প্রযুক্তির বিস্ময় আধুনিক ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা

 Modern-cloud-computing-service-of-the-wonders-of-technology


ক্লাউড অর্থ মেঘ। একে সাধারণভাবে কম্পিউটারের পরিবর্তে ইন্টারনেটে চালিত সফটওয়্যার ও সার্ভিস বলা যেতে পারে। অ্যাপলের আইক্লাউড, ড্রপবক্স, নেটফ্লিক্স, আমাজন ক্লাউড ড্রাইভ, ফ্লিকার, গুগল ড্রাইভ, মাইক্রোসফট অফিস ৩৬৫, ইয়াহুমেইল, এসবই ক্লাউড সেবা। ক্লাউড ব্যবহারের সুবিধাটা অনেক। কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রয়োজনীয় তথ্যের নিরাপত্তা প্রদান ও সংরক্ষণের জন্য অনেকেই ব্যাক আপ রাখার পরিকল্পনা করেন। এক্ষেত্রে ক্লাউডে নিরাপদে তথ্য সংরক্ষণ করতে পারেন। 


ক্লাউড হচ্ছে কম্পিউটিংয়ের বিশেষ সার্ভিস যা বিশেষ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটার বা অন্যান্য যন্ত্রে কম্পিউটিং সার্ভিস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ক্লাউডে তথ্য রাখলে তথ্য চুরি, হার্ড ড্রাইভ অচল হয়ে যাওয়া বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পায়। এ ছাড়াও যেকোনো স্থানে বা ইন্টারনেট সুবিধাসম্পন্ন যন্ত্র থেকে তা ব্যবহার করে হালনাগাদ করা যায়। 

ক্লাউড সুবিধা থাকায় যে নাটক টেলিভিশনে মাঝপথে দেখা শেষ করেছিলেন, তা পরে চলতি ট্রেনেও বাকি অংশটুকু দেখে নিতে পারেন। বাড়িতে আইপ্যাডে ক্যান্ডি ক্রাশ খেলতে খেলতে অফিসের সময় হয়ে গেলে পরবর্তী লেভেল অফিসে গিয়ে কম্পিউটারে খেলতে পারেন। এ রকম অনেক সুবিধা ক্লাউড থেকে নিতে পারেন। মোবাইল অ্যাপস ও পিসি সফটওয়্যার এখন ক্লাউডের অংশ হয়ে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্মার্টফোন ছবি তুললে আইক্লাউড কিংবা গুগল ফটোসের ফটো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা ব্যাকআপ রাখে। ক্লাউডে ব্যবহারকারীর নিজের সৃষ্টি করা তথ্যের বাইরেও অনেক ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকে।

চলতি বছর বাংলাদেশে বেসিস সফট এক্সপো ২০১৭-এর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন উইথ ক্লাউড কম্পিউটিং’ শীর্ষক সেমিনারের বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইক্রোসফটের সাউথইস্ট এশিয়া অ্যান্ড ইমার্জিং মার্কেটসের ডিরেক্টর সঞ্জয় পাটেল এবং অ্যাপাকের চীফ ডিজিটাল ষ্ট্র্যাটেজিস্ট ক্রেইগ অর। ক্লাউড নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তারা উক্ত সেমিনারে। তাদের বক্তব্য থেকে অত্যাধুনিক এ সেবার খুঁটিনাটি অনেক কিছু জানা গেলো। ক্লাউড সেবা গ্রহণ করার আগে জেনে নিতে হবে ক্লাউডটা আসলে কী, এটি দিয়ে কী কী করা যায়, কীভাবে এটি কাজ করে ইত্যাদি। 

ক্লাউড কতখানি নিরাপদ
ক্লাউডের জগতে নিজেকে আড়াল করা খুবই কঠিন। কারণ ক্লাউডভিত্তিক সফটওয়্যারে আপনাকে লগইন করতেই হয়। ক্লাউডে তথ্য রাখার বিষয়টি নিরাপদ কি না সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য হচ্ছে, আপনি যে প্রতিষ্ঠানের সেবা নিচ্ছেন সেই প্রতিষ্ঠানটি কতটা সুরক্ষা দেয়, তা দেখতে হবে। এক্ষেত্রে সুরক্ষার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপর আপনার আস্থা আর আপনার দেওয়া পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভর করে। অধিকাংশ ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রেকর্ড ভালো। তবে সম্প্রতি এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। আইক্লাউডের নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে অ্যাপল। অ্যাপলের আইক্লাউড থেকে হলিউডের অনেক তারকার গোপনীয় ছবি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অ্যাপল অবশ্য আইক্লাউডের নিরাপত্তা ভাঙার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

ক্লাউডের ডাটা সেন্টার
হার্ডডিস্ক বা ফোন মেমোরির পরিবর্তে ক্লাউডে রাখা তথ্য বিশ্বের বড় বড় ডাটা সেন্টারে সংরক্ষিত থাকে। গ্রাহক ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাজন, গুগল, অ্যাপল. মাইক্রোসফট ও ফেসবুক সবচেয়ে বড় ডাটা সেন্টারের মালিক। এখন পর্যন্ত ৩২ কোটি আইক্লাউড ব্যবহারকারী রয়েছে। এখন পর্যন্ত ফেসবুকে ৪০০ বিলিয়ন ছবি আপলোড হয়েছে এবং প্রতিদিন ৩৫ কোটি ছবি যুক্ত হচ্ছে। ১৯০ টি দেশে ক্লাউড সেবা দেয় আমাজন। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভার ফার্ম এত বিশাল ও এতে এত শক্তি প্রয়োজন হয় যাতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যয় হয় এই ডাটা সেন্টারে। যদি ক্লাউড কম্পিউটিং শিল্প একটি দেশ হিসেবে ধরা হয় তবে শক্তি ব্যবহারের দিক থেকে এটি হত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ।

ক্লাউডের গুণাবলী
মাল্টি লোকেশন ক্লাউড: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডাটা সেন্টারগুলিতে একাধিক ক্লাউড নোড তৈরি করা হবে। এগুলো ব্যবহারকারীকে সন্তোষজনক ভাবে হোস্টিং বা অ্যাপের উন্নয়ন ঘটাতে সাহায্য করবে।

* সেল্ফ-সার্ভিস পোর্টাল: ব্যবহারকারী খুব সহজভাবে ক্লাইড সম্পদের বিস্তার এবং পরিচালনা করতে পারে।

* নিরাপদ ক্লাউড: বহুস্তরবিশিষ্ট নিরাপদ এই ক্লাউড পরিকাঠামোকে পরিচালনা করে থাকে সুদক্ষ সাইবার নিরাপত্তা দল।
* সুরক্ষিত ব্যবহার: ব্যবহারকারী যেকোনো জায়গায় যে কোনও সময় তার ডিভাইসে নিরাপদে ক্লাউড অ্যাক্সেস করতে পারবেন।

ক্লাউডের সেবাসমূহ
বিশেষ করে মাইক্রোসফটের ক্লাউড পরিষেবা ব্যবহারকারীদের পূর্বে কনফিগার করা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন এবং ডাটাবেস সার্ভার থেকে বাণিজিক/ওপেন সোর্স সিস্টেম সফটওয়্যার বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম যা প্রকৃতিগতভাবে জেনেরিক, সফটওয়্যার সার্ভিস মডেলের অধীনে একাধিক লোকেশন থেকে ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে মাইক্রোসফট। যে পরিষেবাগুলি দেওয়া হয় - 

* ওয়েব সার্ভার
* অ্যাপ্লিকেশন সার্ভার
* ডাটাবেস সার্ভার
* ডেভেলপমেন্ট সার্ভার
* বেসিক সার্ভার
* পরিষেবা হিসেবে স্টোরেজ
* পরিষেবা হিসেবে সফটওয়্যার

বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তথ্য সংরক্ষণের জন্য পেশাদার ক্লাউড সেবা গ্রহণ করে থাকে। মাইক্রোসফট, গুগল কিংবা অ্যামাজানের কাছ থেকে যথাক্রমে অ্যাজুর, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম কিংবা ওয়েব সার্ভিসেস  সেবা নেয় বিশ্বের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লাউড সেবার প্রয়োজনীয়তা ধীরে ধীরে অনুভব করছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্লাউড সেবার মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

দেশে উন্নত ও নিরাপদ ক্লাউড সেবা জনপ্রিয় করতে মাইক্রোসফট ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কয়েক স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিৎ করার মাধ্যমে মাইক্রোসফট তাদের ‘অ্যাজুর’ ক্লাউড সেবাদানে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ। উল্লেখ্য, বেসিস সফটএক্সপোতে আমন্ত্রিত অতিথীদের দেয়া তথ্য মতে, বর্তমানে বিশ্বের ৩৮টি অঞ্চলে মাইক্রোসফটের ডাটা সেন্টার রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে ৩২টি পুরোপুরিভাবে কার্যকর। 

মাইক্রোসফটের ক্লাউড সেবা ‘অ্যাজুর’ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনাকারী একটি সেবা। ‘অ্যাজুর’-এর ডাটা নিরীক্ষা ও নির্ভুল পরিচালনা, গ্রাহক-নির্ভর মনোভাব, অ্যাকাউন্ট একসেস ও পরিচালনা, অবকাঠামোগত পর্যালোচনা, অ্যাপ্লিকেশন, নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ, অপারেটিং সিস্টেম, ফিজিক্যাল হোস্ট, ফিজিক্যাল নেটওয়ার্ক, নিরাপত্ত, গোপনীয়তা ও নিয়ন্ত্রণ, কমপ্লায়েন্স এবং স্বচ্ছতায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে মাইক্রোসফট।

ক্লাউড অর্থ মেঘ। একে সাধারণভাবে কম্পিউটারের পরিবর্তে ইন্টারনেটে চালিত সফটওয়্যার ও সার্ভিস বলা যেতে পারে। অ্যাপলের আইক্লাউড, ড্রপবক্স, নেটফ্লিক্স, আমাজন ক্লাউড ড্রাইভ, ফ্লিকার, গুগল ড্রাইভ, মাইক্রোসফট অফিস ৩৬৫, ইয়াহুমেইল, এসবই ক্লাউড সেবা। ক্লাউড ব্যবহারের সুবিধাটা অনেক। কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রয়োজনীয় তথ্যের নিরাপত্তা প্রদান ও সংরক্ষণের জন্য অনেকেই ব্যাক আপ রাখার পরিকল্পনা করেন। এক্ষেত্রে ক্লাউডে নিরাপদে তথ্য সংরক্ষণ করতে পারেন।