বর্ষায় চুলের যত্ন


বর্ষা এসেছে চিরচেনা রূপেই। প্রকৃতি হয়েছে সবুজ, সঙ্গী হয়েছে কদম, বেলি ও দোলনচাঁপা। এই বর্ষা মৌসুমে নিতে হবে চুলের বিশেষ যত্ন। কারণ কখন যে আকাশ মুখ ভার করে বসে, কে জানে। বর্ষার এই পানি চুলে পড়লে হতে হবে সতর্ক। তবে শুধু বৃষ্টিতে ভিজলেই নয়, বর্ষার দিনগুলো চুলের বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দেয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাসুদা খাতুন বলেন, ‘বৃষ্টির পানি আমরা খালি চোখে দেখি পরিষ্কার কিন্তু তাতে থাকে একধরনের অ্যাসিড। তা ছাড়া স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, মাথায় ঘাম, চুল ঠিকমতো না শুকানো ইত্যাদির কারণে ছত্রাকের বাসা বাঁধতে সুবিধা হয়। এগুলোই মাথার ত্বকে চুলের গোড়ায় ইনফেকশন, খুশকি, চুল পড়াসহ নানা ধরনের ছত্রাকের আক্রমণ-সংক্রান্ত সমস্যা হওয়ার প্রধান কারণ।

এ ধরনের সমস্যা থেকে বাঁচতে আগে থেকেই কিছু প্রস্তুতি ও সমাধান গ্রহণের পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞরা। তিনি বলেন, গোসলের পরই চুলটাকে শুকিয়ে ফেলতে হবে। ফ্যানের বাতাসে শুকানোই সবচেয়ে ভালো হবে। বর্ষার মৌসুমে অ্যান্টিফাঙ্গাল শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরা এ ধরনের সমস্যায় বেশি ভোগেন।
প্রোটিন প্যাক ব্যবহারে উপকার পাবেন
শুধু বাইরে থেকে চুলের যত্ন নিলেই হবে না। তৈলাক্ত ত্বক যাঁদের তাঁরা বেশি তেলের খাবার খাবেন না। সঙ্গে পান করুন প্রচুর পানি। ফল খ্যাদাভাসে যোগ করুন।

বর্ষায় চুলের কিছু সমস্যা ও ঘরোয়া যত্নের কথা বলেছেন বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি।
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য ঋতুতে দিনে যেখানে ৫০ থেকে ৬০টি চুল পরা স্বাভাবিক, বর্ষাকালে তার দ্বিগুণ চুল পড়ে। অ্যালার্জি-জাতীয় সমস্যা যেমন খুশকি, চুলের উজ্জ্বলতা কমে যায় ও উকুন বেড়ে যায় অনেক। এ সময় মাথার ত্বক তৈলাক্ত থাকে, চুল শুকাতে পারে না। তাই চুলের গোড়া থাকে নরম। চুলের সঠিক যত্নের অভাবে আমরা নিজেরাই এ সমস্যাগুলো আরও বেশি বাড়িয়ে ফেলি। তাই ঘরোয়া যত্নের মাধ্যমেই চুলের সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবে ব্যাকটেরিয়া-সংক্রান্ত সমস্যা যদি বেড়ে যায় তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।’

এক দিন পরপরই শ্যাম্পু করা উচিত
চুল বুঝে ঘরোয়া যত্ন

রঙিন চুল
রঙিন চুলে কেমিক্যাল থাকে। তেলের সঙ্গে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিলিয়ে চুলের গোড়ায় মালিশ করুন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করুন এবং ডিপ কন্ডিশন করতে হবে। আবার সপ্তাহে একবার নিউটিলাইজার ক্রিমও ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্ষাকালে রঙিন চুলে হিট দেওয়া যাবে না।
সোজা চুল
চুলে প্রোটিন প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। হেনার সঙ্গে ডিম দিয়ে বা দু-তিনটি ডিমের কুসুম ফেটে, একটু মধু দিয়ে মিশিয়ে গোসলের আগে সারা চুলে দিয়ে চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করলে চুল সোজা থাকে ও ঝরঝরে হবে।
কোঁকড়া ও শুষ্ক চুল

মেথি ভিজিয়ে পানিটা ছেঁকে পাকা কলা, বাদাম তেল মিশিয়ে চুলে দিয়ে আঁচড়ান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করুন। আমলা পানি চায়ের লিকারের সঙ্গে মিশিয়ে দিলে চুলের গোড়াও শক্ত হবে।
তৈলাক্ত চুল
মাইল্ড বা প্রোটিন শ্যাম্পু সব সময় ব্যবহার করতে হবে।
উজ্জ্বলতা বাড়াতে চায়ের লিকার দিয়ে চুল ধুতে পারেন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। ঘনত্ব বাড়াতে টক দই ও মধু মিশিয়ে ৩০ মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে ৫ মিনিট উল্টো দিকে আঁচড়িয়ে শ্যাম্পু করুন। চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ারের ঠান্ডা বাতাস ব্যবহার করুন। বর্ষাকালে প্রতিদিন বা এক দিন পরপর শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।