আগামীকাল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে যারা নেবেন সেরা তারকার সম্মান...


‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় আর গৌরব উজ্জ্বল পুরস্কার হিসেবে সমাদৃত। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বিভিন্ন বিভাগে বছরের সেরা চলচ্চিত্রকে দেয়া হয় এই পুরস্কার। ২০১৫ সালের সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা শিল্পী-কলাকুশলীদের নাম ঘোষণা হয়েছে গেল ১৮ মে। ২৪ জুলাই রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র বিতরণ অনুষ্ঠান।
এদিন বিকাল সাড়ে চারটায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এই অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিবেন ‘সেরা অভিনয়শিল্পীরা’।
পুরস্কার প্রদানের পাশাপাশি এখানে থাকছে চলচ্চিত্র তারকাদের পরিবেশনায় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আর এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন অপু বিশ্বাস, ফেরদৌস, মিশা সওদাগর, জায়েদ খান, রিয়াজ, পপি, আইরিন, সাইমন ও নিপুণ।
এবারের অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করছেন মিশা সওদাগর, পরিচালক কবিরুল ইসলাম রানা, এফডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষ এবং নৃত্য পরিচালক মাসুম বাবুল। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা ও চঞ্চল চৌধুরী।
২০১৫ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে এবার আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন শাবানা ও ফেরদৌসী রহমান। এছাড়া শ্রেষ্ঠ অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছেন শাকিব খান ও মাহফুজ আহমেদ। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো পুরস্কার নেয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে যাচ্ছেন বর্তমানে বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান। ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ চলচ্চিত্রের জন্য শাকিব খান এবং ‘জিরো ডিগ্রি’ সিনেমার জন্য মাহফুজ আহমেদ শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পাচ্ছেন জয়া আহসান।
২০১৫ সালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে মো. রিয়াজুল মওলা রিজু পরিচালিত ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ ও মোরশেদুল ইসলামের ‘অনিল বাগচীর একদিন’। তারা একইসঙ্গে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের জাতীয় পুরস্কারও পাচ্ছেন। শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের ‘একাত্তরের গণহত্যা ও বধ্যভূমি’।
এছাড়া এবার পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা গাজী রাকায়েত (চলচ্চিত্র- অনিল বাগচীর একদিন); পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী তমা মির্জা (চলচ্চিত্র-নদীজন); খল চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ইরেশ যাকের (চলচ্চিত্র- ছুঁয়ে দিল মন); শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী যারা যারিব (চলচ্চিত্র- প্রার্থনা); শিশু শিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার পাচ্ছে প্রমিয়া রহমান (চলচ্চিত্র- প্রার্থনা)।
‘অনিল বাগচীর একদিন’ সিনেমার সংগীত পরিচালক সানী জুবায়ের নির্বাচিত হয়েছেন শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক। শ্রেষ্ঠ গায়কের পুরস্কারটি নেবেন সুবীর নন্দী ও এস আই টুটুল। ‘মহুয়া সুন্দরী’ সিনেমার ‘তোমারে ছাড়িতে বন্ধু’ গানের জন্য সুবীর নন্দী এবং ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ চলচ্চিত্রের ‘উথাল পাতাল জোয়ার’ গানের জন্য টুটুল এ পুরস্কার পাচ্ছেন।
এবারের শ্রেষ্ঠ গায়িকা প্রিয়াংকা গোপ (আমার সুখ সে তো, চলচ্চিত্র-অনিল বাগচীর একদিন); শ্রেষ্ঠ গীতিকার আমিরুল ইসলাম (উথাল পাতাল জোয়ার, চলচ্চিত্র- বাপজানের বায়োস্কোপ); শ্রেষ্ঠ সুরকার এস আই টুটুল (উথাল পাতাল জোয়ার, চলচ্চিত্র-বাপজানের বায়োস্কোপ)।
২০১৫ সালে শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার ও চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার পাচ্ছেন মাসুম রেজা (বাপজানের বায়োস্কোপ)। শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার তাকে ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ এর নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার রিয়াজুল মওলা রিজুর সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হবে। শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতার পুরস্কার যাচ্ছে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের ঝুলিতে (অনিল বাগচীর একদিন)।
অন্যান্য শাখায় পুরস্কার পেয়েছেন: শ্রেষ্ঠ সম্পাদক- মেহেদী রনি (বাপজানের বায়োস্কোপ); শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক-সামুরাই মারুফ (জিরো ডিগ্রী); শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক- মাহফুজুর রহমান খান (পদ্ম পাতার জল); শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক- রতন কুমার পাল (জিরো ডিগ্রী); শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা- মুসকান সুমাইকা (পদ্ম পাতার জল) এবং শ্রেষ্ঠ মেকআপ ম্যান- শফিক (জালালের গল্প)।