বিশ্বের শীর্ষ ধনী নারীর পেছনের গল্প


১৬ বছর বয়সে স্কুলের পড়া বাদ দিয়ে শুরু করেছেন নিজস্ব ব্যবসা। সেই ব্যবসা থেকে তিনি এখন বিলিয়নিয়ার। শুধু তাই নয়, তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী। তার সম্পদের পরিমাণ ৯.২ বিলিয়ন ডলার বা ৯২০ কোটি ডলার। তার নাম ঝোয়াও কোয়ানফেই (৪৮)। তিনি একজন চীনা নাগরিক। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার সূচক ও ফোর্বস সাময়িকীর ধনীর তালিকায় তিনি আছেন।
ঝোয়াও কোয়ানফেই পড়া-লেখা ছেড়ে ১৬ বছর বয়সেই এক কারখানায় কাজ শুরু করেন। তখন দৈনিক এক ডলার মজুরি পেতেন। ২২ বছর বয়সে তিনি মাত্র ৩ হাজার ডলার নিয়ে নিজেই ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি লেনস টেকনোলজি নামক একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তার প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপল ও স্যামসাং ফোনের গ্লাস কভার তৈরি করে।
ব্লুমবার্গ ও বিখ্যাত টাইমস ম্যাগাজিনের মতে, তিনি ৯.২ বিলিয়নের মালিক। তার কোম্পানির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১ বিলিয়ন বা ১১০০ কোটি ডলার। এর আগে বিশ্বে এক নম্বর ধনী নারী ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান থেরানোস-এর ৩৩ বছর বয়সী প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ হোমস। তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪.৫ বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি ডলার। কিন্তু তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনা হলে তিনি হারিয়ে ফেলেন সব। কিন্তু তার স্থান দখল করে ফেলেছেন ঝোয়াও। তিনি চীনে জন্ম নেয়ায় সেখানকার কমিউনিস্ট পার্টির লিঙ্গ সমতার নীতিতে তিনি সুবিধা পেয়েছেন।
ঝোয়াও ঘড়ির লেন্স তৈরি করে এমন একটি কারখানায় কাজ শুরু করেন প্রথমে। রাতের বেলা একাউন্টিং ও অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ের মতো সাবজেক্টের ক্লাসে যোগ দিতে থাকেন শেনজেন ইউনিভার্সিটিতে।
এ বিষয়ে ঝোয়াও কোয়ানফেই বলেছেন, ওই সময়েই আমি মানসিকতা ঠিক করে ফেলি। আমি শিখতে চেষ্টা করি আপনি আমাকে কাজের স্বীকৃতি দেবেন কি না। অন্যদের সঙ্গে আমার পার্থক্য ছিল। কারণ, তারা এসেছে সঙ্গে অর্থকড়ি নিয়ে। কিন্তু আমার কাছে তো কিছু ছিল না। আমি শুধু চেয়েছি একান্ত নিজের চেষ্টায় নিজের ভাগ্য বদল করতে। এরপর ১৯৯৩ সালে ঘড়ির লেন্স তৈরির নিজস্ব কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করি আমি। হাতে তখন মাত্র দু’এক হাজার ডলার। আর আমার বয়স ২২ বছর। চীনে যখন দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল সেই সময়টাতে উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ছিল প্রচুর সুযোগ। এ থেকে আমি ব্যবসার প্রসার করতে সক্ষম হই। এখন ব্যবসা করি। এতে আমার কোনো অনুতাপ নেই।