আপনার সন্তান কী গ্যাজেটের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত?

 

সমাজে বেশ কয়েকদিন ধরে নতুন একটি টার্ম শোনা যাচ্ছে। সেটি হলো 'স্ক্রিনেজার'। এটি বলতে সাধারণত সেই সকল শিশু ও কিশোরদের বোঝানো হয় যারা মোবাইল ও কম্পিউটারের প্রতি আসক্ত তো বটেই সে সঙ্গে তারা দিনের অনেকটা সময় গ্যাজেটের সঙ্গে ব্যয় করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এতোটা সময় তারা অপব্যবহার করে যেটিকে 'ডিভাইস অ্যাডিকশন' বলে আখ্যায়িত করা হয়।


প্রত্যেকটি বাবা-মা বর্তমানে এ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এমনকি একটি ছোট্ট শিশু, যার মাত্র কিছুদিন আগে জন্ম সেও জানে কিভাবে ফোনের স্ক্রীন আনলক করতে হয় এবং গ্যালারীর ছবি বদলাতে হয়। যেকোন বাবা-মা'ই চাইবেন কীভাবে তাদের সন্তানদের গ্যাজেটের প্রতি নেশা কমিয়ে মাঠে খেলতে পাঠানো যায়। তারা আরো চান তাদের সন্তানেরা যেন ধীরে ধীরে সামাজিক হয়ে উঠে।

আজকে এ ফিচারের প্রধান লক্ষ্য হলো অভিভাবকদের জানানো যে কোন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তারা সন্তানেরা গ্যাজেট থেকে দূরে থাকবে এবং সামাজিক সম্পর্ক জোরদার করা দিকে অধিক নজর দিবে।

বাবা-মায়ের সন্তানদের কাছে 'রোল মডেল' হয়ে উঠতে হবে

যেকোন পিতা-মাতার অবশ্য কর্তব্য হলো নিজের সন্তানদের কাছে 'রোল মডেল' হয়ে ওঠা। তাদের সন্তানেরা যেন তাদের অনুসরণ করে সামনের পথে অগ্রসর হতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। সন্তানদের সামনে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার কিংবা যেকোন গ্যাজেট যতটুকু সম্ভব কম ব্যবহার করুন। তাদের সঙ্গে কথা বলুন, গল্প করুন, তাদের দিন কেমন কাটলো স্কুলে সেটি মন দিয়ে শুনুন। এতে করে তারা ধীরে ধীরে সামাজিক হয়ে উঠবে।

উপহার হিসেবে 'গ্যাজেট' দেওয়া বন্ধ করুন

দশ বছরের অনুর্ধ্ব বাচ্চাদের মোবাইল ফোনের কোন দরকার হয় না। তবুও তারা নিশ্চয়ই জেদ করতে পারে মোবাইল ফোন কিংবা অন্য ধরণের গ্যাজেটের জন্য। সম সময় সন্তানের জেদ পাত্তা দেওয়ার কোন দরকার নেই। এতে তাদেরই মঙ্গল হবে।

বাধ্যবাধকতা তৈরি করুন

সন্তানের গ্যাজেটের প্রতি আচ্ছন্নতা কমানোর জন্য তার চারপাশে একটি বাধ্যবাধকতার আবরণ তৈরি করুন। বাচ্চাদের খেলাধুলা ও ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য একটি সময়সীমা গড়ে দিন। খেয়াল রাখবেন, তারা যেন কোনভাবেই খাওয়ার সময় কিংবা হোমওয়ার্ক করার সময় গ্যাজেট ব্যবহার না করে।

চাইল্ড মোড

আজকাল প্রায় সব ধরণের স্মার্টফোনেই 'চাইল্ড মোড' নামে একটি অপশন থাকে। আপনার ফোনের সেটিংস অপশনে গিয়ে এই মোড অ্যাক্টিভ করে নিন এবং বেশ কিছু শিক্ষাবিষয়ক সফটওয়্যার রেখে দিন মোবাইলে। এতে করে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে কোন কোন ক্ষেত্রে কিংবা অ্যাপসে আপনার সন্তান প্রবেশ করতে পারবে।

ছোটখাটো আড্ডা

আপনার সন্তানের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহেই সময় নিয়ে একটু বসুন কিংবা ছোটখাটো আড্ডা দিন। তাদেরকে মোবাইল ফোনের ভালো এবং খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে বোঝান। না, এক্ষেত্রে বকাঝকা করার কোন দরকার নেই। শান্ত হয়েই বোঝান। তাহলে তাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ও ভালো হবে এবং তারা আপনার বাধ্যগত ও হবে।

আশা করি এই টিপসগুলো আপনার দৈনন্দিন জীবনের সন্তান প্রতিপালনে ও তাদেরকে সুস্থ জীবনে আনতে এবশ সাহায্য করবে। কারণ, মনে রাখবেন 'অতিরিক্ত প্রযুক্তি-নির্ভরতা এক ধরণের মানসিক ব্যাধি'।

সমাজে বেশ কয়েকদিন ধরে নতুন একটি টার্ম শোনা যাচ্ছে। সেটি হলো 'স্ক্রিনেজার'। এটি বলতে সাধারণত সেই সকল শিশু ও কিশোরদের বোঝানো হয় যারা মোবাইল ও কম্পিউটারের প্রতি আসক্ত তো বটেই সে সঙ্গে তারা দিনের অনেকটা সময় গ্যাজেটের সঙ্গে ব্যয় করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এতোটা সময় তারা অপব্যবহার করে যেটিকে 'ডিভাইস অ্যাডিকশন' বলে আখ্যায়িত করা হয়।