‘মিথ্যা ভিডিও বানানোর আগে একবার ভেবে নিও’: সোহানা সাবা

 ‘মিথ্যা ভিডিও বানানোর আগে একবার ভেবে নিও’: সোহানা সাবা

 সম্প্রতি বাবার উপর অভিযোগ আনা একটি মেয়ের ভিডিও ঘুরছে গোটা সামাজিক মাধ্যম জুড়ে। প্রসঙ্গত চলছে আলোচনা-সমালোচনা। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকেই। বাদ যাননি তারকারাও। বাদ যাবেনই বা কেন! বাবা ও মা, যারা পরম মমতায় বড় করে তোলেন তাদের সন্তানকে। সেই সন্তানই যদি বাব মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে, সেটা অবশ্যই কষ্টদায়ক। অভিযোগ সত্য নাকি মিথ্যা- সেটা নির্ণয় করার দায়িত্ব আদালতের। আমাদের নয়। আমরা শুধু জানাতে পারি বাবা মায়ের প্রতি আমাদের অনুভূতির কথা। সেই অনুভূতির কথাগুলোই নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহানা সাবা।


তিনি লিখেছেন, ‘আমার পাপা-মামনি একেবারে বাবা-মা টাইপ না। পাপা-মামনি কখনো আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু দিয়ে বলে না ভালোবাসি। মামনিকে তো রীতিমতো রিকোয়েস্ট করেও কোনোদিন আমার বার্থডেতে আমাকে উইশ করাতে পারিনি। কিন্তু এই মামনি তার গান ও অভিনয়ের ক্যারিয়ার ছেড়েছে আমাদের দুই ভাই-বোনকে বড় করতে গিয়ে। মামনি তার অতৃপ্ত স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে আমাকে ছায়ানটে নাচে ও ভাইকে তবলায় আমার পাঁচ বছর বয়সেই ভর্তি করিয়ে দেয়। আজ আমার এই অবস্থান তাদের হাজারো পরিশ্রম আর সেক্রিফাইসের ফসল। মামনি খুব বিত্তবান পরিবারে বড় হয়েছে ঢাকায়। সে কখনোই রান্না ভালো কিছুই পারত না। কিন্তু রান্না ভালো হয়নি বা আরো কিছু হতে পারত এগুলো যে কেউ বলে আমার বিয়ের আগে আমার তা ধারণাই ছিল না। পাপা উল্টা বাসায় ফিরে বাসা গোছানো, হাড়ি-বাসন ধোয়া বা অন্যান্য কাজ করে নিত চট করে।

সে মামনির যতই হেল্পিং হ্যান্ড থাকুক। বিয়ের আগে ভাবতাম এমনটাই নিয়ম। ছোটবেলায় আমাদের ঠিকঠাকভাবে পাপা টেক-কেয়ার করত। ছোটবেলায় আমি হুটহাট অসুস্থ হয়ে গেলে পাপা সব ছেড়ে দিয়ে আমার সেবায় ব্যস্ত হয়ে যেত। আমি এত স্বাধীন হয়ে বড় হয়েও নিজের পছন্দে তাদের অপছন্দের মানুষকে বিয়ে করার পরও তারা আমার পাশেই ছিল। বিয়ের পর আমি যখন হাজারো কষ্টের মধ্যে ছিলাম তারা একটা কথা না বলেও আমার পাশেই ছিল যে আমার ডিসিশন আমার। আমার ছেলে হবার পর আমি আজ পর্যন্ত এক মিনিটের জন্য বুঝিনি আমি মা হয়েছি,আমাকে আমার ক্যারিয়ার সেক্রিফাইস করতে হবে বা কাজ। আমার ছেলের পুরো দায়িত্ব তারা দুজন নিয়ে নিয়েছে আমার ছেলে হবার পরই। ডিভোর্সের ডিসিশন থেকে আজ পর্যন্ত যে মানুষটি ছায়ার মতো আমাকে মানসিকভাবে, ফিনান্সিয়ালি সাপোর্ট করে গিয়েছে সে হলো পাপা। পাপা মেট্রিক পর্যন্ত গ্রামে ছিল। তারপর ঢাকায় এসেছে। কিন্তু কী করে এত আধুনিক সে কে জানে? বাইরে অনেকের সাথেই মেশা হয়। তাদের বাবা-মার সাথে মিলিয়ে দেখি আমার পাপা-মামনি কত কুল। এজন্যে আমিও বলার জন্যে নয়-সত্যিকার অর্থেই এত কুল। আমার পাপা-মামনি ভালোবাসি বলতে পারে না। কিন্তু তাদের সব কার্যকলাপে শুধু ‘ভালোবাসি-ভালোবাসি’ শব্দগুলো ভেসে বেড়ায় যেন। অনুগ্রহ করে বাবা-মাকে নিয়ে মিথ্যা ভিডিও বানানোর আগে একবার ভেবে নিও। তারা কলিজাটা কেটে দিয়ে দেয় পারলে সন্তানদের জন্যে। আমার সন্তান না হলে হয়তো এতটা কোনোদিন টের পেতাম না।
 


সোহানা সাবা বর্তমানে বাংলাদেশের বেশ জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি তার চরিত্র নির্বাচনে সচেতন ছিলেন। তাই বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে একজন নির্ভরযোগ্য অভিনেত্রী হিসাবে পরিচিত হয়েছেন। বাংলাদেশের সিনে জগতের চৌহদ্দি পেরিয়ে তার পদচারণা ঘটেছে ভারতেও। অয়ন চক্রবর্তীর পরিচালনায় ‘ষড়ঋপু’ নামক রোমান্টিক ও থ্রিলার সিনেমায় ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী ও রজতাভ দত্ত’র সঙ্গে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি বাবার উপর অভিযোগ আনা একটি মেয়ের ভিডিও ঘুরছে গোটা সামাজিক মাধ্যম জুড়ে। প্রসঙ্গত চলছে আলোচনা-সমালোচনা। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকেই। বাদ যাননি তারকারাও। বাদ যাবেনই বা কেন! বাবা ও মা, যারা পরম মমতায় বড় করে তোলেন তাদের সন্তানকে। সেই সন্তানই যদি বাব মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে, সেটা অবশ্যই কষ্টদায়ক। অভিযোগ সত্য নাকি মিথ্যা- সেটা নির্ণয় করার দায়িত্ব আদালতের। আমাদের নয়। আমরা শুধু জানাতে পারি বাবা মায়ের প্রতি আমাদের অনুভূতির কথা। সেই অনুভূতির কথাগুলোই নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহানা সাবা।