পথেঘাটে ভোজনবিলাস: মাত্র ১০০ টাকায় মোরগ পোলাও-তেহারিও পাবেন মালেক 'চটপটি' হাউজে!

Bhaojanilasaha-street-only-100-pako-Teheriyo-cock-to-Malek-Chattatati-at-the-house 

হুটহাট করে বিকেল বেলা বাইরে বের হলে বা বন্ধুবান্ধবদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময়টাতে অথবা বৃষ্টির দিনে যে খাবার এর কথা সবার আগে মাথায় এসে ঘুরঘুর করবে সেটা আর কিছুই না, ফুচকা। একদম ঝাল ঝাল টকপানিতে ভরপুর গোলগাল মুচমুচে ফুচকা এক একটা মুখে দিতেই যে অপার্থিব একটা ভালোলাগায় মন ভরে ওঠে, সেটার সাথে অন্য কোন খাবারের স্বাদের তুলনা চলে না ঠিকভাবে। ফুচকা তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য আর বৈচিত্র্যে অনবদ্য। হাল যুগের নানান রকম বাহারী ফাস্টফুড শখ করে বা আগ্রহ করে যতই খাই না কেন, কয়দিন পরপর এক প্লেট মনপ্রান জুড়ানো ফুচকা না হলে যেন তিষ্টানো যায় না।


এই যে এক ফুচকা নিয়ে এতো দরদ দিয়ে এতো কথা বলে ফেললাম, এও কি সম্ভব হতো অন্য কোন খাবারের কথা বলতে গেলে? হয়তো হতো অথবা হতো না। তবে যে কোন সময়েই ফুচকার আবেদন আমার কাছে কিছুমাত্র কমে না। সকলেই কম কি বেশী ফুচকা খেতে পছন্দ করলেও একেক জনের স্বাদ মতো একেক জনের কাছে একেক ফুচকা বিক্রেতার ফুচকা প্রিয় হয়ে থাকে। আপনি ঠিক যে ফুচকা বিক্রেতার কথা মনে করে বলবেন, ‘ফুচকা আমার ভীষণ প্রিয়’ আমিও যদি বলি যে ফুচকা আমার আরও খুব প্রিয়, আমি তখন আমার পছন্দের ফুচকা বিক্রেতার কথা ভেবেই বলব সেটা। আজকে আমার সেই কলেজ জীবন থেকে প্রিয় ফুচকা বিক্রেতা এবং তার দোকান নিয়ে কিছু কথা বলবো।

অন্য সকল ফুচকা টং এর মতো এই ফুচকা কোন টং দোকানে খোলা আকাশের নিচে বসে খেতে হয় না। খুব ছোট একটা ঘরের মতো অল্প একটুখানি জায়গাতে করা এই ফুচকার দোকান। নাম ‘মালেক চটপটি হাউজ’। মহাখালী ওয়ারলেস-এর পশু হাসপাতাল কলোনির দিকে গেলেই পাওয়া যাবে এই দোকান। বিগত প্রায় সাত কি আট বছর ধরে এই দোকানের চটপটি এবং ফুচকা দুটোই আমার প্রিয় ভীষণ। এই এতোগুলো বছরে বহু বহু জায়গায় ফুচকা চটপটি খাওয়া হয়েছে। কিন্তু এই দোকানের ফুচকা চটপটির স্বাদ এবং মান কোনটাই বদলায়নি কিছুমাত্র। কেউ হয়তো বলতেই পারেন, এ আর কি এমন ফুচকা, কি বা এর বিশেষত্ব! অন্য আট দশটা ফুচকা বিক্রেতার ফুচকা থেকে এই মালেক চটপটি হাউজের ফুচকা খুব বেশী যে আলাদা বা অসাধারন সেটা বলব না আমি। তবে আমি এখানের ফুচকা অথবা চটপটি খেয়ে যে তৃপ্তি পাই সেটা অন্য কোন জায়গার ফুচকা বা চটপটি খেয়ে পাইনি। ভীষণ কুড়মুড়ে, বড় বড় ফুচকার ভেতরে পুর দেওয়া থাকে একদম ভরপুর। এর সাথে তাদের মিষ্টি টক মিশিয়ে এক একটা ফুচকা মুখে দিলে মনে হতে থাকে সমস্ত জীবনের দুঃখ কি কষ্টের অবসান এইখানেই যেন! বাড়িয়ে বলছি বলে মনে হচ্ছে ঠিক তো? তবে কিছুই বাড়িয়ে বলছি না।

কোন ফুচকা বিক্রেতার ফুচকাগুলো ভালো হয় না তো কারোর ফুচকার পুরটা মজার হয় না অথবা কারোর বানানো  টক-মিষ্টি পানিটা হয়ে থাকে শুধুই তেঁতুল গোলানো পানি। কিন্তু মালেক মামার দোকানের ফুচকাতে সবকিছুর সমন্বয় এতো দারুণভাবে থাকে যে প্রতিটা জিনিসের প্রশংসা আলাদা ভাবে করতেই হয়। শুধু ফুচকার এতো প্রশংসা করে চটপটির কথা আলাদা ভাবে না বললে সেটা অন্যায় হয়ে যাবে। বেশিরভাগ ফুচকা চটপটি বিক্রেতার চটপটি খেতে হয় পানসে বিস্বাদ। তবে মালেক মামার চটপটি যতবার আমার খাওয়া হয়েছে, প্রতিবারই মনে হয়েছে অসাধারণ।

এমন দারুণ এবং অসাধারণ ফুচকা এবং চটপটি আপনাকে খেতে হবে প্লেট প্রতি ৪০ এবং ৩০ টাকায়। তবে ফুচকা চটপটির পাশাপাশি দই ফুচকা, তেহারী, মোরগ পোলাও তারা বিক্রি করে থাকেন। এবং তাদের তেহারিটা  ফুচকা কিংবা চটপটির মতোই দূর্দান্ত স্বাদের। যেকোন দিন সন্ধ্যার পর থেকেই দোকানে থাকে দারুণ ভীড়। ছুটিছাটার দিনে তো কথাই নেই। বহু জায়গার ফুচকা চটপটিই তো খাওয়া হয়ে থাকে সকলের। চাইলে একদিন খেয়ে আসতে পারেন মালেক চটপটি হাউজে।

হুটহাট করে বিকেল বেলা বাইরে বের হলে বা বন্ধুবান্ধবদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময়টাতে অথবা বৃষ্টির দিনে যে খাবার এর কথা সবার আগে মাথায় এসে ঘুরঘুর করবে সেটা আর কিছুই না, ফুচকা। একদম ঝাল ঝাল টকপানিতে ভরপুর গোলগাল মুচমুচে ফুচকা এক একটা মুখে দিতেই যে অপার্থিব একটা ভালোলাগায় মন ভরে ওঠে, সেটার সাথে অন্য কোন খাবারের স্বাদের তুলনা চলে না ঠিকভাবে। ফুচকা তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য আর বৈচিত্র্যে অনবদ্য। হাল যুগের নানান রকম বাহারী ফাস্টফুড শখ করে বা আগ্রহ করে যতই খাই না কেন, কয়দিন পরপর এক প্লেট মনপ্রান জুড়ানো ফুচকা না হলে যেন তিষ্টানো যায় না।