মাঝে থাকেন। এক্ষেত্রে করণীয় হলো নিজের শিক্ষায় আশেপাশের সবাইকে শিক্ষিত করে তোলা। জানি এটা অনেক অসাধ্যকর একটি বিষয়। তারপরও চেষ্টায় সবকিছুই সম্ভব।

উপসংহারে গবেষকরা বলেন, অন্য কোনো অসঙ্গতি যেমন; বিশ্বাসঘাতকতা, মতের অমিল ইত্যাদি কারণে ডিভোর্সের পরিমাণ দিনদিন বাড়লেও বর্তমানে অন্ততপক্ষে বন্ধ্যাত্বের কারণে ডিভোর্স হয় না। এই গবেষণা এটাই প্রমাণ করে।

বন্ধ্যাত্ব। এটা নারীর পাশাপাশি পুরুষেরও হতে পারে। কিন্তু এর কারণে কি একটা বিয়ের পরিণতি ডিভোর্সে গিয়ে দাঁড়ায়? অনেকেই তা মনে করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। নতুন এক গবেষণা দাবি করছে বন্ধ্যাত্বের কারণে আর যাই হোক ডিভোর্স হয় না।