বৃক্ষমানবের জিনের ত্রুটি নির্ণয়ে সাফল্য পেয়েছেন তিন বাংলাদেশি

 


বৃক্ষমানব শব্দটি প্রথম আলোচনায় আসে খুলনায় আবুল বাজানদারের সন্ধান পাওয়ার পর। পাইকগাছা উপজেলার ওই তরুণ হাতে-পায়ে গাছের মত শিকড় নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকেরা জানায় বিরল জিনঘটিত ত্রুটি ‘এপিডার্মোডিপ্লেসিয়া ভেরুসিফর্মিস’ এ আক্রান্ত তিনি। সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার না হওয়ায় তার চিকিৎসা নিয়ে বেশ বেকায়দায় ছিলেন চিকিৎসকেরা। তবে এবার জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে ওই ত্রুটি সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তিন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী।


 


একই ধরনের ত্রুটিতে আক্রান্ত অপর এক কিশোরী নেত্রকোণার সাহানা খাতুনের জিনের উপর গবেষনা চালিয়ে এই সাফল্য পেয়েছেন ওই তিন গবেষক। এই তিন গবেষক হলেন ডা. কেএম ফোরকান উদ্দিন ও ডা. মোঃ রোবেদ আমিন ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান বৈজ্ঞানিক ডক্টর মোহাম্মদ উদ্দিন ড্যাফিল। আগামী অক্টোবরে আমেরিকার ফ্লোরিডায় ‘আমেরিকান সোসাইটি অব হিউম্যান জেনেটিক্স’ আয়োজিত ৬৭ তম সায়েন্টিফিক কনফারেন্সে গবেষণা উপস্থাপনের আমন্ত্রণ পেয়েছেন তারা।

কানাডার ‘হসপিটাল ফর সিক চিল্ড্রেন’ (সিককিডস) এই গবেষণায় ওই বিজ্ঞানীদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।


ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের ফ্যাকাল্টি অধ্যাপক ডা. কেএম ফোরকান উদ্দিন জানিয়েছেন, আমার সাহানার জিনের ত্রুটি নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছি। পরবর্তীতে এই রোগের থেরাপি আবিষ্কারে কাজ করবেন তারা। এছাড়া অটিজমের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়েও কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

তার দুই সহযোগীর একজন ডা. রোবেদ আমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আর ড. মোহাম্মদ উদ্দিন ড্যাফিল রাজধানীর জেনম সিকোয়েন্স ল্যাব ‘নিউরোজেন’ এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, আবুল বাজানদার ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হলে এখন পর্যন্ত চিকিত্সকরা তার হাত ও পায়ের ১৬টি স্থানে অপারেশনের মাধ্যমে প্রায় ৫ কেজি বৃক্ষ সদৃশ টিস্যু অপসারণ করেছেন। পরে একই ধরনের লক্ষণ নিয়ে সাহানা খাতুন ভর্তি হলে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেন তিন গবেষক। যার জেনোম সিকোয়েন্সিংয়ে এই সফলতা পেলেন বিজ্ঞানীরা।

বৃক্ষমানব শব্দটি প্রথম আলোচনায় আসে খুলনায় আবুল বাজানদারের সন্ধান পাওয়ার পর। পাইকগাছা উপজেলার ওই তরুণ হাতে-পায়ে গাছের মত শিকড় নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকেরা জানায় বিরল জিনঘটিত ত্রুটি ‘এপিডার্মোডিপ্লেসিয়া ভেরুসিফর্মিস’ এ আক্রান্ত তিনি। সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার না হওয়ায় তার চিকিৎসা নিয়ে বেশ বেকায়দায় ছিলেন চিকিৎসকেরা। তবে এবার জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে ওই ত্রুটি সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তিন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী।