খাবারের চাহিদা অনলাইনে


শহুরে জীবনে পুরো দিনটাই কোনো না কোনো কাজের মধ্য দিয়ে পার হয়ে যায়। এর ফাঁকে আবার বাজারে গিয়ে শাকসবজি, মাছ, মাংস কেনা থেকে শুরু করে ঘরের পুরো বাজার সদাই! কিংবা খাবার তৈরি করা। ব্যস্ত জীবনে বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করা বা খাবার তৈরির সুযোগ অনেক সময়ই হয় না। তাতে কি! আপনি চাইলেই আপনার বাজার বা খাবার বাড়িতে চলে আসবে। বাসায় বাজার বা খাবার সরবরাহ করে দেয় এমন অনলাইন শপের ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপে বেছে বেছে ক্লিক করুন। বেশির ভাগ ই-কমার্স সাইটে ব্যাংকের কার্ড, বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করা যায়। তবে সব কটিতে সুযোগ রয়েছে পণ্য বা খাবার বাড়িতে আসার পর বিল পরিশোধ করার।
ফুড পিয়নের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাদী হাসান বলেন, এ ধরনের উদ্যোগে মানুষ সহজেই তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী খাবার পেয়ে যাচ্ছেন। এতে জীবনযাত্রা সহজ হচ্ছে। অনলাইনে চাহিদা জানালে বাসায় খাবার বা পণ্য সরবরাহ করে এমন কয়েকটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো—
ফুড প্যান্ডা

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের নির্দিষ্টসংখ্যক রেস্টুরেন্টের যেকোনো খাবারের চাহিদা জানালে তা পৌঁছে যাবে এক ঘণ্টার মধ্যে। আপনাকে অবশ্যই ওই সব এলাকার বাসিন্দা হতে হবে। সর্বনিম্ন ৩০০ টাকার খাবারের চাহিদা জানাতে হবে। ডেলিভারি ফি দিতে হবে ৬০ টাকা। বিস্তারিত: www.foodpanda.com.bd
হারিকেন
খাবারের চাহিদা ওয়েবে নয়, জানাতে হবে হারিকেনের অ্যাপের মাধ্যমে। এই প্রতিষ্ঠান মূলত অ্যাপনির্ভর। অ্যাপেই জানা যাবে কোন খাবার কোথায় মিলবে এবং কাছের রেস্তোরাঁ তথ্যসহ নানা সুবিধা। স্মার্টফোনের জন্য গুগল প্লে-স্টোর ও অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাবে হারিকেনের অ্যাপ। বিস্তারিত: www.harriken.com
চাল-ডাল
বাজার-সদাই বলতে যা বোঝায়, চাল-ডাল-তেল থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, শাকসবজি—সবকিছুরই চাহিদা জানানো যাবে এই অনলাইন সুপারশপের মাধ্যমে। বাদ পড়বে না রান্নার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও। ২৯৯ টাকার অধিক পণ্যের চাহিদা জানালে ১০ টাকা ডেলিভারি ফি দিতে হয়। আর ৩০০ টাকার কম হলে ২৯ টাকা ফি দিতে হবে। এ সুবিধা ও শর্ত ঢাকার বাসিন্দাদের জন্যই। রাজধানীর বাইরেও তারা কুরিয়ারে পণ্য পাঠিয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে শুকনো জাতীয় খাদ্যপণ্য পাঠানো হয়ে থাকে। ডেলিভারি ফিও নির্ধারিত হয় কোন জায়গায় এবং কতখানি খাদ্যপণ্য পাঠানো হচ্ছে, তার ওপর। বিস্তারিত: www.chaldal.com
হাঙরি নাকি
হাঙরি নাকি ডটকমের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বাসিন্দারা আশপাশের রেস্টুরেন্টের খাবারের চাহিদা জানাতে পারবেন। শহরের নির্দিষ্ট রেস্তোরাঁর আপনার পছন্দমতো খাবার পৌঁছে দেবে তারা। কমপক্ষে ৩০০ টাকার খাবার ফরমাশ করতে হবে। আপনার চাহিদা জানানোর এক ঘণ্টার মধ্যেই খাবার পৌঁছে দেবে। ডেলিভারি খরচ হিসেবে বাড়তি দিতে হবে ৭৫ টাকা। বিস্তারিত: www.hungrynaki.com
হেলদি কিচেন
অফিস কিংবা বাসায় আপনার দুপুরের খাবার পৌঁছে দেবে হেলদি কিচেন। মাত্র ৮৫ টাকায় খাবার সরবরাহ করে তারা। শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ছয় দিনই এখানে খাবার পাওয়া যাবে। খাবারের মেন্যু একেক দিন একেক রকম। বাড়তি কোনো ডেলিভারি চার্জ নেই। ফোনে কিংবা নিজেদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে খাবারের ফরমাশ নেয় তারা। প্রতিদিন সকাল ১০টার মধ্যে খাবার ফরমাশ দিলেই হবে। বিস্তারিত: www.facebook.com/healthykitchenbd
মীনা ক্লিক
ঘরের পুরো বাজার-সদাই করা যাবে মীনা ক্লিকের মাধ্যমে। অনলাইনে চাহিদা জানালে পৌঁছে যাবে পণ্য। ৭৯৯ টাকার বেশি কেনাকাটা করলে ডেলিভারি ফি দিতে হবে না। আর এর কম হলে গুনতে হবে ৮০ টাকা। আর কেউ যদি এক ঘণ্টার মধ্যে ‘কুইক ডেলিভারি’ নিতে চান, তাহলে দিত হবে ১২০ টাকা। বিস্তারিত: www.meenaclick.com
ফুড পিয়ন
‘হোম মেইড’ খাবার সরবরাহ করে ফুড পিয়ন। মূলত রাজধানীর বিভিন্ন নারী উদ্যোক্তার তৈরিকৃত খাবার গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করা হয়। এদের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের অবস্থান অনুযায়ী হোম কিচেন খুঁজে বের করতে হবে গ্রাহকের। এরপর নির্দিষ্ট খাবারের তালিকা থেকে চাহিদা জানানো যাবে। মূলত খাবারের চাহিদা জানানোর পরই খাবার তৈরি করা হয়। বিস্তারিত: www.foodpeon.com
ফুড মার্ট
ধরুন, আপনার এখন পিৎজা খেতে ইচ্ছা হলো, কিন্তু জানা নেই আশপাশের কোন রেস্তোরাঁয় কত রকমের পিৎজা পাওয়া যায়। ফুড মার্টের সার্চ অপশনে কোনো একটি এলাকার নাম দেওয়ার পর ক্লিক করলে ওই এলাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁর নাম আসে। পাশে থাকা খাবারের মধ্যে আপনি যে খাবারটি খেতে চাচ্ছেন, তাতে ক্লিক করলে ওই খাবারটি ঢাকার কত রেস্তোরাঁয় আছে, তা দেখাবে। কমপক্ষে ৩০০ টাকার খাবারের চাহিদা জানাতে হবে। ডেলিভারি ফি দিতে হবে ৬০ টাকা। বিস্তারিত: www.foodmart.com