পিরিয়ডের ব্যথা দূর করুন দারুচিনি দিয়ে

পিরিয়ডের ব্যথা দূর করুন দারুচিনি দিয়ে  


পিরিয়ডের সময় সাধারণ কাজ করতেও সমস্যায় পড়তে দেখা যায় তাদের যাদের এই সময়ে ব্যথা বেশি হয় ও রক্তপাত বেশি হয়। এই ব্যথা মোকাবেলার জন্য অনেকেই পেইন কিলার সেবন করে থাকে। কিন্তু কিছু ঘরোয়া উপাদান আছে যা আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। দারুচিনি তেমনই একটি উপাদান যা মাসিকের ব্যথা কমাতে পারে এবং খুব বেশি ব্লিডিং হওয়া কমাতে পারে। ২০১৫ সালে ইরানীয়ান রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল জার্নালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যেখানে বিস্তৃতভাবে লেখা হয় কীভাবে দারুচিনি ডিসমেনোরিয়া (ব্যথাযুক্ত পিরিয়ড) এর ব্যথা এবং অন্যান্য লক্ষণ যেমন- বমি বমি ভাব, ক্লান্তি এবং অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া থেকে মুক্তি দিতে পারে। 


ডিসমেনোরিরা নারীদের উপর কী প্রভাব ফেলে

১৮ থেকে ৩০ বছরের তরুণীদের হয়ে থাকে ডিসমেনোরিয়া। এই প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে যে, আমেরিকায় এ কারণে ৬০০ মিলিয়ন ওয়ার্কিং আওয়ার এবং ২ বিলিয়ন ডলার এর অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এরকম কোন সামাজিক-অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্ত নেই। অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি যে এই সময়ে অনেক নারীই শয্যাশায়ী থাকে, কারণ তারা পেটের ব্যথাকে অতিক্রম করতে পারেনা এবং এ কারণে তারা স্কুল বা অফিস থেকে ছুটি নেয়। এই ব্যথাকে পরাস্থ করতে সাহায্য করতে পারে দারুচিনি যা আমাদের প্রত্যেকের বাসাতেই পাওয়া যায়।

দারুচিনি কীভাবে সাহায্য করে

এই গবেষণায় অংশ গ্রহণের জন্য ৭৬ জন নারীকে নেয়া হয় এবং তাদের দুটি দলে বিভক্ত করা হয় ৩৮ জন করে। তাদের এক দলকে দিনে ৩ বেলা স্টার্চযুক্ত প্লাসিবো ক্যাপসুল গ্রহণ করতে দেয়া হয়। অন্য দলটিকে ৪২০ মিলিগ্রামের দারুচিনির ক্যাপসুল গ্রহণ করতে দেয়া হয় একই সময়ে। ব্যথা পরিমাপের জন্য একটি ভিজুয়াল অ্যানালগ স্কেল (VAS) ব্যবহার করা হয় যা এক ধরনের সাইকোমেট্রিক রেসপন্স স্কেল। এটি ব্যবহার করা হয়েছিলো বমি বমিভাব এবং ব্যথার তীব্রতা পরিমাপের জন্য। ৭২ ঘন্টার পরীক্ষার পর দেখা যায় যে, দারুচিনি গ্রহণ করেছিলো যে দলটি ব্যথার স্কেলে তাদের ব্যথার তীব্রতা কম হতে দেখা যায় এবং বমি বমিভাব ও বমি কম হতে দেখা যায়।

পিরিয়ডের সময় জরায়ুর দেয়াল থেকে প্রোস্টাগ্লান্ডিন (এটি এমন এক ধরনের লিপিড যা হরমোনের মত প্রভাব ফেলে) নিঃসৃত হওয়ার কারণেই ব্যথা হয়। এটি জরায়ুর পেশীকে সংকুচিত করে এবং তল পেটে শূলবেদনা বা প্রসবের মত ব্যথার সৃষ্টি করে।

দারুচিনিতে অ্যান্টিইনফ্লামেটরি গুণ থাকে। দারুচিনির প্রধান উপাদান হচ্ছে সিনামেলডিহাইড, যার সংকোচনরোধী প্রভাব আছে। দারুচিনির আরেকটি উপাদান হচ্ছে ইউজেনল, যা প্রোস্টাগ্লান্ডিনের প্রভাব এবং ইনফ্লামেশন ও কমায়। এ কারণেই দারুচিনি পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন দারুচিনি

·         পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর জন্য দারুচিনির চা পান করতে পারেন।

·         ১ গ্লাস উষ্ণ পানিতে আধা চামচ দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে পান করতে পারেন। এর সাথে লেবুর রস ও মধু ও মেশাতে পারেন।

·         তরকারী ও ডালে যোগ করতে পারেন দারুচিনি।

পিরিয়ডের সময় সাধারণ কাজ করতেও সমস্যায় পড়তে দেখা যায় তাদের যাদের এই সময়ে ব্যথা বেশি হয় ও রক্তপাত বেশি হয়। এই ব্যথা মোকাবেলার জন্য অনেকেই পেইন কিলার সেবন করে থাকে। কিন্তু কিছু ঘরোয়া উপাদান আছে যা আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। দারুচিনি তেমনই একটি উপাদান যা মাসিকের ব্যথা কমাতে পারে এবং খুব বেশি ব্লিডিং হওয়া কমাতে পারে। ২০১৫ সালে ইরানীয়ান রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল জার্নালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যেখানে বিস্তৃতভাবে লেখা হয় কীভাবে দারুচিনি ডিসমেনোরিয়া (ব্যথাযুক্ত পিরিয়ড) এর ব্যথা এবং অন্যান্য লক্ষণ যেমন- বমি বমি ভাব, ক্লান্তি এবং অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া থেকে মুক্তি দিতে পারে।