আধা শার্ট, আধা কামিজ


চলতি ধারার ফ্যাশনটাই এমন। পোশাকে নতুন কোনো কিছুর চল শুরু হতে বিশেষ কোনো উপলক্ষের প্রয়োজন হয় না। মেয়েদের তো প্রতিদিনই কোনো না কোনো কাজে বাইরে বের হতে হয়। সে জন্য রাখতে হয় নতুন নতুন পোশাকের সংগ্রহ। আরামের বিষয় তো আছেই, পাশাপাশি চলাফেরার সুবিধা হয় এমন পোশাকের দিকেই তাই তাদের ঝোঁক বেশি। ডিজাইনাররাও এসব ভাবছেন, আনছেন নিত্যনতুন কাটছাঁটের পোশাক। ঢিলেঢালা ‘শার্ট ড্রেস’, তাই এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কলার। পোশাক: দেশাল
কাটছাঁটে কামিজ আর শার্টের মিশেল—শার্ট ড্রেসের বিশেষত্ব এখানেই। বলা চলে, পাশ্চাত্যের সঙ্গে দেশি ঘরানার সংমিশ্রণ। এই আধা শার্ট আধা কামিজ তরুণীদের কাছে হয়ে উঠেছে স্বাচ্ছন্দ্যের নাম। কথা হচ্ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লামিয়া রহমানের সঙ্গে। জানালেন, একটু ঢিলেঢালা হওয়ায় এখন এটা পরে খুব আরাম লাগে। গত সপ্তাহে বন্ধুদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের উল্টো দিকে নুরজাহান মার্কেটে পছন্দসই শার্ট ড্রেস দেখছিলেন তিনি। এই বাজারের প্রায় সব দোকানেই রয়েছে শার্ট ড্রেসের সংগ্রহ। দোকানিরা জানালেন, লিনেন, সাটিন, জর্জেট এমনকি দেশি সুতি কাপড়েও তৈরি হচ্ছে এই পোশাক।

শার্ট ড্রেসে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন কাট ও নকশা। পোশাক: সিকোসো
ফ্যাশন হাউস লা রিভের জ্যেষ্ঠ ডিজাইনার বিপ্লব বিপ্রদাস জানালেন, শার্ট ড্রেসের দৈর্ঘ্যটা নজর কাড়ে। সামনের দিকের নকশায় বেশি বৈচিত্র্য দেখা যায়। সাধারণ শার্টের সঙ্গে শার্ট ড্রেসের পার্থক্যটা এখানেই। কখনো দৈর্ঘ্য নামছে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত, কখনো তা আবার ছুঁয়েছে হাঁটু।

পোশাক: মেয়র
ঘের, বৃত্তাকার, সামনে ও পেছনে অসমান দৈর্ঘ্যও থাকছে। সামনে কুঁচির ব্যবহারটাও বেশ মজার। এলোমেলো অথবা কুঁচকানো কুঁচি, লম্বা পোশাকগুলোতে আনছে স্মার্ট লুক। পোশাকের সঙ্গেই জুড়ে দেওয়া হচ্ছে একই রঙের কাপড়ের বেল্ট। লিনেন, জর্জেট আর শার্টের কাপড়ে থ্রি কোয়ার্টার হাতাই বেশি চলছে। এর সুবিধা হলো ইচ্ছেমতো হাতা ভাঁজ করে রাখা যায়। সুতি কাপড়ে হাতার ব্যবহারে থাকছে নতুনত্ব। দেখা গেল, ম্যাগি হাতাটা স্বাভাবিক হলেও হাতের নিচে ঘটি হাতায় থাকছে কুঁচির ব্যবহার। হাতা কাটা হলে বর্ডারে দেওয়া হচ্ছে রঙিন কাপড়। ফোল্ডিং বা স্ট্যান্ডিং কলারে এই দুই ধরনই থাকছে।

 
থ্রি-কোয়ার্টার হাতাই বেশি চলছে। পোশাক: সিকোসো
শার্ট ড্রেস পোশাকটাই নাকি এমন যে এটা পরলে আলাদা করে নিজেকে পরিপাটি করে তোলার প্রয়োজন হয় না—এমনই মনে করেন মডেল ও উপস্থাপক মারিয়া নূর। যখন-তখন বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাফেরা বা আড্ডায় গায়ে জড়িয়ে নেন শার্ট ড্রেস। জিনসের সঙ্গে গলায় একটা পেন্ডেট পরলেই চলে আসে স্মার্ট লুক—জানালেন মারিয়া।

সব রকমের শার্ট ড্রেস যে সবাইকে ভালো মানাবে তা নয়। এ জন্য নিজের শারীরিক গড়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাটছাঁটের ড্রেস নির্বাচনের পরামর্শ দিলেন সাদাকালোর ডিজাইনার তাহসীনা শাহীন। যাদের গড়ন একটু ভারী, তাদের কনুইয়ের নিচ থেকে পোশাকের দৈর্ঘ্য পর্যন্ত আলাদা কলি বসানো শার্ট ড্রেস মানাবে। এদিকে শুধু পোশাকটা পরলেই হবে না, এর সঙ্গে বটমটাও বেশ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেইলরের জে্যষ্ঠ নকশাবিদ সাদিয়া আফরোজ জানালেন পোশাকের দৈর্ঘ্য যদি হাঁটু পর্যন্ত হয়, তাহলে তা একরঙা লেগিংসের সঙ্গে পরতে হবে। কোমর পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সঙ্গে যাবে ডেনিম। এর মাঝামাঝি যে দৈর্ঘ্য, তার সঙ্গে পালাজ্জোর মতো একটু বেশি ঘের দেওয়া সালোয়ারও ভালো দেখাবে।

দরদাম কেমন
নুরজাহান মার্কেটে শার্ট ড্রেসের দাম হাতের নাগালেই। দরদাম করে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যেই পছন্দের পোশাক কেনা যাবে। লা রিভে শার্ট ড্রেসের রয়েছে আলাদা সংগ্রহ। দাম ৯৯০ থেকে ১৩৯০ টাকা। বিবি প্রোডাকশন্সে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। সেইলরে ২৫০০ থেকে ২৯০০ টাকা। সিকোসো ও মেয়রে দাম শুরু যথাক্রমে ১৭০০ থেকে ২৭০০ টাকা। আর দেশাল ও বিবিআনায় ৮০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যেই আপনার পছন্দের শার্ট ড্রেস কিনতে পাবেন।