কোন ট্যুর এজেন্সি নয়, নিজেই ঘুরে আসুন থাইল্যান্ড

 


থাইল্যান্ড তো ভ্রমণেরই জায়গা। প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক যান এখানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘুরে দেখার পাশাপাশি এখানে রয়েছে এডভেঞ্চারের রকমারি আয়োজন। কোথাও সাগরতলে স্কুবা ডাইভিং তো আবার কোথাও প্যারাস্যুটে চেপে আকাশভ্রমণ। সব আয়োজনই আছে এখানে। বলা হয়, টাকা থাকলে থাইল্যান্ডে সবই সম্ভব।

 

সম্প্রতি ভ্রমণপ্রিয় বন্ধু আনোয়ার পারভেজ এলেন ঘুরে এসেছেন থাইল্যান্ড থেকে। চার বন্ধু মিলে গিয়েছিলেন তারা। ৬ দিনের ট্যুরে আনন্দ করেছেন প্রাণ খুলে। তারই ভ্রমণের গল্প তুলে ধরছি আপনাদের জন্য। আশা করি আপনাদের ট্যুর পরিকল্পনায় কাজে দেবে এটি।

১ম দিনঃ
সকাল ৯.২০ টায় ঢাকা থেকে রিজেন্ট এয়ারে সুবর্নভূমি এয়ারপোর্টে পৌছাই স্থানীয় সময় ২ টার দিকে। এয়ারপোর্টের সব কাজ শেষ করে আমরা আমাদের নিজেদের কিছু প্রয়োজনে শুকুম্ভিট এরিয়ায় যাই এবং সেখান থেকে কিছু প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে বিকেল ৫টার মধ্যে ডংমুং এয়ারপোর্টে চলে যাই। আমাদের ব্যাংকক টু ফুকেট এবং ক্রাবি টু ব্যাংককের টিকেট আমরা আগেই কেটে রেখেছিলাম।



ফুকেট এয়ারপোর্ট পৌছাতে ১ ঘন্টা ১০ মিনিট লাগে। এয়ারপোর্ট থেকে আমরা একটা ট্যাক্সি ভাড়া করি ৭৫০ বাথ দিয়ে, ডেস্টিনেশন পাতং বিচ। ড্রাইভারদের সাথে দামাদামি করতে হবে। ওরা ১০০০-১২০০ বাথ চায়। পাতং বিচেই আপনি অনেক হোটেল পাবেন যদিও আমরা 'বুকিং ডট কম' থেকে বুকিং দিয়ে গিয়েছিলাম। হোটেল ভাড়া ২০০০ বাথ। দুইটা ডাবল বেড রুম। রাতে আপনি পাতং বিচ এরিয়া ঘুরে দেখতে পারেন। এখান থেকে আপনি ফুকেট যেয়েও ফিফি আইল্যান্ডের প্যাকেজ কিনতে পারেন। আমরা অনলাইনে 'ফুকেটফেরী ডট কম' থেকে ফুকেট-ফিফি-ক্রাবি টিকিট কাটি। হোটেল থেকে ফেরীঘাট যাওয়া পর্যন্ত মোট ২০ ডলার লাগবে। ২ ঘন্টা ২০ মিনিট লাগবে ফি ফি আইল্যান্ড পৌছাতে।

২য় দিনঃ
ফিফি আইল্যান্ড সংলগ্ন ৯টা বিচ বা দ্বীপ ঘোরার জন্য আপনাকে বোট ভাড়া করতে হবে। আমরা ২ ঘণ্টার বোটট্রিপ এর জন্য দরদাম করে ১৬০০ বাথ ঠিক করি। আপনি যদি বিচগুলাতে নামতে চান তাহলে আপনাকে ৪০০ বাথ/জন প্রতি গুনতে হবে। বোটট্রিপ শেষে দুপুরের খাবার শেষে ৩.০০ টার দিকে ক্রাবির ফেরীতে সোওয়ার হয়ে যান। ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট লাগবে ক্রাবি পৌছাতে। রাতের বেলা ক্রাবির আওনাং বিচ এরিয়াতে ঘুরে পরের দিনে আইল্যান্ড ট্যুরের জন্য বুকিং দিয়ে দেন।


৩য় দিনঃ
এখান থেকে আপনি জেমস বন্ড আইল্যান্ড ঘুরে আসতে পারেন। প্লেস আর ঘোরার জায়গা ভেদে আপনার জনপ্রতি ৭০০ থেকে ১৫০০ বাথ নিবে। ক্রাবি ট্যুর শেষে আমরা ওদিন সন্ধ্যার ফ্লাইটে ব্যংকক ব্যাক করি। রাতে ব্যাংকক শহর ঘুরতে পারেন।

৪র্থ দিনঃ
এদিন আপনার লক্ষ্য থাকবে শপিং এর সাথে ব্যংককে কিছু প্লেস ঘোরা। যেমন, মাদাম তুসো জাদুঘর, সিয়াম ওশান ওয়ার্ল্ড, সিয়াম প্যরাগন মার্কেট, এমবিকে। সস্তায় শপিং করতে চাইকে চলে যান প্রাতুনাম ইন্দ্রা স্কয়ার।


৫ম দিনঃ
এদিন সকালটাও আপনি চাইলে টুকটাক শপিং করে দুপুরের মধ্যে চলে যান বাংকক বিটিয়াই স্টেশন। উদ্দেশ্য পাতায়া। ১৩০ বাথ বাস ভাড়া নিবে জনপ্রতি। পাতায়া পৌছাতে ২ ঘন্টা ২০ মিনিট লাগবে। পাতায়া যেয়ে হোটেল বুকিং দিয়ে সিটি ট্যুরে বেরিয়ে যান। নাইট লাইফ উপভোগ করতে পারেন।
 


৬ষ্ঠ দিনঃ
পরের দিন সকালে নাশতা করে শপিংও করতে পারেন আবার ঘুরাঘুরিও করতে পারেন। যেহেতু ২টা বেজে ২০ মিনিট স্থানীয় সময় সুবর্নভুমি এয়ারপোর্ট থেকে ফ্লাইট, সেহেতু আপনাকে ১২টা ৩০ এর মধ্য এয়ারপোর্ট পৌছাতে হবে। পাতায়া থেকে এয়ারপোর্ট আপনার মোটামুটি ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট লাগবে সর্বোচ্চ। এভাবেই আপনি ছয়দিনে মোটামুটি এই ট্যুর করতে পারবেন।



এবার খরচের হিসেবে আসিঃ
প্লেন ফেয়ার ঢাকা-বাংকক-ঢাকা ১৪,৫০০ টাকা (রিজেন্ট এয়ার অফার প্রাইস)।
ব্যাংকক-ফুকেট (এয়ার এশিয়া): ৩৪ ডলার = ২,৭৮৮ টাকা
ক্রাবি-বাংকক (ব্যাংকক এয়ার): ৪৬ ডলার = ৩,৭৭২ টাকা
ফুকেট-ফিফি-ক্রাবি ফেরীঃ ২৩ ডলার = ১,৮৮৬ টাকা
হোটেল ভাড়া এবং অন্যান্য ট্যাক্সি ভাড়া সাথে খাবার সব মিলিয়ে আনুমানিক ১৮০০০ টাকা লেগেছে জন প্রতি।

টোটাল খরচঃ জন প্রতি ৪০,৯৪৬ টাকা

বিঃদ্রঃ ঘুরতে যেয়ে যতটুকু সম্ভব সময় কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। বিমান টিকেট চেষ্টা করবেন ২-৩ মাস আগে কাটতে। উল্লেখিত টিকিট প্রাইস সবসময় আপডাউন করে। ডলার থেকে বাথে রুপান্তর করতে হলে ফুকেটে করতে পারেন। এখানে রেট ভালো। ব্যাংককে করলে শুকিম্ভিত।

থাইল্যান্ড তো ভ্রমণেরই জায়গা। প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক যান এখানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘুরে দেখার পাশাপাশি এখানে রয়েছে এডভেঞ্চারের রকমারি আয়োজন। কোথাও সাগরতলে স্কুবা ডাইভিং তো আবার কোথাও প্যারাস্যুটে চেপে আকাশভ্রমণ। সব আয়োজনই আছে এখানে। বলা হয়, টাকা থাকলে থাইল্যান্ডে সবই সম্ভব।