ফারুকী-শাওন: ‘ডুব’ ছাড়পত্রে দুজনই স্বস্তিতে!

 Farooqi-shawon-Dive-in-the-handbook-both-comfort

অবশেষে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‌‘ডুব’ মুক্তিতে আর কোনও বাধা রইলো না। কিছু কাট-ছাটের শর্ত পূরণ করে প্রায় ছয় মাস পর মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ছাড়পত্রের সম্মতি পেল সেন্সর বোর্ড কর্তৃক।


বিলম্বে হলেও ফারুকী শিবির এই ছাড়পত্রের বিষয়টিকে দেখছে ‘বিপুল বিজয়’ হিসেবে। ফারকী তো ছাড়পত্র পাওয়ার খবরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট ভাষায় বলেই দিয়েছেন, ‘ছবিটি তো সেন্সর পাওয়ারই কথা ছিলো! সেন্সর না পাওয়ার কোনও কারণ ছবিতে নেই। এটি যে এতোদিন সেন্সরে আটকে ছিল সেটাই তো অস্বাভাবিক।’

ছবিটি কাটা-ছেঁড়ার পরেও ফারুকীর এমন ওভার কনফিডেন্ট বক্তব্যের বিপরীতে জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রধান কর্তা আবদুল আজিজ অবশ্য বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ছাড়পত্রের খবরে। তিনি বলেন, ‘‘সেন্সরের জন্য এই দীর্ঘ অপেক্ষার সময়ে আপনাদের সমর্থন আমাদের স্পিরিট ঠিকঠাক রেখেছে। আপনাদের ধন্যবাদ। সেন্সর বোর্ডকে ধন্যবাদ। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে ধন্যবাদ। এই খুশির খবরে, দুই একদিনের মধ্যে আপনাদের জন্য উপহার হিসেবে আসছে ‌‘ডুব’ ছবির একমাত্র গান চিরকুটের ‌‌‘আহা জীবন’-এর লিরিক ভিডিও।’’

কিন্তু এই ছবির প্রধান বিবাদি হুমায়ূনপত্নী মেহের আফরোজ শাওনের প্রতিক্রিয়া কী? যিনি দেশ-বিদেশের মিডিয়ার সংবাদ সূত্র ধরে একাই লড়াই করেছেন ছবিটির গল্প নিয়ে। ‘পরাজয়’ অনুভব করছেন কী? জানতে চাইতেই শাওন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘মোটেই না। বরং নিজেকে জয়ী বলেই মনে হচ্ছে। দেশের প্রচলিত নিয়ম ধরে শালীনতার মধ্যে থেকে যতটুকু সংশয় প্রকাশ করার দরকার- আমি সেটা করেছি। এবং ছবিটি আনকাট ছাড়পত্র পায়নি। এটাই আমার কাছে বড় বিজয়।’

শাওন আরও বলেন, ‘সেন্সর বোর্ডের সম্মানিত সদস্যদের কাছে আমি যে আশংকার কথা লিখিত জানাই, সেটি যে তারা আমলে নিয়েছেন বেশ গুরুত্বের সঙ্গে- তাতেই আমি খুশি। কারণ সেন্সর বোর্ড ছবিটির ৫টি দৃশ্য কাটিয়েছে। এবং যে কাটগুলো দিয়েছে সেটি বাস্তবায়ন হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, উনি (মোস্তফা সরয়ার ফারুকী) আসলে ভুল ছিলেন। আমার আশংকাই সঠিক ছিল। আমি সেন্সর বোর্ডের প্রতিটি সদস্যের প্রতি এরজন্য কৃতজ্ঞ।’

তাহলে তো পরিবর্তিত ‘ডুব’ এর সফলতার জন্য শুভকামনা জানাতেই পারেন! চটজলদি শাওন বলেন, ‘না, সেটা এখনই জানাতে পারছি না। কারণ, ছবিটি আগে দেখতে চাই। আমি বিশ্বাস রাখতে চাই, ছবিটি দেখে আমি স্বস্তি পাবো।’

 


বলিউডের ইরফান খান অভিনীত এটি বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত যৌথ প্রযোজনার এই ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, রোকেয়া প্রাচী, পার্নোমিত্র প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সেন্সর বোর্ডে জমা পড়ে ‘ডুব’। কিন্তু এর মধ্যে দেশ ও বিদেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমে তৈরি হয় ছবিটির গল্প নিয়ে বিতর্ক। প্রকাশিত সংবাদগুলোতে অভিযোগ ওঠে, দেশের কিংবদন্তি সাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের জীবনের একটি বিতর্কিত অংশ নিয়ে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। এক্ষেত্রে হুমায়ূনপত্নী মেহের আফরোজ শাওন কিংবা পরিবারের অন্য কোনও সদস্যের অনুমতি নেয়নি ফারুকী।

এমন অভিযোগ এনে ১৩ ফেব্রুয়ারি সেন্সর বোর্ডে আপত্তিপত্র পাঠান শাওন। মূলত এর পরেই ছবিটির ছাড়পত্র নিয়ে তৈরি হয় শংকা।

উল্টোদিকে সিনেমাটির গল্প যে হুমায়ূন আহমেদের জীবনের একাংশ থেকে নেওয়া সেটির একাধিক তথ্য-প্রমাণ দেশ ও বিদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও সরয়ার ফারুকী বরাবরই অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য ছিল এমন, ‘আমার সিনেমার সব চরিত্র কাল্পনিক। এটা বায়োপিক নহে।’

‘ডুব’ বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া, ভারতের এসকে মুভিজ ও ইরফান খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে নির্মিত হয়েছে। জানা গেছে, নভেম্বরে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে।

অবশেষে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‌‘ডুব’ মুক্তিতে আর কোনও বাধা রইলো না। কিছু কাট-ছাটের শর্ত পূরণ করে প্রায় ছয় মাস পর মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ছাড়পত্রের সম্মতি পেল সেন্সর বোর্ড কর্তৃক।